মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২০ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে আলফাডাঙ্গা থানা পুকুরসহ উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে রুই, বাটা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে পৌর সদরের বাঁকাইল ঈদগাহ সড়ক এবং আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা বোর্ড অফিস সংলগ্ন এলাকায় কৃষ্ণচূড়া, মেহগনি ও পাহাড়ি নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে জনকল্যাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আলী সিকদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান, পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন কাজল, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুজ্জামান বাচ্চু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জিসান মিয়াসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া, দলের প্রয়াত নেতা ও জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
আজ দুপুরে শহরের মিড টাউন রেস্টুরেন্টে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এমপি বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ২০০১ সালে নমিনেশন দিয়েছিলেন। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এমপি ছিলাম। আমি তখন ফেনীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ফেনী শহরকেও সাজিয়েছি। আমি দোকানপাট ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করেছি। জহিরিয়া মসজিদ ও বড় মসজিদের দোকানও ভেঙে ফেলেছি। জীবনে কারো ক্ষতি করি নাই। পরে ২০০৯ এ আপনাদের ভোটেই আমি আবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম।"
তিনি আরও বলেন, "ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসা বেড়েছে। অনেককে আমরা ধরেছি। আরো অনেককে ধরা হচ্ছে। যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং চোর-ডাকাত, তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করুন।"
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক, গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলার আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, কৃষক দলের জেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন, মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি এবং জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সরোয়ার জাহান শ্রাবণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের মন্তব্য, যা বাংলাদেশে আরো বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বে সম্পাদিত উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তার মন্তব্য আগের চুক্তির বিষয়ে হয়ে থাকতে পারে।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘বিলিয়ন ডলারের’ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি সংবলিত ‘আরেকটি অবিশ্বাস্য চুক্তি’ করেছেন, যা আরো বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য।
গর আরো দাবি করেছেন, বাংলাদেশ তাদের প্রাথমিক বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের আদেশ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বাড়াবে। তার এ মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন কোনো উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি চুক্তি সই করেছে।
এ চুক্তির আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দু’টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪টি উড়োজাহাজের ওই চুক্তির বাইরে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলাদা কোনো উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি হয়নি।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়গুলো বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, সরকার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব বৃদ্ধি করবে এবং শক্ত অবস্থান থেকে বৈদেশিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাসব্যাপী ফুল, ফলদ ও ঔষধি গাছ বিতরণ কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানো যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি চারার সঠিক পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করা আবশ্যক। গাছ বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে এবং পরিবেশ বাঁচলে মানুষ সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সরকার বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মেধা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় অভ্যস্ত করতে ‘বইপড়া কর্মসূচি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ইব্রাহিম খান সাদাত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন। এছাড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন।
আয়োজকেরা জানান, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার ফুল ও ফলের গাছ বিতরণ করা হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও ৫০০ গাছ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের অন্যতম ফাহিম আশহাব রহমান মোল্লা আনন্দ বলেন, প্রতিটি গাছের সঙ্গে একটি কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা গাছ লাগানোর পর কোডটি স্ক্যান করলে গাছটির তথ্য আয়োজকদের কাছে সংরক্ষিত হবে। এর মাধ্যমে বিতরণ করা গাছগুলোর তথ্য ও অবস্থান সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
পরে অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে একটি কাঠগোলাপ গাছ রোপণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে সুনামির মতো ধেয়ে আসা হিমবাহের বন্যায় সৃষ্ট ‘অকল্পনীয়’ দুর্যোগের ষষ্ঠ দিনেও সোমবার কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০-তে দাঁড়িয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে, মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি— এমন কিছু লাশ গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ৯৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া ভারতের ভাটির দিকে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে আরও অন্তত ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাসুয়া জেলার এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী শিবু গিরি নিজেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।
৪৪ বছর বয়সী গিরি এএফপিকে বলেন, একটি হেলিকপ্টারের উদ্ধারকারী দল তাকে ‘তিনবার উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোমর পর্যন্ত কাদায় আটকে থাকায়’ তারা তাকে বের করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের পানি ও খাবার ফেলে দিতে বলেছিলাম।’
পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রোববার এই দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেন।
চিতওয়ান জেলায় সেনাসদস্যরা রাবারের নৌকা থেকে নেমে নদীর পাড় বেয়ে নীল ব্যাগে রাখা লাশগুলো তুলে আনেন। পরে মাটির রাস্তার পাশে লাশগুলোকে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়।
এদিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। একাধিক সুড়ঙ্গে আটকে পড়া প্রায় ১০০ জন জলবিদ্যুৎ কর্মীকে উদ্ধারে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে খনন, ড্রিলিং ও বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত দুটি সুড়ঙ্গ থেকে তিনটি লাশ দ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরের পথ কাদায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকারীরা ‘কাদামিশ্রিত পলির স্তর’ ভেদ করে এগোচ্ছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ভেতরে কেউ বেঁচে থাকতে পারেন— এ বিষয়ে তিনি ‘এখনো আশাবাদী’।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ২০ হাজার ৬০০ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার নেপালের নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা লাশ নামাতে দেখা যায় সেনা সদস্যদের।
তবে এই ভয়াবহতার মধ্যেও মিলেছে কিছুটা আশার খবর। শুক্রবার কাদা থেকে উদ্ধার করা ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে। শিশুটিকে পরে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নেপাল সশস্ত্র পুলিশের মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কি এএফপিকে বলেন, ‘শিশুটির শরীর কাদায় আটকে ছিল, তবে মাথাটি কাদার বাইরে ছিল।’
তিনি জানান, শিশুটি এখন ‘বিপদমুক্ত এবং হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ‘পরিবর্তনশীল জলবায়ু ও এর প্রভাবের বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে নেপালের মানুষ অন্যতম।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় দ্রুত গলছে।
পুরো জনপদ ভেসে যাওয়ায় এখন ত্রাণ ও সহায়তার প্রয়োজন ব্যাপক।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের কর্মকর্তা আবিওদুন বানিরে এএফপিকে বলেন, ‘এটি একটি চলমান বিপর্যয়।’
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের চাহিদা ব্যাপক।
বন্যার পানিতে সড়ক ভেসে গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে ও বহু সেতু ভেঙে পড়েছে।
মর্গগুলোতে লাশ রাখার জায়গা না থাকায় উদ্ধার করা শত শত লাশের কিছু দাফন শুরু করেছে নেপাল। তবে এর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের শনাক্ত করে লাশ নিয়ে যেতে পারেন।
চিতওয়ান জেলায় শোকাহত স্বজনরা কয়েকটি লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে দেবীঘাটের মতো নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে বেঁচে যাওয়া মানুষ ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর থেকে অবশিষ্ট জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
লাশ সংরক্ষণের জন্য ‘এক হাজারের বেশি’ ফ্রিজার ইউনিট প্রয়োজন বলে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে কাঠমান্ডু।
স্বজন হারানো পরিবারগুলো কমিউনিটি সেন্টারে পর্দায় লাশের ছবি দেখছেন ও নিখোঁজ প্রিয়জনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ