০১:৩২ পি.এম
সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনী’র ১৫ জন সদস্য এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) খুলনায় এসআরবি-৬-এর সদর দফতর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বাহিনীটি উল্লেখ করেছে যে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সুন্দরবনের ওপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল রয়েছেন। তবে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে বনজীবীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ঋণের বোঝা ও বনদস্যুদের শঙ্কায় পাইকগাছার জেলেদের সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি, নৌকা ও জাল গোছাতে ব্যস্ত
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলস্বরূপ অতীতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সম্প্রতি নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণ করা কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে এসআরবি-৬। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এসআরবি-৬ জানায়, ধারাবাহিক অভিযান, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় আলিফ বাহিনীর আব্দুল্লাহ ও মজিদ গ্রুপের মোট ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
এসআরবি-৬ আশা করছে যে, এই আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বননির্ভর মানুষের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলেও মনে করছে বাহিনীটি।
আরও পড়ুন: অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু
এসআরবি-৬ আরও জানায়, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বননির্ভর জনগণের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে বাহিনীটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন