মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে।
তবে, সম্পর্কের এই উষ্ণতাকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতা হিসেবে দেখা খুব একটা সম্ভব নয়। বরং ট্রাম্পের পরীক্ষামূলক পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তিত সমীকরণে পাকিস্তান আপাতত কিছুটা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। জো বাইডেনের সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের অবস্থান নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কের প্রকৃত কাঠামোগত উন্নয়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য কিংবা পাকিস্তানের নেতাদের প্রশংসা দিয়ে এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা, ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস এবং বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখার প্রচলিত মার্কিন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনার প্রবণতা।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত, সামরিক শক্তির সরাসরি প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক চাপকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা স্পষ্ট। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলন, ধনী শ্রেণি-বিশেষত প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়ারদের স্বার্থ, শুল্ককে ভূরাজনৈতিক চাপ হিসেবে ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করা।
এই নীতির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছে পাকিস্তান। অতীতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারী কিংবা সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ, এবারও তেমন সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে দেশটি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিচিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার ভাবমূর্তি বেড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ—ওয়াশিংটনও সম্ভবত এই বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। একই সঙ্গে ভারতের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরির ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে একটি সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
জনসংখ্যার দিক থেকে বড় এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের ভূকৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরান, আরব অঞ্চল, মধ্য এশিয়া, রাশিয়া ও চীনের মধ্যবর্তী এই অবস্থান দেশটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাকিস্তানের সক্ষমতা যেমন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহযোগীতে পরিণত করে, তেমনি দেশটির দুর্বলতা ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিও ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিশেষ করে পাকিস্তানে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইসলামাবাদকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দিলে দেশটিতে মার্কিন প্রভাব বজায় রাখার সুযোগও সংকুচিত হবে। এ কারণেই পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক ধরে রাখা ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বহর আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া নর্থরপ গ্রুম্যানকে এপিজি-৬৬ ও এপিজি-৬৮ রাডারের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তার জন্য ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের একটি সামরিক বিক্রয় চুক্তি দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটির আওতায় পাকিস্তানসহ ২১টি দেশ রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ছে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, এসব খাতে পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানিপণ্যের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাও এ সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আঞ্চলিক, মার্কিন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা আন্তদেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের সহযোগিতা প্রয়োজন ওয়াশিংটনের। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংকট দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্পের প্রশংসার আড়ালে পুরোনো মার্কিন কৌশল
তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতি ও প্রকাশ্য প্রশংসার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতির ধারাও সক্রিয় রয়েছে। চীনবিষয়ক কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং ভারতের প্রতি ইতিবাচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে এই ধারাটি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ করতে পারে।
এর একটি লক্ষণ হলো, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ইতিবাচক বক্তব্য থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আন্ডার সেক্রেটারি পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার পাকিস্তান সফর না হওয়া। একটি প্রকৃত কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিচারে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
প্রশ্ন হলো, চীন ও ভারতকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন কি দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও? মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক হুমকি। এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকারে চীন এখনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাকিস্তানকে নিয়ে মার্কিন নীতিও শেষ পর্যন্ত চীনকে মোকাবিলার বৃহত্তর পরিকল্পনা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
ট্রাম্প-পরবর্তী সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের জন্য ট্রাম্প এখনো এমন কোনো অসাধারণ কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করেননি, যা হারানোর আশঙ্কায় ইসলামাবাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। তার ব্যক্তিনির্ভর ও অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তপ্রসূত পররাষ্ট্রনীতির বড় অংশ তার বিদায়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু তাতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং তার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ভাবমূর্তির ক্ষয়ও পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার নতুন যুক্তি তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প-পরবর্তী সময়েও মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সম্পর্ককে অপরিহার্য নির্ভরশীলতায় পরিণত করা উচিত নয়। পাকিস্তানের উচিত সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানো, কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রয়োজনীয়, কিন্তু অপরিহার্য নয়। পাকিস্তানের কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পর্ক বজায় রাখা, সহযোগিতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষা করা।
লেখক: তৌকির হুসেইন একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো।
(পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে রাহিমা তাসনিম নামের এক ভুক্তভোগী নারী যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে সুবিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বামী শাহ মোহাম্মদ শামস উদ্দিন শিপন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরকীয়া, একাধিক বেআইনি বিবাহ, অব্যাহত শারীরিক নির্যাতন, অশালীন কুপ্রস্তাব এবং কোটি টাকার প্রতারণার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া (নুরানী ১১৪/৩) এলাকার বাসিন্দা মো. মিন্টু মিয়া ও নুরজাহান বেগমের কন্যা রাহিমা তাসনিম জানান, ২০১০ সালের ৩ মার্চ প্রেমের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে শাহ মোহাম্মদ শামস উদ্দিন শিপনের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
এক বছর পর পারিবারিকভাবে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার জীবনে তাদের ৩টি সন্তান জন্ম নেয়, যার মধ্যে একজন মারা গেলেও বর্তমানে দুই সন্তান রয়েছে।
রাহিমা তাসনিম বলেন, বড় ছেলের জন্মের পর থেকেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। বিয়ের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন সময় কয়েক লাখ টাকা ও বিয়ের সোনা-গয়না দেওয়া হয়, যা বিক্রি করে স্বামী নেশায় ও পরকীয়ায় উড়িয়ে দেন। এমনকি যৌথ ব্যবসা ‘সান টেলিকম টেকনো শোরুম’ (করিম উল্লাহ মার্কেট, ৩য় তলা)-এর নামে চাপ সৃষ্টি করে তার বোনের স্বামীর নিকট থেকে দুই দফায় ৯ লাখ টাকা ধার নেন তার স্বামী, যা আর ফেরত দেননি। অপরদিকে, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ২০১৭ সালে ইশিতা নওশিন নামের এক মেয়েকে ২য় বিয়ে করেন শিপন, যা ৩ মাস পর ডিভোর্সে গড়ায়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে প্রতিবাদ করায় মারধর করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। ২০২৫ সালে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দিয়ে রাহিমাকে তালাকের ভয় দেখিয়ে গোপনে ৩য় বিয়ে করেন তিনি।
চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাহিমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার অজুহাতে ভাসুর আনোয়ার হোসেন, মাছুম, সালেখ মিয়া ও আলেক মিলে শিপন কে হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ১০ লাখ টাকা নতুন যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিলে ৩য় স্ত্রীসহ সংসার করার শর্ত দেন তারা। গত ১ অক্টোবর লাক্কাতুড়া এলাকায় ছেলের সাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় শিপন রাহিমার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন, পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
রাহিমা তাসনিম আরও বলেন, তার ভাসুর আনোয়ার হোসেন (যিনি আড়ংয়ের এক কর্মীকে প্রতারণার মামলায় বাধ্য হয়ে ২য় বিয়ে করেন) এবং সালেখ মিয়া স্বামীর অবর্তমানে বারবার শারীরিক সম্পর্কের কু-প্রস্তাব দেন তাকে।
এছাড়া আনোয়ারের বন্ধু বেলাল আহমদ বাড়ির গেটের সামনে অশালীন ইঙ্গিত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সহযোগিতা করতো স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয়ে অপকর্ম চালানো চক্রটি। লন্ডন প্রবাসী ভাসুরদের বিচার দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।
তৎকালীন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদ আব্দুল্লাহর কাছে বিচার চেয়েও কোনো নিরপেক্ষতা পাননি বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী রাহিমা তাসনিম বলেন, "আজ আমি নিরুপায় হয়ে আপনাদের মাধ্যমে দেশের প্রশাসন, মানবাধিকার সংস্থা ও সচেতন সমাজের কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা ও সুবিচারের দাবি জানাচ্ছি।" তিনি স্বামীর অন্যায় ও ৩য় স্ত্রীর পথ ছেড়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রাপ্য মর্যাদায় সংসারে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়া ও ইরাক বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারেক নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই সংঘাতের অনেক ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতি’ রয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মেনে নিয়েছেন।
মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোখায় অনুষ্ঠিত কাতার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে আল জাজিরার ডিপ্লোমেটিক এডিটর জেমস বে-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
টম ব্যারেক সতর্ক করে বলেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পক্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর পারস্পরিক ‘অবিশ্বাস’ এই শান্তির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারেক।
টম ব্যারেক জানান, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চায়। কিন্তু আলোচনা শুরুর পর থেকেই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আস্থার অভাব। তার মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও আইআরজিসিকে বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নয়।
হরমুজ প্রণালীর সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে মার্কিন দূত বলেন, হরমুজ প্রণালীতে একটি যুদ্ধবিরতি এই অঞ্চলভিত্তিক বৃহত্তর চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। এই চুক্তির মধ্যে প্রণালীতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ ইরানি জনগণের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দুর্ভোগের মাত্রা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকট নিরসনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই একমাত্র সমাধান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতের এই বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই বিশ্বাসের ঘাটতি দূর করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানোর জন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
তিনি উল্লেখ করেছেন, মাঠ প্রশাসন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত এলসিএস (LCS) শ্রমিকদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের এ চেক বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের অর্জন পৌঁছাতে প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার বিকল্প নেই।
তিনি যোগ করেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় কুলিয়ারচরের ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল ১১টায় ছয়সূতী জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরেকটি একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
পরে কুলিয়ারচরের কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলসিএস শ্রমিকদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বক্তব্যকে ঈমানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক মন্তব্য করেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে, মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের পূজা-পার্বণকে নিজেদের উৎসব হিসেবে দাবি করা বা এতে অংশগ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এই কথা বলেন। মাওলানা আশরাফুল হক উল্লেখ করেছেন, দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব চলছে। সরকারকে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। তবে, হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ, তাদের উৎসবকে নিজেদের বলে দাবি করা কিংবা ‘সবার উৎসব’ বলা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব তার’ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান নেজামে ইসলাম পার্টির এই নেতা। একই সঙ্গে তিনি এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মাওলানা আশরাফুল হক বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগান দিয়েছিলেন, যা তাঁর মতে ঈমানবিরোধী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার টাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেওয়া বক্তব্য এবং জামায়াত নেতাদের ‘পূজা-রোজা এক’ বলার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
নতুন বাংলাদেশে বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নেতাদের মতো ইসলামবিরোধী বক্তব্য জাতি প্রত্যাশা করে না বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা আশরাফুল হক।
সভায় দলের মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি কামরুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব মুফতি আলাউদ্দিন কাসেমী এবং সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারীসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ