১১:৫৫ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো একটি হনুমান দেখা গেছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘যশোরের হনুমান’ (নর্দার্ন প্লেনস ল্যাঙ্গুর) নামে পরিচিত। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডাব্লিউআরসি) কাছে প্রাণীটিকে দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী।
রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সুমন জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি এবং তার বন্ধুরা ডাব্লিউআরসি এলাকা দিয়ে মনপুরার দিকে যাওয়ার সময় প্রাণীটিকে দেখতে পান এবং এর ভিডিও ধারণ করেন।
তিনি বলেন, "আমরা কয়েকজন মনপুরার দিকে যাচ্ছিলাম। ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের কাছে প্রাণীটিকে দেখতে পাই এবং এর ভিডিও করি।"
আরও পড়ুন: গ্যাস লিকেজে দোলনচাঁপা হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী
জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে বানর দেখা গেলেও আগে কখনো হনুমান দেখার কোনো রেকর্ড ছিল না। তিনি প্রাণীটিকে ‘নর্দার্ন প্লেনস ল্যাঙ্গুর’ (Semnopithecus entellus) হিসেবে শনাক্ত করেন, যা বাংলাদেশে সাধারণত ‘যশোরের হনুমান’ নামে পরিচিত।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হনুমান রয়েছে। এটি মূলত লোকালয়ের হনুমান। বন্য প্রাণী হলেও এটি সাধারণত গভীর বনে থাকে না, বরং মানুষের বসতি আছে এমন এলাকায় বাস করে।"
তিনি আরও জানান, খাবারের খোঁজে প্রাণীটি প্রায়শই লোকালয়ে ঘোরাফেরা করে এবং মানুষের ফেলে দেওয়া খাবার, ফলমূল ও উৎপাদিত ফসল খেয়ে জীবনধারণ করে।
ধারণা করা হচ্ছে, খাবার বা ফল বহনকারী কোনো ট্রাকে চড়ে প্রাণীটি ক্যাম্পাসে এসে থাকতে পারে। হনুমান অনেক সময় এসব যানবাহনে উঠে পড়ে এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অপরিচিত কোনো জায়গায় নেমে যায়।
আরও পড়ুন: ডুসাকের সভাপতি মীর মোরসালিন, সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. নাছরুল্লাহ
অধ্যাপক মনিরুল সম্প্রতি মোংলাতেও এই প্রজাতির হনুমান দেখার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এর আগে কখনোই এদের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়নি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির হনুমান প্রধানত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায়, বিশেষ করে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের জাতীয় ‘রেড লিস্ট’-এ প্রজাতিটিকে সংকটাপন্ন (Endangered) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাসস্থান ধ্বংস, খাদ্যাভাব এবং মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান হুমকি।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডাব্লিউআরসি)-এর ইনচার্জ প্রফেসর ড. মো. কামরুল হাসান জানান, এটি একটি বন্য প্রাণী হওয়ায় কেন্দ্র থেকে একে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, "চিহ্নিত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য আমি আমার টিমকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে বলেছি।"
আরও পড়ুন: এইচএসসি ফল চ্যালেঞ্জে রেকর্ড ১০ লাখ ৩৭ হাজার আবেদন, আয় ১৫ কোটি টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন