ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হঠাৎ ধসে পড়লো স্কুল ভবন


হঠাৎ ধসে পড়লো স্কুল ভবন

খুলনার কয়রার গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ দুই তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়েছে। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ছাদের কেবল ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা গিয়েছিল, পলেস্তারার খসে পড়া অংশও ছিল, এবং বেরিয়ে এসেছিল রড। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই দুইতলা ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনাটি খুলনার কয়রার গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটেছে। ধসে পড়া ভবনটিতে মাধ্যমিকের ক্লাস অনুষ্ঠিত হতো। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ওই সময় শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউ ভবনে ছিলেন না, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভবনটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রোববার (১৯ জুলাই) থেকে পাশের একতলা ভবনে মাধ্যমিক ও কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উপকূলের অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে নির্মিত দুইতলা অ্যাকাডেমিক ভবনটি আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হয়ে কাঠামোগত দুর্বল হয়ে পড়ে। একসময় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে সংকট থাকার কারণে সেখানে পাঠদান চলতে থাকে। ভবনধসে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় কিছুটা স্বস্তি লাভ করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার। তিনি জানান, শুক্রবার ছুটির দিনে ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়া সত্ত্বেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুল বলেছেন, শুক্রবার যে দিন ভবন ভেঙে পড়েছে, সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্লাস চলাকালীন ভবনটি ধসে পড়লে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন তিনি তাঁর সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে মাধ্যমিকে ২৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, ১৯ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া ভবনে তাদের আর ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। পাশের একতলা ভবনে এতদিন কলেজ শাখার ক্লাস হয়ে আসছিল। কিন্তু এখন একই ভবনে মাধ্যমিক ও কলেজ— দুই শাখার ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। এতে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সবাই সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় হলে স্থানীয় লোকজন বড় বিপদে পড়তে পারেন। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা জানিয়েছেন, ভবন ধসে পড়ার কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু এবং বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ধসে পড়ার বিষয়টি নিয়ে কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ার কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। জানা গেছে, গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র (টেন্ডার) সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হলেও এলাকার মাটির স্তর (সয়েল লেয়ার)–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণেরও বরাদ্দ রয়েছে। তবে এখনো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। দরপত্রে ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান

বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

 

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ মাইনুর রহমান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন এবং তিনি এবার বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র অনুসারে, অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০২৬ সহ)-এর ২১ ধারা মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ধারা: ২ (৪) ও ২(৮) অনুযায়ী পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া, একই প্রক্রিয়ার অনুবৃত্তিক্রমে পরিষদের চেয়ারম্যানের অধীনে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগকৃত অ্যাডহক কমিটির গঠন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ১৪ (৩) ধারার অনুসরণে করা হয়েছে। গঠিত নতুন অ্যাডহক কমিটি আদেশ জারির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে যে, আদেশ জারির তারিখ থেকে গঠিত নতুন অ্যাডহক কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় লিগ্যাল এইডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় লিগ্যাল এইডের

 জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এই বিষয়টি জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগণের জন্য এআইনি সেবা প্রদান করা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং দেশের কারাগারগুলোতে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রি ও পোস্ট-কেইসে ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল-এর মাধ্যমে ৭ কোটি ৩ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা (লিগ্যাল এইড) অধীনে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা গ্রহণকারী উপকারভোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন। দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারে (টোল ফ্রি-'১৬৬৯৯') এই আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণের আইনি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচে এ সেবা দেয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল ইরান

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলার জেরে এবার কঠোর অবস্থানে গেল ইরান। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলে তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ চুক্তির আওতায় তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন এবং স্থগিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের জবাবে তেহরানও চুক্তিটি বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। গারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান এখন চুক্তি নিয়ে না ভেবে কেবল তাদের ‘দেশ রক্ষায় ব্যস্ত’ রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তারা মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে পাল্টা শর্ত জুড়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দিল তেহরান।

ইরানের কারিগরি আলোচক দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন গারিবাবাদি। তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র আগেই পুরো চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে। এর ফলে আমরাও একইভাবে আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি। আমরা আর ওই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছি না।’

 

অর্থাৎ, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল যে— এই চুক্তির এখানেই সমাপ্তি এবং তারা এর আর কোনো ধারাই মেনে চলবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এবং জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনৈতিক দর্শন আজও ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিআরএনডি)’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজনটি কেবল একটি গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আপসহীন দেশপ্রেম, বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

তিনি একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মৌলিক প্রয়াস। অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা হলেও, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে বিশ্লেষণের এমন বিস্তৃত প্রচেষ্টা খুব কমই দেখা গেছে।

তিনি বলেন, এই গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বিত একটি রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তার মতে, গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তাকে রাজনৈতিক অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী সংস্করণগুলোতে যদি আরও বেশি প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্র, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ভিন্নমতের একাডেমিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

কারণ প্রকৃত গবেষণার সৌন্দর্য নিহিত থাকে মতের বহুমাত্রিকতা এবং অনুসন্ধানের সাহসের মধ্যে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বই একটি সময়কে ধারণ করে, কিন্তু একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সিআরএনডি ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, জনপ্রশাসন, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিটি নাগরিক যদি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দেশ, জনগণ এবং জাতীয় নেতৃত্বের কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘সবার আগে দেশ, গর্বের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ কে এম ওবায়দুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%