ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাবিতে প্রথমবারের মতো দেখা মিলল মেরুন বেনেবউয়ের


জাবিতে প্রথমবারের মতো দেখা মিলল মেরুন বেনেবউয়ের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো তামারং বেনেবউ পাখির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী অরিত্র সাত্তার পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাসকারী এই তুলনামূলক বিরল পাখিটি দেখতে পান। পাখিবিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকার বাইরে এ প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া বেশ বিরল।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এলাকায় একটি গাছে পাখিটি দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের উপস্থিতি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উন্মোচন করেছে।

‎ মেরুন-কালো রঙের অনন্য পাখি

আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি, ২০ লাখ বই সংশোধন হচ্ছে

তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের ইংরেজি নাম Maroon Oriole এবং বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus traillii। পাখিটির দেহের গাঢ় তামাটে বা মেরুন রং এবং কালো মাথার কারণে এটি সহজেই অন্য বেনেবউ প্রজাতি থেকে আলাদা করা যায়। আকারে এটি ময়নার চেয়ে সামান্য বড়। সাধারণত গাছের উঁচু ডালে ও পাতার আড়ালে অবস্থান করে, তাই পাখিটিকে সহজে চোখে পড়ে না।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের অধিকাংশ পালক চকচকে গাঢ় তামাটে-মেরুন রঙের। মাথা, ঘাড় ও ডানা কালো। ঠোঁটের রং নীলাভ কালো এবং লেজের দিকে তামাটে-বাদামি আভা থাকে। অন্যদিকে, স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের নিচের অংশ ধূসর-সাদা, যার ওপর কালো দাগ দেখা যায়। পাখিটি সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। কখনো কখনো ফিঙে কিংবা মিনিভেটের মতো পাখির দলের সঙ্গেও দেখা যায়। উঁচু গাছের পাতা ও ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও ফুলের মধু সংগ্রহের সময় তুলনামূলকভাবে সহজে চোখে পড়ে। এর ডাক কিছুটা কর্কশ ‘কিহ-আ’ শব্দের পর শিসের মতো ‘পি-লো-লো’ ধ্বনির সমন্বয়ে তৈরি।

‎পাহাড়ি বনই প্রধান আবাসস্থল

তামারং বেনেবউ মূলত হিমালয়ের পাদদেশের আর্দ্র পর্ণমোচী ও চিরসবুজ বন এবং সংলগ্ন সমতল এলাকার পাখি। ভারতীয় উপমহাদেশে হিমাচল প্রদেশ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত হিমালয়সংলগ্ন অঞ্চলে এবং দক্ষিণে মণিপুরসহ আশপাশের এলাকায় এর বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে পাখিটি দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখিবিশেষজ্ঞ ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, তাম্ররঙা বেনেবউ মূলত সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। তবে সেখানেও পাখিটি খুব একটা সচরাচর দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ‘শহর বা শহরতলির বনাঞ্চলে এ প্রজাতির পাখি দেখা যাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’

মনিরুল এইচ খান আরো বলেন, পাহাড়ি এলাকার বাইরে বাংলাদেশে এর আগে মাত্র দুবার পাখিটির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একবার ঢাকার মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এবং অন্যবার দিনাজপুরের উত্তর নবাবগঞ্জে পাখিটির দেখা মিলেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর গাছপালা ছিল। তবে সেসব গাছপালার বড় একটি অংশ এখন আর নেই। তুলনামূলকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখনো পাখির জন্য ভালো আবাসস্থল।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি

‎কী খায়, কোথায় বাসা বাঁধে

তামারং বেনেবউয়ের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ, শুঁয়োপোকা, অন্যান্য ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী, জামজাতীয় ফল, বুনো ডুমুর, বেরি ও ফুলের মধু। গাছের পাতা ও ডালে ডালে খাবারের সন্ধান করে, তাই এর খাদ্য সংগ্রহের বড় অংশই বৃক্ষনির্ভর।

প্রজনন মৌসুমে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এ পাখিকে বাসা তৈরি করতে দেখা যায়। গাছের ডালের দুই প্রান্তের সংযোগস্থলে তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে কাপের মতো বাসা তৈরি করে। এতে সাধারণত দুই থেকে তিনটি গোলাপি-সাদা ডিম পাড়ে, যেগুলোর গায়ে কালো বা লালচে-বাদামি দাগ থাকে। বাংলাদেশে এ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি দেশের বনাঞ্চল ও বৃক্ষনির্ভর জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক বন, বড় গাছ এবং ঘন বৃক্ষরাজি টিকে থাকলে এ ধরনের পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।

‎প্রকৃতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা

আরও পড়ুন: ঢাবিতে গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে আটক ৪ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

ক্যাম্পাসে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী ও তরুণ গবেষক অরিত্র সত্তার বলেন, পাখিটির দেখা পাওয়া প্রমাণ করে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের আগের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল আরো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ জন্য সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের বিরক্তি ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখির আবাসস্থল রক্ষায় গাছপালা সংরক্ষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন রোধ এবং পাখির বিচরণস্থলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা গেলে বিরল ও অনিয়মিতভাবে দেখা দেওয়া পাখির জন্যও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকতে পারে।

এদিকে, পাখিবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি বছর পরিযায়ী পাখিরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আসতে শুরু করেছে। আগের বছরগুলোতে কিছু প্রজাতির পাখির আগমনে বিলম্ব দেখা গেলেও এবার তাদের আগমন সময়মতো হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জবি সাহিত্য সংসদ সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি পেলো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি বিরল পাখি দেখার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষরাজি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপলক্ষ।

‎

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে অটোরিকশা শ্রমিকদের অবরোধ, ওসির হস্তক্ষেপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


কালিয়াকৈরে অটোরিকশা শ্রমিকদের অবরোধ, ওসির হস্তক্ষেপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্বাভাবিক

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উভয় পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়েছে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইভেটকার। অন্য পাশের লেন খালি থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত অটোরিকশা চালক তাদের অটোরিকশা রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারী, শিশু, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে মানবিক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন।

ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। এই এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের খোঁজ খবর নেবে। দয়া করে বাবারা, আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।" তাঁর মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।

এসময় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরকম ওসির প্রয়োজন, এরকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওসি সাহেবের কথার উপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি, অটোরিকশা আটক এবং অযথা টাকা আদায়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে।

একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব, দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে যদি প্রতিদিন আটক করা হয়, তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"

পরে ওসি মোঃ শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পাঁচ গ্রামের মানুষের

ছয় বছর আগে একটি সেতু খালের ওপর ভেঙে পড়েছিল। এরপর থেকে পাঁচ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হচ্ছে, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং বয়স্করা চলাচল করছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু না থাকার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যেতে হলে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বছরের পর বছর এভাবে চলাচল করলেও সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেটিই এখন ২নং কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।

ওড়াতলা গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা রিপন আহম্মেদ বলেন, ‘সেতু খালে পড়ে আছে, পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, মানুষ বাজারে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয়। ছয় বছর ধরে এমন কষ্ট করছি, কিন্তু সেতু আর হলো না।’

এলাকার আরো অনেক বাসিন্দা একই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সেতুর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে একটি বাঁশের সাঁকো। সেটি দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিশুরা ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বয়স্কদের কেউ কেউ অন্যের সহায়তা নিয়ে পার হচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ভাঙা সেতুর অবশিষ্টাংশ। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেতু না থাকায় ভ্যান, ইজিবাইক এবং পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা গফুর সানা বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিছলে পড়ে যায়। তাদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। রাতে কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প নিতে হবে। বছরের পর বছর বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে একটি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা চলতে পারে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরেও সমাধান মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।’

কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ছয় বছর ধরে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু আশ্বাস নয়, সমস্যাটির বাস্তবসম্মত সমাধানে কী করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শাস্তির মুখে লা লিগা সভাপতি তেবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শাস্তির মুখে লা লিগা সভাপতি তেবাস

স্পেনের ফুটবলে বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। লা লিগার রেফারিং নিয়ে ক্রমাগত অসন্তোষ প্রকাশ করছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের টিভি চ্যানেলে রেফারিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিরুদ্ধে। এ প্রেক্ষিতে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস রিয়ালের এই প্রচারণা কৌশলকে জার্মানির নাৎসি সরকারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।

লা লিগার সভাপতির এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠিয়েছে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে (টিএডি)। তেবাসের মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা এবং শালীনতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঘটনার শুরু ১৬ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৬৪ বছর বয়সী তেবাস লেখেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব একদল মুখপাত্র রয়েছে এবং ক্লাবটি নিজেই এর নেতৃত্ব দেয়। তাদের কৌশল সবসময় একই—সুবিধাজনক পদক্ষেপ বাছা, অপমানের পুনরাবৃত্তি, সন্দেহ তৈরি করা ও শত্রুদের নাম প্রকাশ করা। এটি গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচার কৌশলের কথা মনে করিয়ে দেয়।’

তেবাসের মন্তব্যের পর রিয়াল মাদ্রিদ কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়। ক্লাবটি অবিলম্বে লা লিগার সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। সিএসডির মতে, স্প্যানিশ ‘ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী তেবাসের এই আচরণ গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সতর্কবার্তা, অর্থদণ্ড বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার শাস্তি হতে পারে তার।

এদিকে লা লিগার সভাপতি আত্মপক্ষ সমর্থনে সরব হয়েছেন। তিনি পাল্টা বিবৃতিতে জানান, প্রচারকৌশল বোঝাতে তিনি এই উপমা দিয়েছিলেন, রিয়াল সমর্থক বা ক্লাবের মূল্যবোধকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়।

একই সঙ্গে রিয়ালের সম্প্রচার নিয়ে সিএসডির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তেবাস লেখেন, ‘রিয়ালের অফিসিয়াল টিভি যখন রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে এবং লিগ চুরি হওয়ার অভিযোগ তোলে, তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা সিএসডি চুপ থাকে কেন? প্রতিযোগিতাকে জালিয়াতি বলা কি খেলাধুলার শালীনতার ওপর আঘাত নয়? এতে কি ক্লাব, রেফারি এবং লাখ লাখ সমর্থকের ক্ষতি হচ্ছে না? নাকি এসব মূল্যবোধের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার প্রয়োজন পড়ে কেবল তখনই, যখন কেউ এমন আক্রমণের জবাব দেয়?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ধান কাটার তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ধান কাটার তাগিদ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। সম্ভাব্য এই আবহাওয়া ব্যবস্থার কারণে সাগর উত্তাল হওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে আঘাতের সময় সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপে, ২৫ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপে এবং ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া ব্যবস্থাটির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কী মাত্রায় এর প্রভাব পড়বে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এ সময়ে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তৃতি সম্পর্কে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের ওপর নজর রাখা জরুরি।

সাগরে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নৌকা ও ট্রলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে জেলেদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ, সাগরে যাওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতি ও ঢেউ বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার প্রস্তুতি রাখতে হবে।

সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতকে কেন্দ্র করে কৃষি খাতেও সতর্কতা জারি করেছে বিডব্লিউওটি। যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, পাকা ধান দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভিজে থাকলে শিষে অঙ্কুরোদ্গম, দানার গুণগত মান নষ্ট হওয়া এবং গাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ার মতো ক্ষতি হতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়বে।

শীতকালীন সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি বা সবজি রোপণের আগে বৃষ্টির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। যেসব জমিতে ইতোমধ্যে রবি ফসল বা সবজি রয়েছে, সেসব জমিতে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নালা পরিষ্কার রাখা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া বীজ, সার ও কাঁচা ফসল বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষায় নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল কাটার পর দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%