ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনায় ট্রাফিক বিভাগের ৩১ সদস্য পেলেন ভালো কাজের পুরস্কার


খুলনায় ট্রাফিক বিভাগের ৩১ সদস্য পেলেন ভালো কাজের পুরস্কার

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র ট্রাফিক বিভাগের ৩১ জন কর্মকর্তা ও সদস্যদের (ফোর্স) সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। তাদের কর্মক্ষেত্রে গত এক মাসে প্রদর্শিত প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে আজ বুধবার বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননার পুরস্কার তাদের হাতে তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কেএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন পক্ষে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।

অনুষ্ঠানে ১ জন পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন), ৫ জন সার্জেন্ট/টিএসআই, ৫ জন এটিএসআই এবং ২০ জন কনস্টেবল আর্থিক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি নির্দেশ দেন যে, যদি কোনো সন্দেহজনক মিছিল, মোটরসাইকেল মহড়া, অপরাধমূলক কার্যক্রম বা যেকোনো জরুরি ঘটনা চোখে পড়ে তাহলে দ্রুত কন্ট্রোল রুমে বা বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে জানাতে হবে।

এর পাশাপাশি, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১২ হাজারেরও বেশি গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গাছগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও উপযুক্ত স্থানে রোপণ করা হবে। তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ বাড়ি, অফিস ও কর্মস্থলে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান এবং একে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সদকায়ে জারিয়ার একটি উত্তম মাধ্যম হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা সকল পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাবে।

এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা।

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেতুর উঁচু টাওয়ারে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় যুবক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


সেতুর উঁচু টাওয়ারে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় যুবক আটক

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের ১৪০ মিটার উঁচু একটি সেতুর টাওয়ারে উঠে ছবি আঁকার অভিযোগে পুলিশ ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুবকটি টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করায় পুলিশের সঙ্গে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

এই সময় সেতুর একটি লেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার মেলবোর্নের বোল্টে ব্রিজে এই ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার কাছে অবস্থিত ক্যান্টিলিভার সেতুর টাওয়ারে উঠে ওই যুবক স্প্রে পেইন্ট দিয়ে একটি বড় কার্টুন পাখির ছবি আঁকেন বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবকটি টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় বসে আছেন।

তার দুটি পা নিচের দিকে ঝুলছিল। পরে, একই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কর কমানোর দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নিচে নামার আগে তার কাছে ড্রোনের মাধ্যমে একটি চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পৌঁছে দিতে হবে।

তার এই দাবির পর পুলিশ এবং যুবকের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। নিরাপত্তার কারণে সেতুর একটি লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যে কারণে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পল হোগান জানান, কয়েক ঘণ্টা পর যুবকটি টাওয়ারে থেকে নিচে নামলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আর জানান, যুবকের বিরুদ্ধে সেতুর বাইরের দেয়ালে স্প্রে দিয়ে ছবি আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বারবার নিচে নামতে বললেও, তিনি দীর্ঘ সময় সেই নির্দেশ মানেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে ইউনিফর্মধারী পুলিশ, মহাসড়ক টহল পুলিশ, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং জল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এছাড়া, সেতুর গায়ে আঁকা ছবিটি ‘প্যাম দ্য বার্ড’ নামে পরিচিত একটি কার্টুন পাখির ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মাঝে মেলবোর্নের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে এই প্রতীক দেখা গেছে। শহরের ঐতিহাসিক ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট রেলওয়ে স্টেশনে একই ধরনের ছবি আঁকা হয়েছিল। তবে কী কারণে শেষ পর্যন্ত ওই যুবক নিচে নামতে রাজি হন, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। ঘটনার পরে যুবকের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লেখা হয়, 'স্যান্ডউইচ ছাড়াই এখানে ড্রোন উড়িয়ে পাঠানোর সাহস দেখাল!' পোস্টটি থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত তার দাবি অনুযায়ী চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পাঠানো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালতলীতে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে দুই ট্রলার ডুবেছে ১৬ জেলে উদ্ধার, দুই জেলে নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী বরগুনা প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


তালতলীতে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে দুই ট্রলার ডুবেছে ১৬ জেলে উদ্ধার, দুই জেলে নিখোঁজ

তালতলী উপজেলার মধ্য আমখোলা গ্রামের দুটি ট্রলার সাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও তলিয়ে গেছে। বুধবার সকালে দুটি ট্রলারের ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হলেও, কালাম পাইক ও শহীদুল খান নামের দুইজন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সংবাদ পাওয়া গেছে যে মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা এলাকায় ঘটনা ঘটেছে। তালতলী উপজেলার আমখোলা এলাকার তপন জোমাদ্দার ও ফুল মিয়ার দুটি ট্রলার ইলিশ শিকার করতে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ ঘাট থেকে সাগরে গিয়েছিল। কিন্তু ওইদিন বিকেলে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ট্রলার দুটি সাগরে ডুবে যায়। ট্রলারের জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকে।

উদ্ধার হওয়া ১৬ জন জেলে মৌডুবির একটি ফিসিং ট্রলারে গতকাল বুধবার সকালে উদ্ধার হয় এবং তাদের ফকিরহাট ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কালাম ও শহীদুল নামের দুইজন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন যে, তপন জোমাদ্দারের ট্রলারের দুই জেলে ট্রলারের নীচে রয়েছেন এবং তারা ট্রলার থেকে বের হতে পারেননি।

এছাড়াও, মঙ্গলবার দুপুরে শুভ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়া পর্যটক দাখিল ফলপ্রার্থী আসাদুলও একদিনে উদ্ধার করা হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলে কামাল ও জামাল বলেন যে, আমাদের ট্রলারের দুইজন ছাড়া অন্য সকল জেলেকে মৌডুবির একটি ফিসিং ট্রলারে উদ্ধার করা হয়েছে। কালাম পাইক ও শহীদুল খান ট্রলারের মধ্যে থেকে বের হতে পারেননি এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানা যাচ্ছে না। ট্রলার মালিক তপন জোমাদ্দার বলেন, তার ট্রলার বৈরি আবহাওয়ায় ডুবেনি, বরং অন্য একটি ট্রলার তার ট্রলারকে ডুবিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, ট্রলারের নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে চেষ্টা চলছে। তালতলী থানার ওসি সাইদুল ইসলাম ঘটনাটি জানিয়েছেন এবং দুজন নিখোঁজের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রলারে মোট ১৮ জন জেলে ছিল, তাদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবদীতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী প্রকল্পে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


মাধবদীতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী প্রকল্পে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

মাধবদীর এলাকায় পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পের খালি জায়গায় স্থানীয় একদল লোকের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে শতাধিক চারা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ জুন ওই আবাসন প্রকল্পে দুই হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু তিন দিন পর, অর্থাৎ ২৯ জুন রাত তিনটার দিকে, মাধবদীর আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল এলাকায় এই গাছের চারাগুলো কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ২ জুলাই আবাসন প্রকল্পের স্টাফ রাজীব হোসেন মাধবদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৯ জুন রাতে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবাসী পল্লীতে প্রবেশ করে। তারা পোস্ট ক্যাম্পে ভাঙচুর চালিয়ে রোপণ করা শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছের চারা কেটে ফেলেন। এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে মোজাম্মেল, সিরাজুল, তাহারুল, মামুন, মাসুদ, ফিরোজ ও আমান- এই সাতজনকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুতুলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পার্শ্ববর্তী আবাসন প্রতিষ্ঠান পূর্বায়ন সিটিতে কর্মরত। এ ছাড়া আরও ১০-১২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। আবাসন প্রকল্পের প্রজেক্ট স্টাফ রাজীব হোসেন বলেন, 'আমরা গাছের চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলাম। হামলার সময় তারা ওই চারাগুলোও কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় জিডি করি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাই, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিক।' মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, 'আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতের আঁধারে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। যাদের নাম এসেছে, দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসিকের সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনে তৎপর প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


মসিকের সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনে তৎপর প্রশাসক

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) এলাকায় টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণের ফলে অধিকাংশ সড়ক এবং নিচু এলাকা তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনুৎপন্ন পরিস্থিতির কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। বাসিন্দাদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনে কাজ করছেন মসিকের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, তিনি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন।

আগের দিন মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাদের মতে, চলতি বছরে এটি জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এই কারণেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনে কাজ করছেন মসিকের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন সাংবাদিকদের বলেন, বহুতল ভবন মালিকদের ময়লা ও আবর্জনা ড্রেনে ফেলার কারণে, গত সময়ের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অনেক স্থানে ড্রেন না থাকা এবং ভারি বর্ষণের ফলে সাময়িক এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আমি ও আমার কর্মী বাহিনী মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেকস্থানে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু কিছু স্থানে ড্রেনেজ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি জমে আছে, সেগুলোতে নিস্কাশনের প্রচেষ্টা চলছে।”

তিনি এটি জানিয়ে দেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একশ দিনে তিনি নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য আকুয়া খালসহ বেশ কয়েকটি খাল পরিষ্কার করেছেন যাতে পানি প্রবাহ তৈরি হয়। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় এবং কেওয়াটখালী এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ার কারণে অনেক স্থান সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবে গেছে। এতে স্কুল ও অফিসগামী মানুষ এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে চরপাড়া এলাকায় হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহনগুলো চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে।

নগরীর চরপাড়া মোড়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন জানান, “অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা পার হতে আমার ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালটিতে পানি ঢুকে পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।”

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া এবং নগরায়ন এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। সানকিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, “ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।”

জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও বর্তমানে প্রকল্পের মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ন জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, নগরীর পানি নিষ্কাশনে খালগুলো পর্যাপ্ত নয়। তবে নগরীর খালগুলোর সঙ্গে নদের সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।

নগরবিদরা মনে করছেন, কেবল অস্থায়ী উদ্যোগ নয়, বরং পরিকল্পিত নগরায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না করলে ময়মনসিংহবাসীর এই দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%