০১:৪৬ এম
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে যুবক দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্নার (২১) ওপর হামলা ও তার হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী অভিযোগ করছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে তারা মানববন্ধন করেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালের সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় মানববন্ধনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
এই অবরোধের ফলে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
এসময় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামান্য বিরোধের ফলে একজন যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন করার মতো নৃশংস ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসব করেছে। বক্তারা নগরীতে মাদকের বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে চৌমাথা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মুন্নার সহপাঠীসহ প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
জানা গেছে, গত ১ জুন সকালে নবগ্রাম রোডের ললিত দাসপোল এলাকায় নির্মাণসামগ্রীর বালু রাখা নিয়ে পূর্বের বিরোধের জেরে মুন্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় আহত মুন্নার মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিলন খান, রানা খান, হিমেল, কালাম খান ও নার্গিস বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
এদিকে ঘটনার পর বরিশাল মহানগর বিএনপিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতারা বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন