সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৩ পি.এম
আজান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি প্রতিদিন ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য প্রদান করা হয়। যিনি আজান প্রদান করেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়। নামাজের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি আজানেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়া নামাজ পড়া হত। যখন প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণ করেন, তখন মুসলমানদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য একত্রিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সংকেত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং সাহাবাদের পরামর্শ নিতে চান।
সাহাবাগণ নামাজে অংশগ্রহণের জন্য সংকেত ঠিক করতে একটি পরামর্শ সভায় মিলিত হন। সভায় চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এক. ঝান্ডা উড়ানো।
দুই. আগুন প্রজ্বলন।
তিন. শিঙা বাজানো।
চার. ঢোল বাজানো।
পরামর্শ সভার চারটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়। কারণ ঝান্ডা উড়ালে সব মানুষ তা বাড়ি বা দূর থেকে দেখতে পাবে না। দ্বিতীয়ত, আগুন প্রজ্বলন অগ্নি উপাসকদের কাজ। তৃতীয়ত, শিঙা বাজানো খ্রিস্টানদের কাজ এবং চতুর্থত, ঢোল বাজানো ইয়াহুদিদের কাজ। এই কারণে সেদিন সমাধান ছাড়াই পরামর্শ সভা মুলতবি করা হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) বিষয়টি নিয়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিন্তার কথা মাথায় রেখে ফিরে যান। এরপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) স্বপ্নে তাকে আজান শিখিয়ে দেয়া হয়। পরদিন ভোরে তিনি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, "হে আল্লাহর রসুল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে আমাকে আজান শিক্ষা দিলেন।"
একইভাবে ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)ও ২০ দিন আগে স্বপ্নযোগে আজান শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি তা গোপন রেখেছিলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলার পর তিনিও তার স্বপ্নের কথা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানান।
নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তুমি আগে বললে না কেন?" ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ এ নিয়ে আগেই বলে দিয়েছেন। এ জন্য আমি লজ্জিত।" রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "বিলাল, ওঠো। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়, তুমি তা-ই করো।" এরপর বিলাল (রা.) আজান দেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৮)
আজান ও ইকামত
আজানের প্রথম অংশে আল্লাহু আকবার, ‘আল্লাহ মহান’ (চারবার) বলা হয়, অতঃপর আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই’ (দুবার), তারপর আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রসুল’ (দুবার), এরপর হাইয়া আলাস সালাহ, ‘নামাজের জন্য আসো’ (দুবার) ও হাইয়া আলাল ফালাহ, ‘কল্যাণের জন্য আসো’ (দুবার); পরিশেষে আল্লাহু আকবার, ‘আল্লাহ মহান’ (দুবার) ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই’ (একবার)।
ফজরের নামাজের আজানে পঞ্চম বাক্যের (হাইয়া আলাল ফালাহ) পর বলতে হয়, আস সালাতু খায়রুম মিনান নাওম, ‘ঘুম অপেক্ষা নামাজ উত্তম’ (দুবার) এবং ইকামতে এই স্থানে বলতে হয় ‘কদ কমাতিস সালাহ’, ‘জামাত প্রস্তুত’ (দুবার)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডি থ্রি ট্রফির নিলামের মধ্যেই বিগ ব্যাশে দল পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। রিশাদের পর এবার তাকেও দেখা যাবে এই টুর্নামেন্টে। মেলবোর্ন রেনেগেডসের জার্সিতে বিগ ব্যাশ মাতাবেন এই কাটার মাস্টার।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার এই ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন বিগ ব্যাশের পুরো মৌসুমে মেলবোর্নের হয়ে খেলতে দেখা যাবে এই পেসারকে। বিসিবিও তাকে ছাড়পত্র দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই কারণে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তাকে দেখা যাবে না।
এছাড়া বিগ ব্যাশের পুরো মৌসুম খেলবেন রিশাদও। আসন্ন আসরে তিনি আবারও হোবার্ট হ্যারিকেন্সের হয়ে খেলবেন। পুরো আসর খেলার কারণে ডি থ্রির টি-টোয়েন্টি সংস্করণে রিশাদের খেলা হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং বিদেশি প্রভুত্ববাদ এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে মেডিকেল ফিজিক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতের চেহারা পরিবর্তিত হবে। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যখাতকে আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন রূপ দেয়া হবে।" এছাড়াও, তিনি দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতকে লুটপাটের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "গত সাত মাসে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যেই দৃষ্টিগোচর কিছু কাজ করা হয়েছে।"
জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণ এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার ও যক্ষ্মা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, শিগগিরই সারাদেশে আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে মার্কিন নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দারা জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা দ্বারা নেওয়া হয়েছে। সাধারণত যেসব উদ্যানে প্রবেশের জন্য ফি নেওয়া হয়, সেসব স্থানে নির্ধারিত প্রবেশ ফি মওকুফ থাকবে।
২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই ছাড় প্রযোজ্য নয়। এছাড়া ক্যাম্পিং, আগাম প্রবেশ সংরক্ষণ এবং বিশেষ কার্যক্রমের মতো কিছু সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে।
জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টস ডে, মেমোরিয়াল ডে, ফ্ল্যাগ ডে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, জাতীয় উদ্যান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবিধান দিবস, টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন এবং ভেটেরান্স ডে। এসব দিনে সাধারণ প্রবেশ ফি মওকুফ হলেও পার্কভেদে আগাম বুকিং, গাড়ি পার্কিং, ক্যাম্পিং কিংবা বিশেষ ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যানের ওয়েবসাইটে নিয়ম ও প্রবেশের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর ২৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত তার শাসনামলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, তার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা গঠিত হয় এবং ১৫০টি জাতীয় বন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া তিনি পাঁচটি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, ৫১টি ফেডারেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা এবং চারটি জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এই কারণেই তাকে ‘সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট’ নামে অভিহিত করা হয়।
রুজভেল্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওরেগনের ক্রেটার লেক ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ডাকোটার উইন্ড কেভ ন্যাশনাল পার্ক এবং কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্ক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের সীমানাও সম্প্রসারণ করেন। তার সময়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার মুইর উডস এবং ওয়াইওমিংয়ের ডেভিলস টাওয়ারের মতো এলাকাও সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা পায়। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জাতীয় উদ্যান পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার আগেই দেশজুড়ে এমন বহু সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয়েছিল, যেগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরে এই সংস্থার ওপর পড়ে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রুজভেল্ট নিজেই পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় আসা ২৩টি স্থানের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার জন্মদিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তার অবদান স্মরণ করা হয়।
চলতি বছরের পরবর্তী এবং শেষ প্রবেশমূল্য মওকুফের দিন ১১ নভেম্বর, ভেটেরান্স ডে। ওই দিনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে যেতে পারবেন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যানের প্রবেশের শর্ত, সম্ভাব্য ভিড় এবং অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (NPS), যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) পার্লামেন্টারি গ্রুপের নেতা মেরিন লে পেন ঘোষণা করেছেন যে, ফরাসি সেনাদের অন্য দেশের যুদ্ধে লড়াই করার জন্য পাঠানো হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রান্সের তরুণদের এমন কোনো বেপরোয়া বা দায়িত্বজ্ঞানহীন সামরিক অভিযানে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে না, যা ফ্রান্সের নিজস্ব যুদ্ধ নয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ফ্রান্সের ওর্লেয়াঁ শহরে দলের সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করে লে পেন বলেন, ফ্রান্সের প্রতিটি নাগরিকই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লে পেন বলেন, “আমাদের দেশের প্রতিটি সন্তানকে আমাদের প্রয়োজন। আমাদের নয়, এমন বেপরোয়া বা দায়িত্বজ্ঞানহীন সামরিক অভিযানে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে আমরা আমাদের তরুণদের পাঠাব না।” তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ