রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৫ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার ভবন) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের গাফিলতির প্রতিবাদে ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে অভিনব উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণকাজের জন্য আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে যায়। লাইব্রেরির কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন থেকে চার বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এতে দীর্ঘ সময় ধরে হলটির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এমনকি হলের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংযোগ সড়কও নেই। ফলে বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ। এতে প্রশাসনের সমন্বয়সভাকে ‘দায়সারা ও কালক্ষেপণ’ উল্লেখ করে তা বর্জন করা হয়। একই সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কর্মদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং ওয়াশরুমের পাশে অবস্থিত ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন; হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ; হলের মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা এবং হলের চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
স্মারকলিপিতে দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হলেও দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবন অবরোধের কর্মসূচি নেন।
আন্দোলনরত ৫০ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল হাসান বলেন, লাইব্রেরির কাজের কারণে আমাদের মাঠ নষ্ট হয়েছিল। কথা ছিল কাজ শেষ হলে দ্রুত মাঠ বানিয়ে দেওয়া হবে। হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা বারবার জানানোর পর প্রশাসন টেন্ডার দিতে রাজি হলেও শুধু কালক্ষেপণ ও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সব হলে মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা আছে, শুধু আমাদের হলের মাঠ নেই। এমনকি ভেতরে চলাচলের রাস্তাও নেই। বাইক বা যানবাহন বারান্দা দিয়ে চালাতে হয়। অবিলম্বে আমাদের মাঠ ও সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেন, হল সংসদ গঠনের আগে থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা ২৭ আগস্ট উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কারের কাজ শুরুসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে মারধরের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে মো. আলতাব হোসেন (৬০) নামের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার রাতে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশাপাশি তিনি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে একটি টিনশেডের কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মদিনা সিটি এলাকায় তার দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন। পরিবারের দাবি, একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকেও মারধর করা হয়। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
আলতাবের কাছে তার ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এসময় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। পরে আরিফুল ও তার বাবা কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরিবারের ভাষ্য, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
‘সাদা প্রাইভেট কারে এসে নেশা করতেন’
নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটি থাকায় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। শরিফুলের অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে দিয়ে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার বাম পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলায় সেখানে মাঠের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই স্থানে ওই ব্যক্তিরা নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গ্রেফতার এক
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ঘোষিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করবেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদের পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করতে হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদ খালি রয়েছে, যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।
নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।
এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তিনি অবতরণ করেন।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা। এরপর রাষ্ট্রপতি দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তার প্রথম সফর। সফরের প্রথম দিনে তিনি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
পরবর্তী দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এছাড়া সফরকালে রাষ্ট্রপতি মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
দ্বিতীয় দিন, আগামীকাল সোমবার, রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এরপর তিনি নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। এদিনই রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পুলিশ একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ ওসমান প্রামাণিক (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দবনগ্রাম এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। ওই রাতেই থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি করাতকান্দি গ্রামের ইছহাক প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামি ওসমান প্রামাণিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে চুরির অভিযোগে ২০২৪ সালে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একটি চুরির মামলা রয়েছে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে ৭.৬৫ মডেলের একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি নিয়ে পাওনা টাকা আদায় করতে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দবনগ্রামের দুলাভাই ইসমাইল শেখের বাড়িতে যান ওসমান। টাকা না পেয়ে তিনি পিস্তল দিয়ে দুলাভাইকে হুমকি দেন। এ সময় খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ও কুমারখালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্রসহ তাঁকে আটক করে।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, থানার চত্বরে স্বজনদের আনাগোনা। আসামি ওসমানকে আদালতে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওসমানের এক স্বজন জানান, কোম্পানির টাকা চুরি নিয়ে শ্যালকের সঙ্গে দুলাভাইয়ের বিরোধ ছিল। শনিবার রাতে অস্ত্র হাতে দুলাভাইকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে গিয়েছিলেন ওসমান। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি দুলাভাই ইসমাইল শেখ।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ ওসমান তাঁর দুলাভাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রসহ তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ