সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৪ পি.এম
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর স্থগিত থাকার মতো কিছু জটিলতা সত্ত্বেও ভারত ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও, নয়াদিল্লি দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
যদিও তারেক রহমান ভারতে তার পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রেখেছেন, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তিনি সফরটি স্থগিত করেন।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি নিজ গতিতে চললেও দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, হাইকমিশনার ঢাকায় উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনও ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে।
অন্যদিকে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই চুক্তির নবায়ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি মূল চালিকাশক্তি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)।
এ সভাটি বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২১০ দিন পর সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় বিশেষভাবে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০) নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে বিবিধ বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভাটি সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এই দিবসের গুরুত্ব মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না, আর-সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয় না।’
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনো বিরাজমান। বাংলাদেশে দেড় দশক ধরে নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে এক ভয়ংকর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন, আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল নানা কালাকানুনের মাধ্যমে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার।
রিজভী বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন এ দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে। গণতন্ত্র লিঙ্গ ভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশে ইনসাফ, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত থেকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল সরকার গঠনের কোনো সাময়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বয়ে চলেছে। এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নানাভাবে হরণ করা হয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যে কোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এই বিশেষ দিনে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। এই লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দেশে সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘জাতিকে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলদারি মুক্ত করতে হবে। শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের গণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।’
তিনি বৈষম্যমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় ও যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুরে প্রেমিকের বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী। তার দাবি, স্কুলজীবন থেকে নাজমুল সরকার ইমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললেও বর্তমানে বিয়ে করতে চাচ্ছেন না।
ঘটনাটি ঘটেছে হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের ঘাসুড়িয়া গ্রামে।
এদিকে, এ খবর পাওয়ার পর থেকেই ইমন পলাতক বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ইমনের বাবা ইসিম সরকার দাবি করেছেন, তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তরুণীর অভিযোগ, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ইমনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই কোচিংয়ে পড়ার সুবাদে তাদের নিয়মিত কথা হতো। পরে সম্পর্ক গভীর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন জায়গায় তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরাও করেছেন। তবে বিয়ের কথা উঠতেই ধীরে ধীরে ইমন তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন।
তরুণী বলেন, "আমি এখানে আসছি বিয়ের দাবিতে। সে আমাকে ভালোবাসি-ভালোবাসি বলে পাগল করে ফেলেছিল। এটা ঠিক আমিও তাকে অনেক ভালোবাসি। সে আমাকে বাড়িতে আসতে বলেছিল, সে আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন বিয়ে করতে চাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "সে আমাদের বাসায় গিয়েছিল বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে। আমার বাবাকে বলেছিল, আমি এক বছর খরচ দেব, আপনার মেয়েকে আপনি রাখেন; বিয়ে দিয়েন না। আমার আব্বু বলেছিল, তোমার বাসায় গিয়ে কথা বলো। যদি সেরকম হয়, বিয়ে ঠিক করে রাখব। কিন্তু সে বাসায় এসে আর কোনো কথা বলেনি। কিছুদিন পর ফোনে আমাকে বলে, তুমি আমাকে ব্লক করে দাও, আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই না। আমি বলেছি, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলবে না কেন, কারণ দেখাও। এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে আমি এখানে আসছি। আমি তাকে চাই, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। কারণ আমি অন্য কোথাও বিয়ে করব না, আমি বিয়ে করলে ওকেই করব। এখন ওদের বাসায় আসার পর পালিয়ে গেছে।"
স্থানীয়দের কাছেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর ইমনের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকে। স্থানীয় যুবক সোলায়মান আলী বলেন, "শুনলাম, একটা মেয়ে বিয়ের দাবিতে ঘাসুড়িয়া গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই কথা শুনে আমিসহ আমার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে দেখতে এসেছি। এসে দেখলাম, এখানে মেয়ে উপস্থিত আছে, কিন্তু ছেলেকে দেখি নাই। সে নাকি পালিয়ে গেছে।"
তিনি বলেন, "যতটুকু শুনলাম, তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আছে। যদি ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিলে ভালো একটা সুরাহা হবে— তাদের বিয়ে হোক; আমি এটাই আশা করছি।"
ইমনের বাবা ইসিম সরকার বলেন, "হঠাৎ করে মেয়ে এসে বাড়িতে ঢুকতেছে আর বলছে, আমি ইমনকে চাই, ইমনকে আমি ভালোবাসি। ছেলে ভালোবাসে কিনা, সে কথা আমি জানি না। মেয়ের বাবা-মাও কোনোদিন আমার বাসায় এসে বলেনি যে, তোমার ছেলে আমার মেয়েকে ভালোবাসে।"
তিনি আরও বলেন, "এখন যদি তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকে, যদি প্রমাণ হয় তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে— অসুবিধা কী? কিন্তু এখন আমার ছেলেকে খুঁজেই পাচ্ছি না। দিনাজপুরে লেখাপড়া করছিল, সেখানে ফোন দিয়েছিলাম, সেখানেও নেই। আত্মীয়স্বজনের বাসায়ও যায়নি। এখন কোথায় গেছে, আমি খুঁজেই পাচ্ছি না।"
খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, "ইমনের বাবা আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলি। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি এখানে আসছো কেন? সে বলে, ইমনের সঙ্গে তার ভালোবাসা রয়েছে। ইমন তাকে আসতে বলেছে। পরে তার বাবা-মাকে জানালে তারাও আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা বললেন, আপনারা গ্রামের লোকজন আছেন, আপনারা যেটা বলবেন, আমরা সেটা মেনে নেবো। ছেলের বাবার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে, তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে, প্রমাণ থাকলে আমি তার সঙ্গে বিয়ে দেব।"
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, "তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে আমরা শুনেছি। বিয়ের দাবিতে মেয়েটি তার বাড়িতে এসেছে— এমন তথ্যও পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনি সহায়তা করব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ