০৭:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও টানেল, যেমন পদ্মা ও যমুনা সেতু, এ সময় যান চলাচল ছিল নির্বিঘ্ন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎসবকালীন সময়ে বড় ধরনের যানজট বা দুর্ঘটনা ছাড়াই যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের নির্দেশনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: চবির হীরকজয়ন্তী ১৮ নভেম্বর, রেজিস্ট্রেশন শুরু ৩০ অক্টোবর থেকে
আজ রোববার সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে পদ্মা সেতুতে এক লাখ ৬০ হাজার ৬১৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা।
গত বছর একই সময়ে সেতুটি দিয়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা।
এখন দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার পদ্মা সেতুতে ২৩ হাজার ৬৪৬টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যানবাহন পারাপার বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সঙ্গে টোল আদায় বেড়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা।
আরও পড়ুন: বরগুনায় নিরাপদ সড়ক দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর
এদিকে, যমুনা সেতুতেও যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় বেড়েছে। ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে এ সেতু দিয়ে এক লাখ ৭৩ হাজার ৪০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
এতে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা।
গত বছরের তুলনায় এবার যমুনা সেতুতে ২৩ হাজার ৯৩৮টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় বেড়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা।
তবে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন পারাপার কিছুটা কমেছে। এবারের দুর্গাপূজার ছয় দিনে টানেলটি দিয়ে ২৭ হাজার ৯১৩টি যানবাহন চলাচল করেছে।
আরও পড়ুন: মণিরামপুরে ইনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের ৪ সদস্যকে দাফন
এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ২৯ হাজার ৮৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
অন্যদিকে, মুক্তারপুর সেতুতে যানবাহন পারাপার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে সেতুটি দিয়ে ৭৮ হাজার ৭৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৫ টাকা। গত বছর একই সময়ে ৫৮ হাজার ৯৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকা। অর্থাৎ, এবার সেতুটিতে ১৯ হাজার ৭৯৮টি বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
উৎসবকালীন সময়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু ভবনে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভির মাধ্যমে সেতু ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
এছাড়া সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হয়। সেতুর ওপর কোনো যানবাহন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসকে অবহিত করা হতো।
পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে যানবাহন সচল করা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিতেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ০১৭০০৭১৬৪৬৫ নম্বরে একটি হটলাইনও চালু করা হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যান চলাচল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যমুনা সেতুর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। এ সময় তিনি দেখতে পান, যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও যমুনা সেতু এলাকায় উল্লেখযোগ্য যানজট সৃষ্টি হয়নি।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি আব্দুল হান্নান প্রত্যাহার
এ ছাড়া পদ্মা ও যমুনা সেতুর পাশাপাশি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, বিআরটি প্রকল্প এবং মুক্তারপুর সেতু ও পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এবারের দুর্গাপূজায় যানবাহনের চাপ সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি, সার্বক্ষণিক নজরদারি, দ্রুত জরুরি সেবা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাইট অফিস, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং টোল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
উৎসবকালীন সময়ে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিসংখ্যান দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও টানেলের পরিচালন সক্ষমতা এবং বাড়তি যানবাহনের চাপ মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতা বাড়লো বা কমলো, তার চেয়ে জরুরি শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সংস্কার ও কর্মসংস্থান’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন