ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ


ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে কাঁচা তুলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তখন এই কাঁচা তুলা ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত ছিল।

ভারতের মুম্বাই থেকে সোলাপুর ও নাগপুরের মতো বড় সুতি উৎপাদনকারী অঞ্চল ডেকান মালভূমিতে সরাসরি যাতায়াতের প্রধান বাধা ছিল দুর্গম সহ্যাদ্রি পর্বতমালা বা ভোর ঘাট।

এই বাণিজ্যিক পথ সুগম করতে এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনে, কলকাতা, মাদ্রাজ ও দিল্লির সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাহাড় কেটে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে।

আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

১৮৫২ সালে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে’র চিফ রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জেমস জন বার্কলে দীর্ঘ চার বছর জরিপ চালিয়ে ও ৩ হাজার মানচিত্র তৈরি করে ভোর ঘাটের জটিল পথটি চূড়ান্ত করেন।

প্রকল্পটির পরিধি ছিল বিশাল—২৫টি সুড়ঙ্গ, ৮টি খিলানযুক্ত ভায়াডাক্ট এবং হাত দিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট খাড়া পাথর কাটার মতো কঠিন কাজ।

১৮৫৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডে ফিরে যান বার্কলে।

পরবর্তীতে ঠিকাদার উইলিয়াম ফ্যাভিয়েল এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেন, যার অধীনে কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের নানা তথ্য সামনে আসে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি আরব রুটে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ২০ হাজার যাত্রী আটকে

খাড়া পাহাড়ে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন ২৫ থেকে ৪২ হাজার শ্রমিক, যাদের বড় একটি অংশ ছিল নারী ও শিশু।

ম্যালেরিয়া, কলেরা, খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া এবং খনি বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনায় প্রকল্পের আট বছরে আনুমানিক ২৪ হাজার শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়।

১৮৫৯ সালে মাসের পর মাস বকেয়া মজুরি না দেওয়া এবং পরবর্তীতে তা অর্ধেক করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে মিস্টার কারেন নামের এক ব্রিটিশ পরিদর্শক নিহত হন।

আরও পড়ুন: ভারতে যাওয়ার পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

পরবর্তী সময়ে নতুন ঠিকাদার সলোমন ট্রেডওয়েল কলেরায় মারা গেলে তার স্ত্রী অ্যালিস ট্রেডওয়েল প্রকল্পের দায়িত্বভার নেন।

অবশেষে হাজারো অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ১৮৬৩ সালের এপ্রিলে ভোর ঘাট রেলপথের কাজ শেষ হয়।

বোম্বাইয়ের ততকালীন গভর্নর স্যার বার্টল ফ্রেরে এটিকে ভারতের ‘রেল যুগের সূচনা’ হিসেবে ঘোষণা করলেও যে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিকের রক্ত এবং ঘামে এই ইতিহাস লেখা হয়েছিল, তারা রয়ে গেছেন অনালোচিত ও উপেক্ষিত।

আরও পড়ুন: ইসলামী আন্দোলনের প্রশ্ন, আঁতাতের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলা

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামী অধিকারকর্মীদের ‘বার্লিন প্রাইড’ শোভাযাত্রায় গাড়ি চালিয়ে হামলা করার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে প্রধান সন্দেহভাজনকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৬ জুলাই) বার্লিনের উপশহর স্পান্দাও এলাকায়। নিহতের নাম ২১ বছর বয়সী আবদুল বাল্লাউত, যিনি আবদুল বি নামেও পরিচিত।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) প্রাইড শোভাযাত্রায় একটি গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক নারী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরে আবদুলকে শনাক্ত করে আটক করার চেষ্টা করা হলে তাকে আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করা হয়। কিন্তু সে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, এটি “স্বাধীন ও উদার সমাজের ওপর একটি আক্রমণ।” মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “বার্লিন স্বাধীনতার শহর, আর আজ আমাদের সেই স্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আঘাত হানা হয়েছে।”

পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারীর প্রধান ও একমাত্র সন্দেহভাজন আবদুল বাল্লাউত লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অতীতে তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

হামলার পর বার্লিন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, অভিযানে হেলিকপ্টার এবং থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযানের শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন আবদুল পুলিশের অভিযানে নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ৩ শিক্ষাবিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ৩ শিক্ষাবিদ

সরকার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষককে নিয়োগ দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গতকাল এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর ৬(২) ও ৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, ড. মো. শাহ এমরান এবং ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান। ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল বর্তমানে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকার অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। ড. মো. শাহ এমরান বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান। অপরদিকে, ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-এর ডিপার্টমেন্ট অব রুরাল সোসিওলোজির গ্রেড-২ অধ্যাপক। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে তারা তাদের বর্তমান পদ অথবা অবসরের পূর্ববর্তী পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর ৭(৪) ধারা অনুযায়ী পদমর্যাদা এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধাও প্রাপ্য হবেন। তারা বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে আফ্রিকাসহ অন্যান্য মহাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউরোপের পাঁচটি দেশ জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসের যৌথ এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডা, কেনিয়া বা রুয়ান্ডার মতো তৃতীয় কোনো দেশে গড়ে ওঠা সাময়িক শিবিরে স্থান দেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নীতি নির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে যে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মের আলোকে পাঁচ দেশের জোট এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চলেছে।

ইউরোপের ভূখণ্ডের বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উগান্ডা, কেনিয়া, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং উজবেকিস্তানকে রাখা হয়েছে। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, চলতি বছর তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী বছর থেকেই রিটার্ন হাব কার্যকর হতে পারে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থী সন্তোষজনকভাবে আবেদন করতে পারবেন না এবং যাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের সাময়িকভাবে উক্ত রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করা হবে।

আগে, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে ইউরোপেই অবস্থান করতেন। কিন্তু উগান্ডাসহ আফ্রিকান দেশগুলোতে হাব স্থাপন হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সরাসরি ইউরোপ থেকে সেসব দেশে পাঠানো হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রিটার্ন হাব সম্পর্কে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এটি নীতিগত স্তরে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার ইউরোপে খুবই কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের স্বীকৃতির হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তিনি জানান, নতুন রেগুলেশন অনুমোদিত হলে নতুন আশ্রয় আবেদন প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যাদের বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করে। রিটার্ন হাব চালু হলে এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছে।

তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, বিচারিক প্রতিকার এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ ছিল। ওই বছরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ৩৬,৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। সরকার সবসময় অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে এবং বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।’

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী এই উদ্যোগকে মানবাধিকারবিরোধী বলছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ

উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে গাজার মধ্যাঞ্চলে অস্থায়ী আশ্রয়ের বিপরীত পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলা হয়। সেই সময় ১৮ বছর বয়সী সাবা রাবাহ এবং তাঁর পরিবার সমস্তকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

যুদ্ধের মধ্যে এটি ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ দুর্ভোগ। এর আগে যুদ্ধে তিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে তাঁদের পারিবারিক বাড়ি। পুরো পরিবারকে বারবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সাবা রাবাহ ফিলিস্তিনের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ‘তাওজিহি’র বিজ্ঞান বিভাগের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মাগাজি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় এবারই প্রথম এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাজার মধ্যাঞ্চলীয় আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে সমাবর্তনের পোশাক পরে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছি। বিজ্ঞান বিভাগে সারা দেশে প্রথম হয়েছি।’

গত জুনে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজা, ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীর, মিসর এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসবাসকারী আরও কয়েকটি দেশে একযোগে তাওজিহি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েক হাজার শিশু আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বাড়িঘর ও পুরো পাড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর টিকে থাকা অনেক স্কুল ভবনই কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এ বছর প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছিল ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন সাবা রাবাহ।

তিনি এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবা ফায়েদ রাবাহ, মা, ভাইবোন এবং শিক্ষকদের উৎসর্গ করেছেন।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে ভেসে যায় তাঁদের পরিবার।

ঢোলের তালে নেচেছেন তরুণরা। প্রতিবেশীরা করতালি এবং উল্লাসে ফেটে পড়েন।

সাবা স্বজনদের আলিঙ্গন করেন, ছবি তোলেন এবং ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন। দেয়ালে ঝুলছিল তাঁর প্রয়াত বাবার প্রতিকৃতি, যা উৎসবের মাঝেও হারানোর বেদনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

দুই বছরের যুদ্ধের মধ্য দিয়েই তিনি এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছেন। সাবা বলেন, ‘আমার বাবা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।’

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলি বিমান হামলায় তাঁর বাবা নিহত হন। তবে বাবার মৃত্যুর আগেই আল-মাগাজি শিবিরে ইসরাইলি বাহিনী প্রবেশ করলে তাঁদের পরিবার দুই দফা বাস্তুচ্যুত হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের বাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সাবা বলেন, ‘আমরা এতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি যে, সঠিক সংখ্যা এখন আর মনে নেই।’

তিনি জানান, ‘এত বাস্তুচ্যুতি আর ভয় ছিল। আমাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার অর্ধেক বই হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি কখনও আমার লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’

পরীক্ষা চলাকালীন বিপদ একেবারে কাছেই ছিল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার কয়েক দিন আগে আমাদের বাড়ির বিপরীত পাশের বাড়িতে বোমা হামলা হয়। এরপর আমরা আমাদের আশ্রয়ও হারাই।’

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা পড়াশোনাকে আরও কঠিন করে তোলে। কখনও কখনও তাঁকে ব্যক্তিগত কোচিং করতে এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে অন্যান্য এলাকায় যেতে হয়েছে। তিনি জানান, ‘পথে কী ঘটতে পারে, তা না জেনেই যেতে হয়েছে।’

সাবা বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন মেডিকেলে ভর্তি হওয়া। এ স্বপ্ন আমার বাবারও ছিল।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় আশা, আমার কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলবে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য আমি পূর্ণ বৃত্তি পাব।’

তাঁর ৫২ বছর বয়সী মা ফেরিয়াল আহমেদ রাবাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ শোক আর কষ্টের পর তাঁদের পরিবারে আবার আনন্দ ফিরে এসেছে।

তিনি স্মরণ করেন, তাঁর মেয়ে অনেক সময় মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় পড়াশোনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%