বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০১ এম
জবের আলীর বসবাস তিস্তাপারে। ২০২০ সালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ক্রসবাঁধটির অংশ বিশেষ ভেঙে গেলে খিতাবখা গ্রামের জবের আলীর ভিটেও গিলে খায় তিস্তা। তার পর থেকে বাঁধের ধারে মাথা গুঁজে রয়েছেন ৮৫ বছরের এই বৃদ্ধ।
সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ ফুঁসে ওঠা তিস্তার তোপে বিলীন হয় ক্রসবাঁধের অংশবিশেষ। এরপর ফের আতঙ্ক ভর করে জবের আলীর চোখে-মুখে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখা এই প্রবীণ ব্যক্তিটি ভেবেছিলেন, এবার খনন আর পাড় বেঁধে তিস্তাকে বাগে আনা হবে; ভিটেমাটি সুরক্ষিত করে চাষবাস করে জীবনধারণ করতে পারবেন তারা।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে ভরসা করতে পারছেন না পোড়খাওয়া এই বৃদ্ধ। বলেন, ‘এই তিস্তা হামার দুঃখ। যখন ব্যারাজের গেট ছাড়ি দেয়, নদী পাক দেয়, ডুকরি ওঠে। হামার বুক কাঁপে। চপুর আইত নিন্দ হয় না (সারা রাত ঘুম ধরে না)। শুনি বোলে তিস্তা বাইন্ধবে। সগাই (সবাই) আশা দেয়, কাম হয় না।’
৩০ বছর আগে ভিটে হারিয়ে বাঁধের ধারে বসত গড়েছেন রাজারহাটের তিস্তাপারের রামহরি গ্রামের আব্দুল মজিদ। তাও তিস্তার চোখ রাঙানিতে বিপন্ন।
ফসলি জমি তিস্তার গর্ভে। মহাপরিকল্পনা তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু ভরসা পাচ্ছেন না।
একরাশ হতাশা নিয়ে আব্দুল মজিদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরি শুনি নদী খুঁড়বে, পাড় বাইন্ধবে। সরকার আইসে, সরকার যায়—হামার আশা পূরণ হয় না।’
নির্বাচনের আগে তিস্তার পাড়ে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ নামে একটি বড় আন্দোলনে শামিল হয়েছিল তিস্তাপারের মানুষ। মশাল মিছিল, গানের সুরে জেগে উঠেছিল তিস্তাপার। সেই আন্দোলনের সফলতা নিয়ে সংশয় কাটেনি সেখানকার মানুষের।
খিতাবখা গ্রামের গৃহবধূ মমতা বেগম তাই আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই। ভোট বের হইলে তিস্তা মরে।’
রাজারহাটের গতিয়াশাম, রামহরি, খিঁতাবখা, গাবুরহেলান, ডাংরা, রতি, উলিপুরের ঠুটাপাইকর, হোকডাঙা, চিলমারীর চর বজরা-সব গ্রামেই ভাঙন আতঙ্ক। এসব গ্রামের অনেকগুলো শুধু নামেই টিকে আছে, বেশিরভাগই তিস্তার গর্ভে। বাকি অংশের মানুষও সব সময় থাকে ভাঙন আতঙ্কে, ঘর-বাড়ি হারানোর ভয়ে।
কয়েকদিন আগে বুড়িরহাটের ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। ফলে ভাটির দিকে ৮-১০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ করছে। নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ পলাশপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধানি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর তীর ধরে। হাসারপাড় এলাকার উজান ও ভাটিতে ভাঙছে প্রতিনিয়ত।
তিস্তাপারের মানুষ বলছে, দীর্ঘদিন খননকাজ না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। ফলে মে মাস থেকে অধিকাংশ সময় তিস্তার পানি থাকছে বিপৎসীমার কাছাকাছি। এতে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কুড়িগ্রামের অংশের ২০ কিলোমিটার এলাকা। জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। কিন্তু কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ, ক্রসবাঁধে ধস নামায় আতঙ্ক কাটেনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিস্তার আরও ৫-৬টি পয়েন্ট ভাঙনপ্রবণ। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সেসব পয়েন্টে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ। গবেষণায় দেখা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ রোগী হিসেবে হাসপাতালে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে অপুষ্টির বিষয়টিও উঠে এসেছে। এসব শিশুর দেহে শতভাগ ক্ষেত্রে ‘বি৩ জেনোটাইপ’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চমেকের কনফারেন্স হলে ‘মিজলস আউটব্রেক ২০২৬ ইন সাদার্ন বাংলাদেশ: এপিডেমিওলজিক্যাল প্রোফাইল, ক্লিনিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিকস, জেনেটিক অ্যানালাইসিস উইথ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড অ্যান্টিবডি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা।
জানা গেছে, গবেষণায় থাকা আক্রান্ত ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৮৫ দশমিক ২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। প্রায় ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। আর ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু পূর্বে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়া ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল। গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ শনাক্ত হওয়া। যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পূর্বে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চসিক ও চমেকের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপের সহযোগিতায় এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে মূল গবেষক ছিলেন চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। গবেষণার উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন চমেকের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া ও চমেক মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এমএ হাসান। এছাড়া সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. সেলিনা হক, ডা. আয়েশা বেগম, ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বিন আমিন চৌধুরী, ডা. সায়েদা হুমায়দা হাসান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. আসমা ফেরদৌসী ও ডা. সানজানা ইসলাম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এম এস জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তুরাগ কার্যালয়ে দালালবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটকের পর এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেলের তুরাগ কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সতর্কতা ও সক্রিয় সহযোগিতায় দালাল চক্রের ওই সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়।
অভিযানের সময় আনসার সদস্য পিসি মো. অপু সারোয়ার ও মো. রাসেল মিয়া দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর নজর রেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। এ সময় আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন গাড়ির নতুন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও মালিকানা বদলসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম মো. বিল্লাল হোসেন (৪৮), পিতা মো. আব্দুল মান্নান, বাসিন্দা কামারপাড়া, তুরাগ, ঢাকা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তুরাগ কার্যালয়ে দালালবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটকের পর এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেলের তুরাগ কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সতর্কতা ও সক্রিয় সহযোগিতায় দালাল চক্রের ওই সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়।
অভিযানের সময় আনসার সদস্য পিসি মো. অপু সারোয়ার ও মো. রাসেল মিয়া দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর নজর রেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। এ সময় আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন গাড়ির নতুন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও মালিকানা বদলসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম মো. বিল্লাল হোসেন (৪৮), পিতা মো. আব্দুল মান্নান, বাসিন্দা কামারপাড়া, তুরাগ, ঢাকা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সোলার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ককে আরও নিচে নামিয়েছে। নতুন সুবিধার আওতায় যোগ্য সোলার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট ১ শতাংশ কর দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১ শতাংশের বেশি কাস্টমস শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি। এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এসআরও জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২০২৬ সালের ৮ জুন জারি করা এসআরও নং ১৫৯-আইন/২০২৬/১৪/কাস্টমসের আওতায় এনবিআর সোলার খাতের প্রধান উপকরণে শুল্ক ও কর অব্যাহতি প্রদান করেছিল। সেই সময়ে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর মওকুফ করা হয়েছিল। তবে তখনও ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়করসহ মোট ১৭ শতাংশ কর দিতে হতো।
এখন এনবিআর সেই সুবিধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সোলার সরঞ্জামের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এর আগে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য এই শুল্ক ও কর ছাড় প্রযোজ্য ছিল না।
এনবিআর বলছে, কর কমানোর ফলে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ কমবে এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুততার সাথে যোগ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, এই পদক্ষেপটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শক্তিশালী করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ