মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন রংপুরের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
দর্শনকালে, বিভাগীয় কমিশনার প্রথমে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি কবর জিয়ারত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এ সময় বলেন, "শহীদ আবু সাঈদ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের বুকের রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লবকে সার্থকতার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "নতুন প্রজন্মের উচিত শহীদ আবু সাঈদের জীবন থেকে সাহস ও শিক্ষা গ্রহণ করা। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার সাহসী অবস্থান তরুণদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।"
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার এ উদ্যোগ শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
সফরকালে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের নিদানিয়া এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
এ সময় তিনি দেশের এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা আরও সুসংহত করার জন্য পেশাগত দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও), জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১০ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার (কক্সবাজার এরিয়া), সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।
এই কমিটির অনুমোদন গত ১৮ অক্টোবর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি দ্বারা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক নাজমুল আলম দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল বোখারী মনোনীত হয়েছেন। জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে আলহাজ্ব আহম্মদ ফারুক খোকনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম রাসেল এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুবের যৌথ স্বাক্ষরে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ডাক্তার মাসুদ রানা ভূঁইয়া এবং অধ্যাপক মো. বদিউজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। সহসভাপতি পদে আইনজীবী মো. জামাল উদ্দিন খান মার্শাল, আইনজীবী নাদিরা সুলতানা সুমা এবং ব্যবসায়ী খন্দকার মঈনুল আলম মনোনীত হয়েছেন।
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী মীর সাখাওয়াত হুসাইন দায়িত্ব পালন করবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক মো. আবু লায়েস ভূঁইয়া, আইনজীবী মো. শাহ আলম এবং আইনজীবী মো. মোজাম্মেল হক রয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী আসাদুল হক আতিক দায়িত্ব পেয়েছেন। সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে আইনজীবী শাহরিয়ার ওয়াহিদ ইভান, অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা এবং অধ্যাপক হাবিবুর রহমান মনোনীত হয়েছেন।
দপ্তর সম্পাদক পদে আইনজীবী মো. সারোয়ার আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে প্রশিক্ষক মো. মাহবুবুল আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সিনিয়র শিক্ষক মো. হারুনর রশীদ এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রকৌশলী তারেকুর রহমান দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী শাহাদাত হোসেন মামুন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক মো. মনিরুল আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রকৌশলী ফারুক মিয়া, পেশাজীবীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক সানী, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী মো. ওবাইদুর রশীদ রিপন এবং সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী আজিজুল হক আজিম মনোনীত হয়েছেন।
কমিটিতে শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলীসহ জেলার বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আরও ১১ জনকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটি অনুমোদনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টি নতুন নেতৃত্বের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘শোষিতের কণ্ঠ’-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় শহরের নিরালা মোড়ের পরশমনি সৈয়দ প্লাজার (জি-৫) কার্যালয়ে কেক কাটা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব হাসানুজ্জামিল শাহীন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টাঙ্গাইল ইউনিটের সেক্রেটারি, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জনাব জিয়াউল হক শাহীন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. আরিফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন, দৈনিক নবচেতনার জেলা প্রতিনিধি এসএম আতোয়ার রহমান, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার মো. মোস্তফা মিয়া এবং দৈনিক আমার বার্তার জেলা প্রতিনিধি তারেক রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শোষিতের কণ্ঠের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে শোষিতের কণ্ঠের পথচলা অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন সাংবাদিক মো. আলমগীর হোসেন, শোষিতের কণ্ঠ অনলাইন পোর্টাল, টাঙ্গাইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে।
তবে, সম্পর্কের এই উষ্ণতাকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতা হিসেবে দেখা খুব একটা সম্ভব নয়। বরং ট্রাম্পের পরীক্ষামূলক পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তিত সমীকরণে পাকিস্তান আপাতত কিছুটা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। জো বাইডেনের সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের অবস্থান নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কের প্রকৃত কাঠামোগত উন্নয়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য কিংবা পাকিস্তানের নেতাদের প্রশংসা দিয়ে এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা, ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস এবং বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখার প্রচলিত মার্কিন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনার প্রবণতা।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত, সামরিক শক্তির সরাসরি প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক চাপকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা স্পষ্ট। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলন, ধনী শ্রেণি-বিশেষত প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়ারদের স্বার্থ, শুল্ককে ভূরাজনৈতিক চাপ হিসেবে ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করা।
এই নীতির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছে পাকিস্তান। অতীতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারী কিংবা সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ, এবারও তেমন সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে দেশটি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিচিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার ভাবমূর্তি বেড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ—ওয়াশিংটনও সম্ভবত এই বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। একই সঙ্গে ভারতের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরির ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে একটি সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
জনসংখ্যার দিক থেকে বড় এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের ভূকৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরান, আরব অঞ্চল, মধ্য এশিয়া, রাশিয়া ও চীনের মধ্যবর্তী এই অবস্থান দেশটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাকিস্তানের সক্ষমতা যেমন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহযোগীতে পরিণত করে, তেমনি দেশটির দুর্বলতা ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিও ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিশেষ করে পাকিস্তানে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইসলামাবাদকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দিলে দেশটিতে মার্কিন প্রভাব বজায় রাখার সুযোগও সংকুচিত হবে। এ কারণেই পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক ধরে রাখা ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বহর আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া নর্থরপ গ্রুম্যানকে এপিজি-৬৬ ও এপিজি-৬৮ রাডারের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তার জন্য ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের একটি সামরিক বিক্রয় চুক্তি দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটির আওতায় পাকিস্তানসহ ২১টি দেশ রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ছে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, এসব খাতে পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানিপণ্যের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাও এ সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আঞ্চলিক, মার্কিন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা আন্তদেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের সহযোগিতা প্রয়োজন ওয়াশিংটনের। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংকট দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্পের প্রশংসার আড়ালে পুরোনো মার্কিন কৌশল
তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতি ও প্রকাশ্য প্রশংসার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতির ধারাও সক্রিয় রয়েছে। চীনবিষয়ক কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং ভারতের প্রতি ইতিবাচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে এই ধারাটি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ করতে পারে।
এর একটি লক্ষণ হলো, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ইতিবাচক বক্তব্য থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আন্ডার সেক্রেটারি পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার পাকিস্তান সফর না হওয়া। একটি প্রকৃত কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিচারে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
প্রশ্ন হলো, চীন ও ভারতকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন কি দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও? মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক হুমকি। এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকারে চীন এখনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাকিস্তানকে নিয়ে মার্কিন নীতিও শেষ পর্যন্ত চীনকে মোকাবিলার বৃহত্তর পরিকল্পনা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
ট্রাম্প-পরবর্তী সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের জন্য ট্রাম্প এখনো এমন কোনো অসাধারণ কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করেননি, যা হারানোর আশঙ্কায় ইসলামাবাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। তার ব্যক্তিনির্ভর ও অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তপ্রসূত পররাষ্ট্রনীতির বড় অংশ তার বিদায়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু তাতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং তার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ভাবমূর্তির ক্ষয়ও পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার নতুন যুক্তি তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প-পরবর্তী সময়েও মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সম্পর্ককে অপরিহার্য নির্ভরশীলতায় পরিণত করা উচিত নয়। পাকিস্তানের উচিত সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানো, কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রয়োজনীয়, কিন্তু অপরিহার্য নয়। পাকিস্তানের কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পর্ক বজায় রাখা, সহযোগিতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষা করা।
লেখক: তৌকির হুসেইন একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো।
(পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ