প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি প্রতিদিন ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য প্রদান করা হয়। যিনি আজান প্রদান করেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়। নামাজের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি আজানেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়া নামাজ পড়া হত। যখন প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণ করেন, তখন মুসলমানদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য একত্রিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সংকেত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং সাহাবাদের পরামর্শ নিতে চান।
সাহাবাগণ নামাজে অংশগ্রহণের জন্য সংকেত ঠিক করতে একটি পরামর্শ সভায় মিলিত হন। সভায় চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এক. ঝান্ডা উড়ানো।
দুই. আগুন প্রজ্বলন।
তিন. শিঙা বাজানো।
চার. ঢোল বাজানো।
পরামর্শ সভার চারটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়। কারণ ঝান্ডা উড়ালে সব মানুষ তা বাড়ি বা দূর থেকে দেখতে পাবে না। দ্বিতীয়ত, আগুন প্রজ্বলন অগ্নি উপাসকদের কাজ। তৃতীয়ত, শিঙা বাজানো খ্রিস্টানদের কাজ এবং চতুর্থত, ঢোল বাজানো ইয়াহুদিদের কাজ। এই কারণে সেদিন সমাধান ছাড়াই পরামর্শ সভা মুলতবি করা হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) বিষয়টি নিয়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিন্তার কথা মাথায় রেখে ফিরে যান। এরপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) স্বপ্নে তাকে আজান শিখিয়ে দেয়া হয়। পরদিন ভোরে তিনি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, "হে আল্লাহর রসুল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে আমাকে আজান শিক্ষা দিলেন।"
একইভাবে ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)ও ২০ দিন আগে স্বপ্নযোগে আজান শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি তা গোপন রেখেছিলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলার পর তিনিও তার স্বপ্নের কথা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানান।
নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তুমি আগে বললে না কেন?" ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ এ নিয়ে আগেই বলে দিয়েছেন। এ জন্য আমি লজ্জিত।" রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "বিলাল, ওঠো। আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়, তুমি তা-ই করো।" এরপর বিলাল (রা.) আজান দেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৮)
আজান ও ইকামত
আজানের প্রথম অংশে আল্লাহু আকবার, ‘আল্লাহ মহান’ (চারবার) বলা হয়, অতঃপর আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই’ (দুবার), তারপর আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রসুল’ (দুবার), এরপর হাইয়া আলাস সালাহ, ‘নামাজের জন্য আসো’ (দুবার) ও হাইয়া আলাল ফালাহ, ‘কল্যাণের জন্য আসো’ (দুবার); পরিশেষে আল্লাহু আকবার, ‘আল্লাহ মহান’ (দুবার) ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই’ (একবার)।
ফজরের নামাজের আজানে পঞ্চম বাক্যের (হাইয়া আলাল ফালাহ) পর বলতে হয়, আস সালাতু খায়রুম মিনান নাওম, ‘ঘুম অপেক্ষা নামাজ উত্তম’ (দুবার) এবং ইকামতে এই স্থানে বলতে হয় ‘কদ কমাতিস সালাহ’, ‘জামাত প্রস্তুত’ (দুবার)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন