০৯:৪৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি সংবাদকর্মীদের ফোন করেন না এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক। জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ না করে "Please text me" লিখে বার্তা পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর পক্ষ থেকে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নানান রকম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে ডিসি বক্তব্য দেননি। বাদশাহ সৈকত জানিয়েছেন, তিনি ৫ বছর ধরে গুরুত্বপুর্ণ বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ আটকে রাখার বিষয় নিয়ে ডিসির বক্তব্য নিতে এসেছিলেন। বক্তব্য না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, ডিসি উত্তর দেন যে, "আমিসহ আমার প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা ক্যামেরায় কথা বলবে না।"
পরে ওই সাংবাদিক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "কোন গোপন রহস্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জানতে চায় জাতি!"
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
শুধু বাদশাহ সৈকত নয়, ডিসি যোগদানের পর থেকে জেলায় কর্মরত কোন মিডিয়ার সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি তিনি। এমনকি, ডিসির অনুমতি ছাড়া তার অধিনস্ত ইউএনওসহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলেন না। বিষয়টি এমন যে, সাংবাদিকদের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই বলে মনে হচ্ছে।
ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলার উন্নয়ন, সমস্যা বা সংকট সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে চাইলেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান।
এসএ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানিয়েছেন, পরপর জেলায় কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসক পেয়েছিলেন। কম-বেশি সকলেই একই আচরণ করেছেন। জেলাকে এগিয়ে নিতে নারীদের প্রশাসকই প্রতিবন্ধকতা।
চ্যানেল ওয়ানের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক এবং গণমাধ্যম ওই জনগণের মুখপাত্র। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা মানে জনগণের কাছে জবাবদিহি থেকে সরে আসা।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা জানিয়েছেন, তিনি যতবার জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করেছেন, অধিকাংশ সময়ই তিনি ফোন না ধরে 'Please text me' লিখে বার্তা পাঠিয়েছেন।
জাগো নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রোকনুরজ্জামান মানু জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ফোন রিসিভ করেন না।
সিনিয়র সাংবাদিক দীপ্ত টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মো: ইউনুছ আলী এটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা সুখকর নয়।
নাগরিক টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফজলুল করিম ফারাজি বলেছেন, কুড়িগ্রামবাসীর কপালে খারাপ। কারণ পরপর নারী জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রামে যোগদানের কারণে এ জনপদের মানুষ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন