মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
আজ বিকেল ৩ টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকর্তা কামিলা পার্টিকা এবং রুহুল কবির রিজভীর একান্ত সচিব কাজী নজরুল ইসলাম ও সহকারী একান্ত সচিব জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজবাড়ীর ৬৬টি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির কার্যক্রমকে উন্নত ও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. তারিফ-উল-হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাজবাড়ীর উপ পরিচালক মো. আজমীর হোসেন। এ সময় এনজিও বিষয়ক নেত্রী শেহনাজ ইসলাম (জুলিয়া) উপস্থিত ছিলেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৬১টি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির জন্য সাধারণ অনুদান হিসেবে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯শ’ টাকা এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার পাঁচটি সমিতির জন্য ১ লাখ ২১ হাজার ৪শ’ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। ফলে মোট ৬৬টি সমিতির জন্য ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৩শ’ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির সংখ্যা ২৪২টি। এর মধ্যে সক্রিয় সমিতির সংখ্যা ১৯০টি। গত বছর জেলায় অনুদানের জন্য ১১৮টি সমিতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১০৫টি সমিতির জন্য ক, খ ও গ শ্রেণিতে সাধারণ অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬শ’ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া, দু’টি সমিতির জন্য ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে এক লাখ টাকা এবং ৬টি সমিতির জন্য স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২ লাখ ৮ হাজার ২শ’ টাকার চেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড এবং কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা পরিচালনার জন্য নতুন একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই উৎস থেকে মেশিন এনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও সরবরাহের মাধ্যমে কয়েকটি শাখায় ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো থেকে ওই মেশিনগুলো সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
রোগীদের নিরাপত্তা, পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে FibroScan প্রযুক্তির একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক হিসেবে KNS Canada (BD)-এর সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করে। আলোচনার ফলস্বরূপ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন সমঝোতা গড়ে ওঠে এবং অনুমোদিত প্রযুক্তির মাধ্যমে FibroScan সেবা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রোগীদের আস্থা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে অনুমোদিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, যথাযথ ক্যালিব্রেশন, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষিত ও যোগ্য অপারেটরের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড এবং KNS Canada (BD) যৌথভাবে FibroScan সেবার প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখার জন্য এবং রোগীদের উন্নত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদানে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে। কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে। অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ১৯ অক্টোবর উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে, ২৬ অক্টোবর রাতে প্রতিবেদনটি উন্মুক্ত করা হয়। তদন্ত কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারণা বা জবরদস্তির শিকার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য ও সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। তাঁদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো।
তদন্ত কমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করেছে। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যদিও ভ্রমণের উদ্দেশ্য কাগজপত্রে বেসামরিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল, কমিশনের সামগ্রিক তদন্তে দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যবস্থার আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
কমিশনের তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্ট ও সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কারখানার শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো।
নিয়োগকারী এজেন্টরা নিজেদের বৈধ বা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। চাকরির প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো হতো। এরপর ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা করে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে এজেন্টরা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাশিয়ায়ও যেত।
বাংলাদেশিদের নিয়ে পাওয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যেও একই ধরনের প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেক বিদেশি নাগরিককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এসব চুক্তি রুশ ভাষায় লেখা হওয়ায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারেননি। তাঁদের কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত বেসামরিক চাকরির পরিবর্তে তাঁদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে হবে।
এক বাংলাদেশি ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন স্থানে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল সম্পূর্ণ রুশ ভাষায়। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীতে নিয়োগের পর বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় এবং বিপজ্জনক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকে নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ। চাকরির আশায় বিদেশে যেতে কেউ কেউ নিয়োগ ফি হিসেবে বিপুল অর্থ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করেছেন কিংবা সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। পরে স্বজনের মৃত্যুসংবাদ পেলেও কোনো কোনো পরিবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও অনেক পরিবার নির্ভরযোগ্য তথ্য পায়নি। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগকারী এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবারের ফোনও ধরত না।
তদন্ত কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের উচ্চমাত্রার সমন্বয়ের প্রমাণ পেয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা, আর্থিক ও সামাজিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া এবং জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর মতো কর্মকাণ্ড বিদেশি নাগরিকদের পাচার করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। কমিশন রাশিয়াকে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে ভুক্তভোগীদের মুক্ত করতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ ঠেকাতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সুপারিশও করেছে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, গত বছর ব্র্যাকের পক্ষ থেকেও রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের নিয়োগের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। তখনই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর অনেক বাংলাদেশিকে যুদ্ধে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে কাজের ভিসা নিয়ে, আবার অনেকে পর্যটক ভিসায় সেখানে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন করে কোনো বাংলাদেশি যেন রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গত দুই বছরে বৈধভাবে রাশিয়ায় যাওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া জরুরি। তাঁদের মধ্যে কতজন এখনো সেখানে কাজ করছেন, কতজন যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং কতজন বেঁচে আছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, পর্যটক ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, কতজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং কতটি পরিবার স্বজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে রাশিয়ার দূতাবাস বাংলাদেশিদের কতটি ভিসা দিয়েছে, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের বিস্তারিত অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সাংগঠনিক সব পদ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল। সম্প্রতি তাকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় মহানগর সংগঠন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে, ইসমাইলকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্ত্রীর মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নারীর স্বামী। এ নিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইসমাইলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে ওই নারী প্রাণের ভয়ে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ওই নারীর ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো নজরদারিতে রেখেছিলেন তার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী স্বামী। সেই প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনরা তাদের অনৈতিক সম্পর্কের যাবতীয় প্রমাণাদি মহানগর জামায়াতকে সরবরাহ করেন।
জামায়াতের দলীয় তদন্ত কমিটি সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রতিবেদন মহানগরকে প্রদান করে। এর পর ৭ অক্টোবর ইসমাইলকে চান্দগাঁও থানা আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ৮ অক্টোবর ইসমাইলের পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় জামায়াত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
এদিকে, ইসমাইল এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে নিজেকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ