ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন


বরগুনায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন

বরগুনা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলায় ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসেবে বরগুনা জেলা শিল্প কলা একাডেমি চত্বরে ৫ দিনব্যাপী (৩-৭ অক্টোবর) এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এই বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও শিক্ষা) অনিমেষ বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন: সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, বিজয় টিভির বরগুনা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তালুকদার, বরগুনা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক তারিক বিন আনসারী সুমন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য মেলার স্টল উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল।

স্থানীয় পর্যায়ে মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, বরগুনা।

আরও পড়ুন: মধুপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে পদক ছাড়াই ফিরছে বাংলাদেশ, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


এশিয়ান গেমসে পদক ছাড়াই ফিরছে বাংলাদেশ, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপান গিয়েছিল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়ে এবং ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে লিটন দাসের দলটি পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে। দলের এই ব্যর্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলে টাইগারদের ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

ম্যাচ শেষে সালাউদ্দিন নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দলের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে পারিনি।"

সালাউদ্দিন আরও জানান, "সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ কোচ ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু মাঠে সেই লক্ষ্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা ভালো পারফর্ম করেছিল। তারা মাত্র ২১ রানে প্রতিপক্ষের চার উইকেট তুলে নেয়। তবে থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, "বোলিংয়ের কয়েকটি খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়ই মূল কারণ।"

তিনি জানান, "এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট, তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।"

মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও আলোচনায় এসেছে। তিনি তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন। আগের ম্যাচেও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। তবে সালাউদ্দিন মোস্তাফিজের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, "মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।"

অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে মাত্র ২ রান করেছেন তিনি। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে আসেন লিটন।

অধিনায়কসহ দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, "আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।"

শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় শুরুতেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস তিনজনই রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। মাত্র ৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধান কোচ খেলোয়াড়দের চেষ্টার ঘাটতি দেখছেন না। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারা এবং দ্রুত উইকেট হারানোই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

সালাউদ্দিন বলেন, "প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।"

এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এমন বিদায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের একাধিক নিয়মিত ক্রিকেটার নিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ সালে দুইবার রমজান: এই বিরল ঘটনার নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


২০৩০ সালে দুইবার রমজান: এই বিরল ঘটনার নেপথ্যে কী?

২০৩০ সালে এক বিরল মহাজাগতিক বিন্যাসের কারণে একই বছরে দুইবার রমজান মাস অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে মুসল্লিরা একই বছরে দুইবার রোজা পালনের সুযোগ পাবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে হিসাবের পার্থক্যের জন্য এই বিরল ঘটনা ঘটবে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট, ফলে প্রতি বছর রমজান শুরুর সময়টি এগিয়ে আসে।

২০৩০ সালে এই পরিবর্তনের ফলে প্রথম রমজান শুরু হবে ৫ জানুয়ারি (ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৫১ হিজরি সনে) এবং দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর (১৪৫২ হিজরি সনের শুরুতে)।

এই কারণে মুসলমানরা এক বছরে দুইবার রোজা রাখবেন। অর্থাৎ ওই বছর মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে; জানুয়ারি মাসে ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষে আরও ৬ দিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে চলে, তবে ইসলামী বর্ষপঞ্জি মূলত চান্দ্র চক্রের ওপর নির্ভরশীল।

একটি চান্দ্র বছর ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে, যা সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। সময়ের সাথে সাথে এই পার্থক্যের কারণে ইসলামী মাসগুলো চারটি ঋতুর মধ্যে আবর্তিত হয়; এই চক্রটি প্রায় প্রতি ৩৩ বছরে একবার পুনরাবৃত্তি হয়।

সর্বশেষ এই ঘটনা ১৯৯৭ সালে ঘটেছিল এবং ২০৩০ সালের পর এটি আবার ঘটবে ২০৬৩ সালে।

মুসলমানদের জন্য ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা একটি ধর্মীয় আবশ্যিকতা এবং আত্মিক শুদ্ধির একটি মাধ্যম। তবে রমজান কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে রোজার অভিজ্ঞতায় ব্যাপক তারতম্য হয়। শীতকালে রোজা পড়লে দিনের দৈর্ঘ্য বা রোজার সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হয়; অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে তা ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় জানা সম্ভব, তবুও চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই এর আনুষ্ঠানিক শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরবসহ অনেক ইসলামী দেশ চাঁদ দেখার প্রথাগত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, আবার অন্য অনেক দেশ তারিখ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত এবং সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত। এজন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। একইভাবে, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গেও তিনি একই মন্তব্য করেছেন।

শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গাল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত একটি সেশনে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তারা বলেছেন, এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াটি আইনগত ও সুসংগঠিত। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা ভারতে কীভাবে গিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশে যে সময় মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সেই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারতও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলেন, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।

তিনি বলেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। ভারত যদি বলত যে তাকে গ্রহণ করবে না, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।

তিনি বলেন, এটাই ছিল সেই সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি তার নিজস্ব গতিতে চলছে। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশের মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে, ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তার আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।

সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বুঝেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও বুঝবেন যে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি কখনোই সামনে আসবে না।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যে সম্পর্কই বজায় রাখুক না কেন, নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধুমাত্র লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে না দেখার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। এর সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের মানুষ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তিনি ভালোভাবেই বোঝেন। দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক বন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মৌলিক।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি বোঝা কঠিন। একদিকে নজরুলগীতি, অন্যদিকে রবীন্দ্রসংগীত। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। এ ধরনের সম্পর্ক দুই দেশের বন্ধনের অনন্য গভীরতাকে তুলে ধরে।

নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক নয় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বোঝেন। তাই ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিস্থিতি আসবে বলে তিনি মনে করেন না, যেখানে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগের কারণ তৈরি হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি পরিবারের মধ্যে যেমন কখনো কখনো সমস্যা বা মতপার্থক্য দেখা দেয়, দুই দেশের সম্পর্কেও তেমন কিছু বিষয় থাকতে পারে। কোনো সমস্যা না থাকলে সেটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যও নয়। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই। তবে এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ, আলোচনা, পরামর্শ ও পারস্পরিক যোগাযোগ। আর এই সংলাপের ভিত্তি হলো আস্থা।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দূরত্ব রেখে কোনো সম্পর্কের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময়ই একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুই দেশের মানুষের ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা তিনি দেখছেন। এ কারণে তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি অটুট রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উজিরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


উজিরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ

বরিশালের উজিরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং উজিরপুর পৌরসভার সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় ইচলাদী বাজার, ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জমে থাকা পানি অপসারণ, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অভিযান চলাকালীন ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, বালতি, বোতল, টায়ার ও নারিকেলের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক উম্মে সালমা খানুন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান খান, উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম খান, সোহেল হাওলাদারসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%