ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা


বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে আফ্রিকাসহ অন্যান্য মহাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউরোপের পাঁচটি দেশ জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসের যৌথ এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডা, কেনিয়া বা রুয়ান্ডার মতো তৃতীয় কোনো দেশে গড়ে ওঠা সাময়িক শিবিরে স্থান দেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নীতি নির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে যে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মের আলোকে পাঁচ দেশের জোট এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চলেছে।

আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’

ইউরোপের ভূখণ্ডের বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উগান্ডা, কেনিয়া, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং উজবেকিস্তানকে রাখা হয়েছে। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, চলতি বছর তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী বছর থেকেই রিটার্ন হাব কার্যকর হতে পারে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থী সন্তোষজনকভাবে আবেদন করতে পারবেন না এবং যাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের সাময়িকভাবে উক্ত রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করা হবে।

আগে, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে ইউরোপেই অবস্থান করতেন। কিন্তু উগান্ডাসহ আফ্রিকান দেশগুলোতে হাব স্থাপন হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সরাসরি ইউরোপ থেকে সেসব দেশে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রিটার্ন হাব সম্পর্কে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এটি নীতিগত স্তরে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার ইউরোপে খুবই কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের স্বীকৃতির হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তিনি জানান, নতুন রেগুলেশন অনুমোদিত হলে নতুন আশ্রয় আবেদন প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যাদের বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করে। রিটার্ন হাব চালু হলে এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছে।

তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, বিচারিক প্রতিকার এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ ছিল। ওই বছরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ৩৬,৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। সরকার সবসময় অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে এবং বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।’

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী এই উদ্যোগকে মানবাধিকারবিরোধী বলছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ

উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে গাজার মধ্যাঞ্চলে অস্থায়ী আশ্রয়ের বিপরীত পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলা হয়। সেই সময় ১৮ বছর বয়সী সাবা রাবাহ এবং তাঁর পরিবার সমস্তকিছু ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

যুদ্ধের মধ্যে এটি ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ দুর্ভোগ। এর আগে যুদ্ধে তিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে তাঁদের পারিবারিক বাড়ি। পুরো পরিবারকে বারবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সাবা রাবাহ ফিলিস্তিনের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ‘তাওজিহি’র বিজ্ঞান বিভাগের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মাগাজি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় এবারই প্রথম এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাজার মধ্যাঞ্চলীয় আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে সমাবর্তনের পোশাক পরে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছি। বিজ্ঞান বিভাগে সারা দেশে প্রথম হয়েছি।’

গত জুনে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজা, ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীর, মিসর এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসবাসকারী আরও কয়েকটি দেশে একযোগে তাওজিহি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েক হাজার শিশু আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বাড়িঘর ও পুরো পাড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর টিকে থাকা অনেক স্কুল ভবনই কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এ বছর প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছিল ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন সাবা রাবাহ।

তিনি এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবা ফায়েদ রাবাহ, মা, ভাইবোন এবং শিক্ষকদের উৎসর্গ করেছেন।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে ভেসে যায় তাঁদের পরিবার।

ঢোলের তালে নেচেছেন তরুণরা। প্রতিবেশীরা করতালি এবং উল্লাসে ফেটে পড়েন।

সাবা স্বজনদের আলিঙ্গন করেন, ছবি তোলেন এবং ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন। দেয়ালে ঝুলছিল তাঁর প্রয়াত বাবার প্রতিকৃতি, যা উৎসবের মাঝেও হারানোর বেদনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

দুই বছরের যুদ্ধের মধ্য দিয়েই তিনি এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছেন। সাবা বলেন, ‘আমার বাবা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।’

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলি বিমান হামলায় তাঁর বাবা নিহত হন। তবে বাবার মৃত্যুর আগেই আল-মাগাজি শিবিরে ইসরাইলি বাহিনী প্রবেশ করলে তাঁদের পরিবার দুই দফা বাস্তুচ্যুত হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের বাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সাবা বলেন, ‘আমরা এতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি যে, সঠিক সংখ্যা এখন আর মনে নেই।’

তিনি জানান, ‘এত বাস্তুচ্যুতি আর ভয় ছিল। আমাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার অর্ধেক বই হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি কখনও আমার লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’

পরীক্ষা চলাকালীন বিপদ একেবারে কাছেই ছিল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার কয়েক দিন আগে আমাদের বাড়ির বিপরীত পাশের বাড়িতে বোমা হামলা হয়। এরপর আমরা আমাদের আশ্রয়ও হারাই।’

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা পড়াশোনাকে আরও কঠিন করে তোলে। কখনও কখনও তাঁকে ব্যক্তিগত কোচিং করতে এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে অন্যান্য এলাকায় যেতে হয়েছে। তিনি জানান, ‘পথে কী ঘটতে পারে, তা না জেনেই যেতে হয়েছে।’

সাবা বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন মেডিকেলে ভর্তি হওয়া। এ স্বপ্ন আমার বাবারও ছিল।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় আশা, আমার কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলবে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য আমি পূর্ণ বৃত্তি পাব।’

তাঁর ৫২ বছর বয়সী মা ফেরিয়াল আহমেদ রাবাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ শোক আর কষ্টের পর তাঁদের পরিবারে আবার আনন্দ ফিরে এসেছে।

তিনি স্মরণ করেন, তাঁর মেয়ে অনেক সময় মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় পড়াশোনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক জোনের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক জোনের উদ্বোধন

প্রায় এক দশক ধরে অপেক্ষা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কাটানোর পর, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

প্রায় ৮০০ একর জমির এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে আনোয়ারায় প্রকল্পটির গ্রাউন্ডব্রেকিং ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভা চলছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

এছাড়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সরকারি উদ্যোগে প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তবে ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন এবং অবকাঠামোগত পরিকল্পনার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রায় এক দশক ধরে বিলম্বিত হয়েছিল। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাস্তবায়নে গতি প্রদানের সূচনা হয়।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর সরকারি জমিতে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২২  টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ২ হাজার ৪৬৭ crore টাকা চীনের প্রস্তুতকারকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে আসবে।

২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, জেটি সংযোগ সড়ক, চার লেনের সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে। এখানে বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, মেডিকেল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল এবং অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই শিল্পাঞ্চলের লজিস্টিক সুবিধা অত্যন্ত অনুকূল। তবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাস্টমস ও অন্যান্য সেবা আরও সহজ করতে হবে।

কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার ফলে এবং বন্দরের ও বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সিইআইজেড ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ২৩ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ২৩ সেপ্টেম্বর

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগ করা হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে। এর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

এ দিন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আজ মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।

২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদক-এর প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/১২০(বি)/১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক একটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে ভিন্নভাবে শেয়ারবাজারে কৃত্রিমভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম বাড়িয়ে কারসাজি করেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারান। এই পদ্ধতিতে সর্বমোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত।

এদিকে, মূল অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপন করে 여러 খাতে স্থানান্তর করেছেন। তার নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মো. আবুল খায়ের (হিরু)’র শেয়ারবাজারে কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লি., ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লি. ও সোনালী পেপারস লি.-এর শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে সাকিব মার্কেট ম্যানুপুলেশনে সরাসরি সহায়তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম পরিবর্তনে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


সংসদের সাউন্ড সিস্টেম পরিবর্তনে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী

আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভা জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

সভায় জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেমের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিষয়টিও উল্লেখ করে।

সভায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে সভার অংশগ্রহণকারীরা মতামত ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%