সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৪ পি.এম
বাংলাদেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার পুনর্বিন্যাস এবং অভিবাসন খাতের অনিয়ম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি মন্তব্য করেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আজ একশ্রেণির ধনী মানুষের বিদেশে অর্থ পাচার ও সন্তানদের বিলাসবহুল পড়াশোনার পেছনে ব্যয় হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থপাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিদেশে সাধারণ প্রবাসীরা রিয়াল-দিরহাম সঞ্চয় করে, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশের নেতাদের সম্মান জানান। কিন্তু দেশের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১২ বছরে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন, যাদের গড় বয়স মাত্র ২৫ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, অসহনীয় তাপমাত্রা এবং অমানবিক জীবনযাপনের কারণে মূলত স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মৃত্যুবরণ করছেন। কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকা শ্রমিকের এই অমানবিক শোষণ এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে শ্রমবাজারের আমূল পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি, দেশের বিচার অঙ্গনসহ প্রতিটি স্তরে সিন্ডিকেট ও নৈরাজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন—বেঞ্চ ক্লার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে ঘুষ না দিলে মামলার নিষ্পত্তি হয় না। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত আজ দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
আদালতের কার্যক্রমে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি আজ আউটসোর্সিংয়ের নামে ডেপুটেশনে থাকা সাধারণ মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, হাজার হাজার মানুষের প্রাণদান এবং শত শত তরুণের পঙ্গুত্ববরণ কোনো সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখার জন্য নয়। ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মনে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।
শ্রমবাজারের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ দেয়। দেশের নাগরিকদের আহ্বান করব, আপনারা যেসব দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান, তাদের বিষয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভাইদের কাছে খোঁজখবর নিয়ে এরপর টাকা লেনদেন করবেন। সাংবাদিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান করব, আপনারা এসব চক্রের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে সচেতন করুন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। শ্রমিকদের স্বার্থে সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেনে-বুঝে এবং যথাযথভাবে যাচাই করে প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেক এজেন্সি ইতোমধ্যে ভাইভা নেওয়া শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শ্রমিকদের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর স্থগিত থাকার মতো কিছু জটিলতা সত্ত্বেও ভারত ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও, নয়াদিল্লি দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
যদিও তারেক রহমান ভারতে তার পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রেখেছেন, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তিনি সফরটি স্থগিত করেন।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি নিজ গতিতে চললেও দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, হাইকমিশনার ঢাকায় উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনও ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে।
অন্যদিকে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই চুক্তির নবায়ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি মূল চালিকাশক্তি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)।
এ সভাটি বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২১০ দিন পর সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় বিশেষভাবে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০) নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে বিবিধ বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভাটি সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এই দিবসের গুরুত্ব মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না, আর-সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয় না।’
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনো বিরাজমান। বাংলাদেশে দেড় দশক ধরে নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে এক ভয়ংকর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন, আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল নানা কালাকানুনের মাধ্যমে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার।
রিজভী বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন এ দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে। গণতন্ত্র লিঙ্গ ভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশে ইনসাফ, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত থেকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল সরকার গঠনের কোনো সাময়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বয়ে চলেছে। এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নানাভাবে হরণ করা হয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যে কোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এই বিশেষ দিনে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। এই লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দেশে সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘জাতিকে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলদারি মুক্ত করতে হবে। শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের গণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।’
তিনি বৈষম্যমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় ও যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ