ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বশান্তি ও মানবসেবায় লাল-সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করছেন


বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বশান্তি ও মানবসেবায় লাল-সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করছেন

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : সিয়েরা লিওন, হাইতি, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

জাতিসংঘের পতাকার পাশে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, প্রকৌশল সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছেন।

তাঁদের মানবিক উদ্যোগগুলো স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ওয়াউ এলাকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা চার শতাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসা ও ওষুধ পেতে সেখানে রোগীদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এর আগে, ২০১৭ সালে একই এলাকায় আরেকটি চিকিৎসা কার্যক্রমে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিন শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাকে চিকিৎসা প্রদান করেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা।

এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংঘাতকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক দলে সদস্য পাঠানোর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীও এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়।

এরপর থেকে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সদস্যরা।

সিয়েরা লিওন, হাইতি, লাইবেরিয়া, সোমালিয়া, কম্বোডিয়া, আইভরি কোস্ট, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গোসহ বিভিন্ন দেশে তাঁদের অবদান রয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধর করলেন বিএনপি নেতা তোতা

সিয়েরা লিওনে গৃহযুদ্ধের পর শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জাতিসংঘের ৪৩টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ৫ হাজার ৫৬৮ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।

এছাড়া, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর মোট ১ হাজার ৯৭৭ জন নারী সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

ওয়েবসাইটে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে নিয়োজিত ২৮৮ জন নারী সামরিক সদস্যের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৭৪ জন, নৌবাহিনীর সাতজন এবং বিমানবাহিনীর সাতজন রয়েছেন। তবে, এসব তথ্য সর্বশেষ কবে হালনাগাদ করা হয়েছে, তা ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: শাহে আলম

অন্যদিকে, হাইতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ১৬০ সদস্যের নারী পুলিশ ইউনিট ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুনর্গঠন-সংশ্লিষ্ট কাজে অবদান রাখেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ১ হাজার ৯৭৭ জন নারী সদস্য এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন।

বর্তমানে ২৮৮ জন নারী সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৭৪ জন, নৌবাহিনীর সাতজন এবং বিমানবাহিনীর সাতজন রয়েছেন। তবে তথ্যগুলোর সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ উল্লেখ নেই।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই নারী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী কঙ্গোতে জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে চীনে ছয়টি বিশেষ সুবিধা, রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

২০১৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় নারী ও শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ চিহ্নিত করতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ফিমেল এনগেজমেন্ট টিম চালু করে।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এসেছে ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের বিনিময়ে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বহু বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।

তাঁদের পেশাদারিত্ব, সাহস এবং মানবিক সেবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করেছে।

সংঘাতবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

আরও পড়ুন: সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের হাতে বহন করা লাল-সবুজের পতাকা তাই শুধু জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক নয়; এটি বিশ্বশান্তি, মানবিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ আগরওয়ালাকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ আগরওয়ালাকে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক এবং আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ এই আদেশ প্রদান করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির।

দুদকের সহকারী পরিচালক এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন আদালতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে, যা অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এছাড়া, তার ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি দায়ের করে।

আবেদনে আরও বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বর্তমানে গুলশান থানায় দায়ের করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। দুদকের মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় ৭ জন গ্রেফতার, মামলা দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় ৭ জন গ্রেফতার, মামলা দায়ের

গোপালগঞ্জে যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একদিন পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আহত পুলিশ পরিদর্শক মো. ফুল মিয়া বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

হামলার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে টহলরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ দুইজন আহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারের মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন, কওমি আলেমদের শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


সাভারের মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন, কওমি আলেমদের শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বাস

কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেমরা সাভারের বিরুলিয়ার কালিয়াকৈরে অবস্থিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন, যেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুরে মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিদলে ছিলেন—হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী প্রমুখ।

পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, "মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা আবদুল বারীর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।" তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে গোটা সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা—এটি কোন ধরনের নিয়ম?" এ প্রসঙ্গে তিনি গোটা জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখেন।

মাওলানা মাহফুজুল হক আরও বলেন, "অপরাধ প্রমাণিত হলে তার যথোপযুক্ত শাস্তির জন্য আমরা উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা পালন করব।" তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আইনের শাস্তি কার্যকর না থাকায় দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন।

তিনি বলেন, "কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত।" তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মাদ্রাসাটিতে হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পরিবারসহ সেখানে বসবাস করায় তাঁদের ব্যক্তিগত অর্থকড়ি, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামালও লুট করা হয়েছে।

এক ব্যক্তির অপরাধের দায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, "কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলেও সেই প্রতিষ্ঠানের কী অপরাধ?" তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে নেতারা মাদ্রাসাটির সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

জানা গেছে, তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবদুল বারীর (৫০) বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুটের অভিযোগে অপর একটি মামলার খবরও পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণ শৌচাগার নির্মাণের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


লালমনিরহাটে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণ শৌচাগার নির্মাণের আহ্বান

লালমনিরহাট, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ : শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণের জন্য লালমনিরহাটের বাসিন্দারা আহ্বান জানিয়েছেন। বাসসের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা শহরবাসীর দুর্ভোগ তুলে ধরতে গিয়ে প্রশাসনের কাছে এই আবেদন করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, লালমনিরহাট শহরে গণশৌচাগারের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনের সময় শৌচাগারের অভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত ১৪টি গণশৌচাগারের অধিকাংশই তালাবদ্ধ, পরিত্যক্ত অথবা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান শৌচাগার সংস্কার, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ এবং সরকারি স্থাপনার ভেতরে কিছু শৌচাগার থাকলেও সেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি শৌচাগারও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সচল কিছু শৌচাগার থাকলেও সেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়।

জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ৯টি ওয়ার্ডের লালমনিরহাট পৌরসভার আয়তন ১৭ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার। ২০০৫ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, পৌরসভার জনসংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৫৫ জন। একই জনশুমারি অনুযায়ী, সদর উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ৯১ হাজার ৩৭১ জন বা ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ নগর এলাকায় বসবাস করেন।

সূত্র অনুযায়ী, লালমনিরহাট পৌরসভা ও সদর এলাকার প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৬ জন মানুষ শহরকেন্দ্রিক নাগরিক সেবা গ্রহণ করে। এছাড়া জেলার পাঁচ উপজেলার মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আদালত এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন জেলা শহরে আসেন। জেলার মোট জনসংখ্যা ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৪০৬ জন। ফলে শহরের বিদ্যমান নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) ও পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে নির্মিত ১৪টি গণশৌচাগারের মধ্যে ডিপিএইচইর নয়টি এবং পৌরসভার পাঁচটি।

ডিপিএইচইর নির্মিত নয়টি গণশৌচাগারের মধ্যে চারটি নির্দিষ্ট স্থাপনার ভেতরে, দুইটি তালাবদ্ধ এবং তিনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব শৌচাগারের কোনো পরিচালনাকারী নেই। এগুলো বিডিআর হাট, কালেক্টরেট মাঠ, স্মৃতিসৌধের পাশে, মার্কস মসজিদের ভেতরে, শহীদ শাহজান কলোনি, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে মুক্তমঞ্চের পাশে, চার্চ অব গড গির্জার পাশে এবং নয়ারহাট বাজারে অবস্থিত। অন্যদিকে, পৌরসভা দ্বারা নির্মিত পাঁচটি গণশৌচাগারের মধ্যে দুইটি তালাবদ্ধ, একটি উন্মুক্ত এবং দুইটি পরিত্যক্ত রয়েছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান বাবু বাসসকে বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গণ শৌচাগার না থাকায় নারী-পুরুষদের বিপাকে পড়তে হয়, যা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যহানিকর।"

পাটগ্রাম থেকে জেলা জজ আদালতে সেবা নিতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, "শহরের দৃশ্যমান স্থানে গণ শৌচাগার না থাকায় প্রয়োজনের সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।"

বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমান বেলি বেগম জানান, "বাসস্ট্যান্ডে একটি শৌচাগার থাকলেও সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত একজনের বাসায় গিয়ে শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়েছে। যারা শিশুদের নিয়ে শহরে আসেন, শৌচাগারের অভাবে তাদেরও চরম সমস্যায় পড়তে হয়।"

তিনি আরও বলেন, "বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য দৃশ্যমান, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য গণ শৌচাগার থাকা জরুরি।"

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হক বলেন, "প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গণ শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান শৌচাগারগুলো সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিচালনাকারী নিয়োগ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।"

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সাদেকী বাসসকে বলেন, "বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য গণশৌচাগারের সংকট রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে দৃশ্যমান ও পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন।"

লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল-হাজ্জাজ বাসসকে বলেন, "পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার না থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুরোনো শৌচাগার সংস্কারের পাশাপাশি নতুন শৌচাগার নির্মাণ করা উচিত।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখলে মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত গণ শৌচাগার নির্মাণ জরুরি।"

লালমনিরহাট পৌরসভার কর্মকর্তা ও শহর পরিকল্পনাবিদ এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামান তালুকদার জানান, "এ বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজেট দিলেই কাজ শুরু করা হবে।"

লালমনিরহাট সদরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. বাদশাহ্ আলমগীর বাসসকে বলেন, "তারা শৌচাগার নির্মাণ করে স্থানীয়দের দায়িত্বে দিয়ে দেন। হয়তো এ কারণেই সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। বর্তমানে নতুন শৌচাগার নির্মাণের কোনো প্রকল্প নেই। নতুন করে প্রস্তাব দিতে হবে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

লালমনিরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হরানন্দ রায় বলেন, "পৌর এলাকার গণ শৌচাগার সংকট সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা প্রস্তাব দিতে বলেছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দ্রুত স্থান নির্ধারণ করে কিছুদিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, গণ শৌচাগার সংকট সমাধানে শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ যথেষ্ট নয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, আদালত এবং জনসমাগমস্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান স্থাপনাগুলো সংস্কার করে চালু করতে হবে। প্রতিটি শৌচাগারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, নির্দিষ্ট পরিচালনাকারী এবং তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নারী, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী নকশা, নিরাপদ প্রবেশ পথ এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে গণ শৌচাগারগুলো সচল রাখা গেলে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%