রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৮ পি.এম
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর কারিগরপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন এবং মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আফসার আলী গ্রুপ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যদিও ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী নেতা কালু, যিনি আলাল মেম্বারের ছেলে, তার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আফসার আলীর পক্ষ নিয়ে কারিগরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-কচুয়া গ্রামের আলাল মেম্বারের ছেলে মিজানুর রহমান কালু (৪২), তার ছেলে মুন্না (১৮), অপর ছেলে শুভ (২৯), মাহাবুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান (১৪), মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে চম্পা (৩৫), বড় শেরপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে বনি আমিন (২১), আনসার আলীর ছেলে মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবারিয়া গ্রামের আবুল হাশেম কবিরাজের ছেলে মাসুদ রানা (৪৫)।
আহতদের প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মাসুদ রানার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করা তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা ও ফ্যাশন আইকন ছিলেন সালমান শাহ। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি পরপারে চলে যান। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৫ বছর বয়সে, এই নায়কের মৃত্যুর সময় কয়েকটি সিনেমার শুটিং চলছিল।
কিছু সিনেমার অর্ধেক কাজ ছিল বাকি, কিছু সিনেমার ক্লাইম্যাক্স অসমাপ্ত ছিল, আবার কোথাও গান ও ডাবিং শেষ হয়নি। তবে তার সিনেমাগুলোর কাজ থেমে যায়নি।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর নির্মাতাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল; অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কী হবে? কেউ গল্প পরিবর্তন করেছেন, কেউ ডামি ব্যবহার করেছেন। আবার কেউ নতুন নায়ককে পর্দায় এনেছেন। কিছু সিনেমায় সালমান শাহর শুট করা অংশ বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
৩০ বছর পর ফিরে দেখা যাক, সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করেছিলেন কারা এবং কীভাবে।
শাবনূরকে সামনে রেখে শেষ ‘প্রেম পিয়াসী’
সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘প্রেম পিয়াসী’। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে সালমান শাহ গান, ক্লাইম্যাক্সসহ বেশ কয়েকটি দৃশ্যের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ফলে সিনেমাটি শেষ করতে নির্মাতাদের ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হয়।
গানের দৃশ্যে নায়িকা শাবনূরকে সামনে রেখে শুটিং করা হয়। সালমানের উপস্থিতি দেখানোর জন্য কয়েকটি দৃশ্যে ডামি ও দূর থেকে নেওয়া শট ব্যবহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত গল্পের শেষ অংশেও পরিবর্তন আনতে হয় নির্মাতাকে। সালমানের মৃত্যুর পর ‘প্রেম পিয়াসী’সহ কয়েকটি সিনেমা অন্য অভিনেতা ও ডামিশিল্পীদের সহায়তায় শেষ করার তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘স্বপ্নের নায়ক’ শেষ করেন আমিন খান
সালমান শাহকে ছাড়া একটি সিনেমার গল্প কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়; তার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ ‘স্বপ্নের নায়ক’। সিনেমাটির অর্ধেকের কম কাজ করেছিলেন সালমান শাহ। এরপর গল্প পরিবর্তন করে মাঝপথেই তাঁর চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়।
এরপর সিনেমার গল্প এগিয়ে নিতে যুক্ত হন আমিন খান। অর্থাৎ, সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রের জায়গায় সরাসরি কাউকে বসানো হয়নি; বরং গল্পের মধ্যেই তার চরিত্রের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন চরিত্রকে সামনে আনা হয়। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পায় সিনেমাটি।
ডামির সাহায্যে শেষ ‘শুধু তুমি’
‘শুধু তুমি’র অবস্থা ছিল আরও জটিল। সালমান শাহ সিনেমাটির মাত্র ৩০ শতাংশের কম কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে বাকি গল্প এগিয়ে নেওয়া ছিল কঠিন। শেষ পর্যন্ত ডামি ব্যবহার এবং গল্পে পরিবর্তন এনে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়। তবে ডামির ব্যবহার দর্শকদের চোখ এড়ায়নি।
১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তাই সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নির্মাতাদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
‘আনন্দ অশ্রু’: শেষ করেন নির্মাতা শিবলি সাদিক
‘আনন্দ অশ্রু’র বেশির ভাগ শুটিং সালমান শাহর জীবদ্দশাতেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু বাকি ছিল শেষ দৃশ্য, কয়েকটি গানের শুটিং এবং ডাবিং। পরিচালক শিবলি সাদিকের সিনেমাটি পরে সম্পন্ন করা হয় সালমান শাহকে ছাড়াই।
১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা। তার অসমাপ্ত কাজের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সম্পন্ন অবস্থায় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সালমানের জায়গায় এলেন ফেরদৌস
সবচেয়ে অভিনব সমাধানটি আসে ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায়। পরিচালক ও প্রযোজক ছটকু আহমেদের সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি ছিল সালমান শাহর মৃত্যুর সময়। শুধু ডামি ব্যবহার করে সিনেমাটি শেষ করা সম্ভব ছিল না। তখন গল্পেই আনা হয় বড় পরিবর্তন।
কাহিনিতে দেখানো হয়, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে চরিত্রটির চেহারা বদলে গেছে। সেই পরিবর্তিত চরিত্রে পর্দায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ।
এভাবেই সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমা শেষ করতে যুক্ত হন নতুন একজন নায়ক। ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছিল ফেরদৌসের বড় পর্দায় অভিষেকের সিনেমা এবং সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও এটি। সিনেমাটির কাজ শেষ করতে গল্প পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে যুক্ত করার কথা পরিচালক ছটকু আহমেদ নিজেও বলেছেন।
সালমানের দৃশ্য বাদ দিয়ে আসেন রিয়াজ
সব অসমাপ্ত সিনেমা ডামি বা গল্প পরিবর্তন করে শেষ করা হয়নি। ‘মন মানে না’র ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত। সালমান শাহ সিনেমাটির কিছু অংশের কাজ করেছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর পর সেই অংশ বাদ দিয়ে রিয়াজকে নিয়ে সিনেমাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
অর্থাৎ, এখানে সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্র শেষ করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং সিনেমাটিই নতুন নায়ককে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে সালমান শাহর মৃত্যুর সময় সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওমর সানী ও অমিত হাসানের হাতে নতুন করে নির্মাণ
একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েকটি সিনেমার ক্ষেত্রে। সালমান শাহর কিছু অংশের শুটিং করা দৃশ্য বাদ দিয়ে ওমর সানীকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ‘কে অপরাধী’। অন্যদিকে অমিত হাসানকে নিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ‘তুমি শুধু তুমি’।
অর্থাৎ, এই সিনেমাগুলোতে সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজকে জোড়া লাগানো হয়নি। তার শুট করা অংশ বাদ দিয়ে নতুন অভিনেতাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন শুটিং। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কয়েকটি সিনেমা অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে নির্মাণের তথ্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রবিষয়ক সূত্রে পাওয়া যায়।
যে সিনেমাটি শেষই হয়নি
সব সিনেমার ভাগ্য অবশ্য এক ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পন্ন হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি সিনেমাটি। ফলে তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি রয়ে যায় অসমাপ্ত ইতিহাস হিসেবেই।
সবমিলিয়ে সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর গল্পে তাই একাধিক মানুষের নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু ৩০ বছর পরও এসব সিনেমা দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; সালমান শাহর জায়গা কেউ পূরণ করতে পারেননি। নির্মাতারা সিনেমা শেষ করেছিলেন, গল্প বদলেছিলেন, নতুন নায়ক এনেছিলেন, আবার কোথাও কোথাও ডামি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু দর্শক পর্দায় বারবার খুঁজেছেন সেই মানুষটিকেই, যিনি সিনেমাগুলো শুরু করেছিলেন—কিন্তু শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ লেবাননে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়।
এদিকে, আরব সালিম শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসীরা দুটি ড্রোন পাঠিয়েছে। এর জবাবে আইডিএফ এখন দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে।’
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ইসরাইলি কোনো সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) জন্য ফোকালডাটার পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি এফটির জরিপে তার সর্বনিম্ন অনুমোদন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক মাস আগে এই অনুমোদনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। এই ভোটারদের মধ্যে তার কাজের অনুমোদন ৭২ শতাংশে নেমেছে, যা এফটির জরিপে আরেকটি নতুন রেকর্ড সর্বনিম্ন। অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জরিপে।
জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভুল পথে যাচ্ছে। ৫৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্পের শুল্ক এবং বাণিজ্যনীতির বিরোধিতা করেছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ।
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ এবং নতুন শুল্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। এসব শুল্কের ফলে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক ভোটার।
এদিকে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিকা রিপাবলিকানদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরিপে ৪৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের সক্রিয় ভূমিকা রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন করে তুলছে। ৪৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন—এমন কোনো প্রার্থীকে তারা সমর্থন করতে কম আগ্রহী।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের জন্য লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফোকালডাটা ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এই জরিপটি পরিচালনা করে। জরিপে ১ হাজার ৯১৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত হেরফের হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার ভবন) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের গাফিলতির প্রতিবাদে ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে অভিনব উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণকাজের জন্য আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে যায়। লাইব্রেরির কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন থেকে চার বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এতে দীর্ঘ সময় ধরে হলটির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এমনকি হলের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংযোগ সড়কও নেই। ফলে বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ। এতে প্রশাসনের সমন্বয়সভাকে ‘দায়সারা ও কালক্ষেপণ’ উল্লেখ করে তা বর্জন করা হয়। একই সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কর্মদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং ওয়াশরুমের পাশে অবস্থিত ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন; হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ; হলের মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা এবং হলের চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
স্মারকলিপিতে দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হলেও দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবন অবরোধের কর্মসূচি নেন।
আন্দোলনরত ৫০ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল হাসান বলেন, লাইব্রেরির কাজের কারণে আমাদের মাঠ নষ্ট হয়েছিল। কথা ছিল কাজ শেষ হলে দ্রুত মাঠ বানিয়ে দেওয়া হবে। হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা বারবার জানানোর পর প্রশাসন টেন্ডার দিতে রাজি হলেও শুধু কালক্ষেপণ ও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সব হলে মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা আছে, শুধু আমাদের হলের মাঠ নেই। এমনকি ভেতরে চলাচলের রাস্তাও নেই। বাইক বা যানবাহন বারান্দা দিয়ে চালাতে হয়। অবিলম্বে আমাদের মাঠ ও সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেন, হল সংসদ গঠনের আগে থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা ২৭ আগস্ট উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কারের কাজ শুরুসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ