প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এই দেশ আমাদের সবার। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চাই না। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু শব্দও শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।"
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১টায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। মুসলিমরা মুসলিমদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবে। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্ম হলো ইসলাম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম। এ ছাড়া আরও ছোট ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সংখ্যা কম বলে আমরা তাদের কম চিনি বা তাদের খোঁজখবর কম রাখি। কিন্তু সবাই শান্তিতে বসবাস করে আসছে। তাহলে আজ কেন পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমিতো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে তো এমনটা শোনা যায়নি।"
তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের দেশ স্বাধীন হলো, অথচ আমরা নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করতে পারছি না; পাহারা দিতে হয়। কিন্তু কেন? আসলে আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা সবাই মিলে যার যার ধর্ম পালন করতে পারব।"
জামায়াতের এই নায়েবে আমীর উল্লেখ করেন, "আমরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি। এই ধর্ম অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করে না। যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারাই ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করে ইসলামের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়। ইতিহাসে দেখবেন, ইসলামে কখনো কোনো ধর্মের প্রতি আঘাত করা হয়নি। এ জন্য আমরা চাই, সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।"
এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দেশের আইন মেনে চলতে হবে, দেশের আইনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হোক, এটা কেউ চায় না। এমনটা হলে আমরা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।"
ফেসবুকে নানা ধরনের গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো হয় উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "ফেসবুকের সব খবর বিশ্বাস করবেন না। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। এটি শুধু আমি হিন্দু ভাইদের বলছি না, মুসলিমদেরও বলছি।"
তিনি আরও বলেন, "মুসলিম বা হিন্দু—কেউই গোলযোগ চায় না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে ফেরার জন্য গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা করতে পারে। তাদের ফাঁদে আপনারা পা দেবেন না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য সবাইকে আমি অনুরোধ করব, আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। আমরা রাজনীতির মাঠে লড়াই করতে পারি, নির্বাচনের মাঠে প্রতিযোগিতা করতে পারি; তবে দেশের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. মোনাব্বর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ পূজা মণ্ডপ গুলোর প্রতিনিধিদের হাতে চাল বরাদ্দের সরকারি ডিও লেটার তুলে দেন।
জানা গেছে, চলতি বছর বদরগঞ্জ উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২৫টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব উদ্যাপনে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে মোট হাজার কেজি (৭৫ টন) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন