০১:৩৯ এম
দৈনন্দিন জীবনে অজু করার পর অনেকের বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকে। মনের অজান্তেই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়— এই অভ্যাসের ফলে কি পবিত্রতার প্রতীক অজু ভেঙে যায়? নাকি এই অজুতেই দাঁড়ানো যায় রবের সামনে? আসুন, পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ফিকহশাস্ত্রের আলোকে এর স্পষ্ট ও সুন্দর সমাধান জানার চেষ্টা করি।
ধূমপান কি অজু ভেঙে দেয়?
ইসলামি শরিয়তে অজু ভঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কারণ নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণত শরীর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বের হওয়া বা বের হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অজু নষ্ট হয়। ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবের সূত্র ধরে অজু ভঙ্গের সাতটি মূল কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো—
আরও পড়ুন: শেষ রাতের ৫টি আমল যা বদলে দিতে পারে জীবন
১. মল-মূত্রের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু (ময়লা, পানি, রক্ত, বাতাস বা অন্য কিছু) বের হওয়া।
২. মুখের লালার সঙ্গে সমপরিমাণ বা বেশি রক্ত আসা (কম হলে অজু ভাঙে না)।
৩. চিত, কাত বা হেলান দিয়ে গভীর ঘুম দেওয়া।
৪. পাগল হওয়া।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ইসলামী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী তুর্কিস্তান ঘোষণা
৫. মাতাল বা নেশাগ্রস্ত হওয়া।
৬. জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা (জানাজার নামাজ ছাড়া)।
যেহেতু বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভেতর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বাইরে নির্গত হয় না, তাই নিছক ধূমপান করার কারণে অজু ভাঙে না। (রদ্দুল মুহতার ১/১৪৪, ফাতায়ায়ে আলমগিরি ১/১২)
আরও পড়ুন: রমজানের প্রস্তুতি: ১০০ দিন আগে থেকেই শুরু করতে হবে প্রস্তুতি
অজু না ভাঙলেও ধূমপান কেন নিষিদ্ধ?
অজু অক্ষুণ্ণ থাকলেও ইসলামে ধূমপান মোটেও অনুমোদিত নয়। এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে— আর্থিক অপচয় এবং মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি। নিজের শরীর ও সম্পদকে জেনেশুনে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৯৫)
আরও পড়ুন: মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে : ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশ
দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ ও মসজিদে যাওয়ার হুকুম
ধূমপানের কারণে মুখ ও শরীর থেকে যে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, তা আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ইসলামে অন্যকে কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন—
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يُؤْذِ جَارَهُ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে বা আশপাশের মানুষকে কষ্ট না দেয়।’ (বুখারি)
আরও পড়ুন: মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন
নামাজ আদায়: বিড়ি-সিগারেটের দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, কারণ ধূমপানে অজু ভাঙে না। তবে দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো চরম আদব খেলাপ ও অনুচিত।
মসজিদে প্রবেশ: কাঁচা পেঁয়াজ বা রসুন খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এতে মানুষ ও ফেরেশতারা কষ্ট পায়। পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বিড়ি-সিগারেটের গন্ধ বহুগুণ তীব্র। তাই দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করাও নিষেধ।
ধূমপায়ী মুমিনদের জন্য সুন্দর পরামর্শ
বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার অভ্যাসটি এক পলকে ছাড়তে না পারলেও কেবল এই অজুহাতে নামাজ বা জামাতে যাওয়া থেকে দূরে থাকা যাবে না। ধূমপান ছাড়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদে যাওয়ার বা নামাজ পড়ার আগে ভালোভাবে মেসওয়াক বা ব্রাশ করে, অথবা কুলি করে মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করে নেওয়া আবশ্যক।
আরও পড়ুন: জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৩টি দোয়া পড়বেন
পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ, আর সুগন্ধ ইবাদতের সৌন্দর্য। ধূমপান অজু না ভাঙলেও এটি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে মুখের দুর্গন্ধ দিয়ে ইবাদতের পরিবেশ ও অন্যের শান্তি নষ্ট করে।
তাহলে আসুন, ক্ষতিকর এই বদভ্যাসটি ধীরে ধীরে জীবন থেকে মুছে ফেলি। পরিচ্ছন্ন শরীর ও পবিত্র মন নিয়ে রবের দরবারে হাজিরা দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন