ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ


সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের সশস্ত্র কার্যকলাপে আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জীবন ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভরা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো ঘটনার কারণে। সেই অন্ধকার অতীতকে পেছনে ফেলে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য।

রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন: চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ-২০২৬’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ। এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তুসহ এসআরবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন এসআরবি-১২ কর্তৃক করা হয়।

আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’ অন্যদিকে, আইনুল হোসেন, আরেক আত্মসমর্পণকারী, বলেন, ‘ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে ১৫ বছর কেটে গেছে। আমার সাথি ভাইয়েরা অনেক সময় বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।’

আত্মসমর্পণকারী মো. আলম সেখ বলেন, ‘আমরা একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। যখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও পেতাম না, তখন অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।’

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে একসময় মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠনের বিস্তার শুরু হয়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্ব›েদ্ব বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনগুলোর সদস্যরা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চরমপন্থি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

এই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে খেলার মাঠের জন্য সরকার ১২০ শতাংশ জমি ও অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দেবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, অনুষ্ঠিত র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৫ এম


রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, অনুষ্ঠিত র‌্যালি ও আলোচনা সভা

“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে রোববার উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন আয়োজন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং ঋণের চেক বিতরণ।

বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য যুব র‌্যালি বের হয়। র‌্যালির পর পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। অডিটোরিয়ামে যুব মেলার বিভিন্ন স্টলও বসানো হয়েছিল।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাকিল কাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইবনু সাব্বির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মোস্তফা ইবনে আব্বাস এবং আরও অনেকেই।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব সংগঠনের সদস্যরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৬ এম


বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বরগুনার বেতাগীতে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে এই উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ এবং ‘জাতীয় যুব দিবস সফল হোক’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। র‍্যালিতে তরুণ উদ্যোক্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালির পর উপজেলা পরিষদ হলরুমে (দ্বিতীয় তলায়) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আমন্ত্রিত ছিলেন। তবে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান কবির অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন।

বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক এনাম, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. জলিলুর রহমান খান নান্না, উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান খান নান্না, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বেতাগী উপজেলা সদস্যসচিব এস এম নুরুল ইসলাম পান্না, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আহসানুল কবির সোয়েব এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আমিন মোর্শেদ রুহুল আমিন।

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের বিশাল যুবসমাজকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হলে বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। বক্তারা বলেন, যুবকদের চাকরির প্রত্যাশায় বসে না থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, যুবসমাজ দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারলে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

যুবসমাজের সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও আত্মকর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ঋণের চেক এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপানের কারণে কি অজু ভেঙে যায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


ধূমপানের কারণে কি অজু ভেঙে যায়?

দৈনন্দিন জীবনে অজু করার পর অনেকের বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকে। মনের অজান্তেই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়— এই অভ্যাসের ফলে কি পবিত্রতার প্রতীক অজু ভেঙে যায়? নাকি এই অজুতেই দাঁড়ানো যায় রবের সামনে? আসুন, পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ফিকহশাস্ত্রের আলোকে এর স্পষ্ট ও সুন্দর সমাধান জানার চেষ্টা করি।

ধূমপান কি অজু ভেঙে দেয়?

ইসলামি শরিয়তে অজু ভঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কারণ নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণত শরীর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বের হওয়া বা বের হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অজু নষ্ট হয়। ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবের সূত্র ধরে অজু ভঙ্গের সাতটি মূল কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো—

১. মল-মূত্রের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু (ময়লা, পানি, রক্ত, বাতাস বা অন্য কিছু) বের হওয়া।

২. মুখের লালার সঙ্গে সমপরিমাণ বা বেশি রক্ত আসা (কম হলে অজু ভাঙে না)।

৩. চিত, কাত বা হেলান দিয়ে গভীর ঘুম দেওয়া।

৪. পাগল হওয়া।

৫. মাতাল বা নেশাগ্রস্ত হওয়া।

৬. জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা (জানাজার নামাজ ছাড়া)।

যেহেতু বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভেতর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বাইরে নির্গত হয় না, তাই নিছক ধূমপান করার কারণে অজু ভাঙে না। (রদ্দুল মুহতার ১/১৪৪, ফাতায়ায়ে আলমগিরি ১/১২)

অজু না ভাঙলেও ধূমপান কেন নিষিদ্ধ?

অজু অক্ষুণ্ণ থাকলেও ইসলামে ধূমপান মোটেও অনুমোদিত নয়। এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে— আর্থিক অপচয় এবং মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি। নিজের শরীর ও সম্পদকে জেনেশুনে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৯৫)

দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ ও মসজিদে যাওয়ার হুকুম

ধূমপানের কারণে মুখ ও শরীর থেকে যে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, তা আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ইসলামে অন্যকে কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يُؤْذِ جَارَهُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে বা আশপাশের মানুষকে কষ্ট না দেয়।’ (বুখারি)

নামাজ আদায়: বিড়ি-সিগারেটের দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, কারণ ধূমপানে অজু ভাঙে না। তবে দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো চরম আদব খেলাপ ও অনুচিত।

মসজিদে প্রবেশ: কাঁচা পেঁয়াজ বা রসুন খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এতে মানুষ ও ফেরেশতারা কষ্ট পায়। পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বিড়ি-সিগারেটের গন্ধ বহুগুণ তীব্র। তাই দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করাও নিষেধ।

ধূমপায়ী মুমিনদের জন্য সুন্দর পরামর্শ

বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার অভ্যাসটি এক পলকে ছাড়তে না পারলেও কেবল এই অজুহাতে নামাজ বা জামাতে যাওয়া থেকে দূরে থাকা যাবে না। ধূমপান ছাড়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদে যাওয়ার বা নামাজ পড়ার আগে ভালোভাবে মেসওয়াক বা ব্রাশ করে, অথবা কুলি করে মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করে নেওয়া আবশ্যক।

পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ, আর সুগন্ধ ইবাদতের সৌন্দর্য। ধূমপান অজু না ভাঙলেও এটি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে ইবাদতের পরিবেশ ও অন্যের শান্তি নষ্ট করে।

তাহলে আসুন, ক্ষতিকর এই বদভ্যাসটি ধীরে ধীরে জীবন থেকে মুছে ফেলি। পরিচ্ছন্ন শরীর ও পবিত্র মন নিয়ে রবের দরবারে হাজিরা দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উখিয়ায় নলকূপে গ্যাসের আগুন, পেট্রোবাংলার আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


উখিয়ায় নলকূপে গ্যাসের আগুন, পেট্রোবাংলার আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় একটি গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খানের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় একটি গভীর নলকূপের প্রায় ১ হাজার ফুট খনন করার পর হঠাৎ করে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পরপরই পেট্রোবাংলার অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত আগুন অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গ্যাসকে উন্মুক্তভাবে নির্গত হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের তীব্রতা ও প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। তবে নির্ধারিত সময়ে আগুনের প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আগুন নেভানো ও গ্যাস প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে পুরো বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে।

এছাড়া উক্ত এলাকায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে কি না, তা নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও ২ডি সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পেট্রোবাংলা সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, তারা আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%