ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ভাই গোলাম রসুল


সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ভাই গোলাম রসুল

খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তার বড় ভাই গোলাম রসুলকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় ১৪১ রাউন্ড পয়েন্ট টু-টু বোরের গুলি, ১৩ রাউন্ড ১২ বোরের শটগানের গুলি ও একটি দুই ধারবিশিষ্ট চাকু উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া গোলাম রসুল নগরীর দৌলতপুর এলাকার মো. গোলাম আকবরের ছেলে এবং তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন: নরসিংদী বেলাবোতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

ডিবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোলাম রসুলের শোবার ঘরের স্টিলের আলমারি থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারের পর গোলাম রসুল পুলিশকে জানান যে, তার অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। তবে তিনি গুলির কোনো কাগজ-পত্র দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন যে, গুলিগুলো তার ভাই টিপুর রেখে যাওয়া।

গোলাম রব্বানী টিপু খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। গত বছরের ৯ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হোটেল সি-গালের সামনের ফুটপাতের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার ভগ্নিপতি ইউনুস আলী শেখ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে পরকীয়ার নাটক সাজানোর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কারাগারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


বরিশালে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বরিশালে মহিলাদের জন্য একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ রাখা হয়েছে।

বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় অবস্থিত ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’ রোববার (১১ অক্টোবর) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছে। বরিশাল বিভাগে এই নামের অধীনে এটি প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নামে দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে।

এ ইনস্টিটিউটটি ১১ জন শিক্ষক, ৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারীসহ মোট ১৭ জনের সমন্বয়ে এবং ৪৭ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। দুই বিভাগে মোট আসন সংখ্যা ১শ’ টি।

বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় পরেশ সাগর মাঠের প্রবেশদ্বারের উত্তর পাশে ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর প্রকল্প ব্যয় ৫৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ পথে একটি ৬ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, উত্তর পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল একাডেমিক ভবন এবং দক্ষিণ পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট আরেকটি একাডেমিক ওয়ার্কশপ ভবন রয়েছে।

এই তিনটি ভবনে লিফটের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ৪ তলা বিশিষ্ট ২শ’ আসনের ছাত্রীনিবাস, ৫ তলা বিশিষ্ট ২০ ইউনিটের শিক্ষক ডরমেটরি, ৩ তলা বিশিষ্ট ৬ ইউনিটের স্টাফ কোয়াটার, ১ তলা বিশিষ্ট অধ্যক্ষের বাসভবন, নিজস্ব বিদ্যুতের সাব স্টেশন এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে।

‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’র অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ এস. এম সামছুন নাহার।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম সামছুন নাহার বলেন, "একাডেমিক ওয়ার্কশপ, বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।" শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি দিয়ে শুরু হলেও আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আরো দুটি কোর্স চালু করা হবে। এতে ১শ’ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস.এম সামছুন নাহার বলেন, "বর্তমান সরকার নারী বান্ধব। নারী শিক্ষা প্রসারে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।" এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম বর্ষের দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিভাগ চালু করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং অন্যদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, "বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ বরিশাল বিভাগে এটাই প্রথম।" এ ইনস্টিটিউটের ৬টি বহুতল ভবন, একটি একতলা ভবন, শহীদ মিনার, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, দুটি অত্যাধুনিক প্রবেশ গেট এবং বাউন্ডারি ওয়াল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি আরও জানান, শহীদ মিনার, একাডেমিক ওয়ার্কশপ ও বিদ্যুতের সাব স্টেশন ভবন নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে।

‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা থেকে আসা আয়শা আক্তার আর্কিটেকচার টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তার প্রথম ক্লাসের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষকমন্ডলীর আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার জীবনের নতুন অধ্যায় সূচিত হল।"

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, "এ ইনস্টিটিউটে প্রবেশে আমার মনে অন্য রকম এক আনন্দ, উচ্ছ্বাস অনুভব হচ্ছে। নতুন ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে উজ্জীবিত করেছে।"

শিক্ষাবিদ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, "মেয়েদের জন্য কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয় বরং এটি তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।" আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির তুলনায় এ শিক্ষার মাধ্যমে সরাসরি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন, "একজন নারী যখন কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন তিনি কেবল অন্যের অধীনে চাকরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।" একই সঙ্গে সমাজে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাথায় শাকের বোঝা, সংগ্রামী মা মমতার সন্তানদের স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মাথায় শাকের বোঝা, সংগ্রামী মা মমতার সন্তানদের স্বপ্ন

‘শাক লাগবে শাক, বারো মিশালি শাক’, সকাল হলেই এমন হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে দিনাজপুরের হিলি পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লা। মমতা বেগম (৩০) মাথায় শাক-সবজির বোঝা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। সারাদিন শাক-সবজি বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান।

মমতা বেগমের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা গ্রামে। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জননী। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলে বর্তমানে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। ছোট মেয়েটি মায়ের সঙ্গে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী নিখোঁজ। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেন না এবং সংসারের খরচও দেন না। ফলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের পড়াশোনার খরচ, সবকিছুর দায়িত্ব এখন মমতার কাঁধে।

নানির দেওয়া সামান্য জায়গায় ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন তিনি। অভাবের সংসারে একটু স্বস্তির আশায় প্রতিদিন ভোরে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন।

হিলি শহর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। গ্রামের মাঠ-ঘাট ও বিভিন্ন স্থান থেকে বারো মিশালি শাক, কলার থোর, মোচাসহ বিভিন্ন শাক-সবজি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর সেগুলো বস্তায় ভরে মাথায় তুলে দীর্ঘ পথ হেঁটে হিলিতে চলে আসেন। সকাল থেকে দুপুর কিংবা বিকেল পর্যন্ত পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সেগুলো বিক্রি করেন।

মাথায় ভারী বোঝা নিয়ে এভাবেই প্রতিদিন তার জীবনসংগ্রাম চলে। দীর্ঘ পথ হাঁটা আর সারাদিনের পরিশ্রমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবুও থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, তার পরিশ্রমের ওপরই নির্ভর করছে সন্তানদের দুবেলা খাবার ও পড়াশোনা।

মমতার মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও সন্তানদের কথা বলার সময় তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তার কাছে এই কষ্ট যেন কষ্ট নয়। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারা এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারাই তার সবচেয়ে বড় আনন্দ।

হিলির ভীমপুর গ্রামের গৃহিণী নাহিদা আক্তার বলেন, "এই আপা অনেক ভালো মানুষ। প্রতিদিন সকাল হলেই তাকে শাক বিক্রি করতে দেখি। মাথায় করে এত দূর থেকে হেঁটে আসেন। তাকে দেখলে খুব কষ্ট হয়। সন্তানের জন্য একজন মা কতটা পরিশ্রম করতে পারেন, তাকে দেখলেই বোঝা যায়। আমি আমার পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।"

মহিলা কলেজপাড়ার বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, "বিচিত্র এই দুনিয়ায় মানুষ জীবিকার তাগিদে নানা পেশা বেছে নেয়। এই নারী আসলেই একজন সংগ্রামী মা। সন্তানদের মানুষ করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমার দেখা এমন সংগ্রামী মায়ের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের উচিত তার মতো অসহায় মায়েদের পাশে দাঁড়ানো।"

সংগ্রামী মা মমতা বেগম বলেন, "অনেকে অনেক কথা বলে, আমি কিছুই মনে করি না। ছেলেমেয়ে জন্ম দিয়েছি, তাদের মানুষ করতে হবে। স্বামী আমাকে ছেড়ে গেছে। কিন্তু আমি তো মা, সন্তানদের গর্ভে ধারণ করেছি। তাই তাদের ফেলে রাখতে পারি না। প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে শাক বিক্রি করি। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও সন্তানদের মুখে হাসি দেখলে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।"

মমতার জীবন যেন এক নীরব সংগ্রামের গল্প। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। মাথায় শাকের বোঝা নিয়ে প্রতিদিনের এই পথচলা শুধু জীবিকার তাগিদ নয়, বরং সন্তানদের জন্য একজন মায়ের নিরন্তর লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইপিএলে নতুন ভূমিকায় যুবরাজ সিং, দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী ও ব্যাটিং কোচ হলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


আইপিএলে নতুন ভূমিকায় যুবরাজ সিং, দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী ও ব্যাটিং কোচ হলেন

আইপিএলে এবার নতুন পরিচয়ে দেখা যাবে ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকে। দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী ও ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘদিন আইপিএলে কাটালেও এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোচিংয়ের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে যুবরাজের এই নতুন দায়িত্বের খবর প্রকাশিত হয়।

দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুবরাজের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালের আইপিএল নিলামে ১৬ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজি। সে সময় আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই পুরোনো দলেই ফিরছেন, তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়—কোচের ভূমিকায়।

দিল্লির কোচিং স্টাফে যোগ দিয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে আবারও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন যুবরাজ। সম্প্রতি দলটির প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন সৌরভ। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই পরিচিত মুখকে এবার একই ডাগআউটে দেখা যাবে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রিকেট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ভারতের একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন যুবরাজ। শুবমান গিল, অভিষেক শর্মা ও প্রভসিমরন সিংয়ের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এবার দিল্লি ক্যাপিটালসের তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়াতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি।

আইপিএলে এখনো শিরোপা জিততে পারেনি দিল্লি ক্যাপিটালস। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ ঘোচাতে যুবরাজের অভিজ্ঞতা ও জয়ের মানসিকতা দলটির কাজে আসবে বলে আশা করছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন যুবরাজ।

আইপিএলে নিজের ক্যারিয়ারে ১৩২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে করেছেন ২ হাজার ৭৫০ রান, পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৬টি উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও রয়েছে তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ভারতের হয়ে ৪০টি টেস্ট, ৩০৪টি ওয়ানডে ও ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এই অলরাউন্ডার।

যুবরাজকে দলে স্বাগত জানিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের চেয়ারম্যান পার্থ জিন্দাল বলেন, ‘যুবরাজকে দিল্লি ক্যাপিটালস পরিবারে পেয়ে আমরা দারুণ আনন্দিত। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচজয়ী সে। বর্তমান সময়ের অনেক প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার অভিজ্ঞতা, জয়ের মানসিকতা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা আমাদের দলের জন্য মূল্যবান হবে।’

নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুবরাজও। দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে নিজের পুরোনো সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আমার পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে এবং মালিকদেরও আমি ভালোভাবে চিনি। সে কারণে সুযোগটি আমার কাছে বিশেষ।’

সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন ভারতের সাবেক এই অলরাউন্ডার। যুবরাজ বলেন, ‘দাদার (সৌরভ গাঙ্গুলী) সঙ্গে এবার কোচ হিসেবে কাজ করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

কোচিংয়ের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কোচিংয়ের প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ আছে এবং এই প্রতিভাবান দলটির সঙ্গে কাজ শুরু করতে তর সইছে না।’

খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের স্বাদ পাওয়া যুবরাজ এবার কোচ হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্রথম আইপিএল শিরোপা জেতানোর অভিযানে কতটা প্রভাব রাখতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এটিএম আজহারুল ইসলাম: 'সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


এটিএম আজহারুল ইসলাম:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এই দেশ আমাদের সবার। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চাই না। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু শব্দও শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।"

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১টায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, "ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। মুসলিমরা মুসলিমদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবে। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্ম হলো ইসলাম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম। এ ছাড়া আরও ছোট ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সংখ্যা কম বলে আমরা তাদের কম চিনি বা তাদের খোঁজখবর কম রাখি। কিন্তু সবাই শান্তিতে বসবাস করে আসছে। তাহলে আজ কেন পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমিতো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে তো এমনটা শোনা যায়নি।"

তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের দেশ স্বাধীন হলো, অথচ আমরা নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করতে পারছি না; পাহারা দিতে হয়। কিন্তু কেন? আসলে আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা সবাই মিলে যার যার ধর্ম পালন করতে পারব।"

জামায়াতের এই নায়েবে আমীর উল্লেখ করেন, "আমরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি। এই ধর্ম অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করে না। যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারাই ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করে ইসলামের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়। ইতিহাসে দেখবেন, ইসলামে কখনো কোনো ধর্মের প্রতি আঘাত করা হয়নি। এ জন্য আমরা চাই, সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।"

এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দেশের আইন মেনে চলতে হবে, দেশের আইনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হোক, এটা কেউ চায় না। এমনটা হলে আমরা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।"

ফেসবুকে নানা ধরনের গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো হয় উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "ফেসবুকের সব খবর বিশ্বাস করবেন না। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। এটি শুধু আমি হিন্দু ভাইদের বলছি না, মুসলিমদেরও বলছি।"

তিনি আরও বলেন, "মুসলিম বা হিন্দু—কেউই গোলযোগ চায় না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে ফেরার জন্য গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা করতে পারে। তাদের ফাঁদে আপনারা পা দেবেন না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য সবাইকে আমি অনুরোধ করব, আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। আমরা রাজনীতির মাঠে লড়াই করতে পারি, নির্বাচনের মাঠে প্রতিযোগিতা করতে পারি; তবে দেশের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. মোনাব্বর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ পূজা মণ্ডপ গুলোর প্রতিনিধিদের হাতে চাল বরাদ্দের সরকারি ডিও লেটার তুলে দেন।

জানা গেছে, চলতি বছর বদরগঞ্জ উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২৫টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব উদ্‌যাপনে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে মোট হাজার কেজি (৭৫ টন) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%