ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

'শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পশুপালনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরের মানুষের পাশে থাকবে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন'


ব্রহ্মপুত্র নদ পেরিয়ে যেতে হয়। বর্ষার সময় যোগাযোগ আরও কঠিন। চারদিকে নদী আর বালুচর রয়েছে। এমন দুর্গম জনপদে প্রায় ৯ হাজার মানুষের বসবাস। এটি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ফেইচকার চর।

চরের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কৃষি ও পশুপাখি পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দিনভর আয়োজিত সমাবেশে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা চরবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়েকোবাদ, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সমাবেশে চরবাসীর জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কৃষি এবং পশুপাখি পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, চরের মানুষের হাতে যে সম্পদ রয়েছে, তার সঠিক পরিচর্যা করা গেলে তা-ই তাঁদের পরিবারের আয় বাড়ানোর বড় মাধ্যম হতে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ গরু বিভিন্ন চরে পালন করা হয়। জেলায় সাড়ে ৭ লাখ ছাগলের মধ্যে চরে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ।

এছাড়া জেলায় প্রায় ১৬ হাজার মহিষ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মহিষ চরাঞ্চলে পালন করা হয়। হাঁস-মুরগির সংখ্যাও চরে কম নয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, বিপুলসংখ্যক হাঁস-মুরগি চরাঞ্চলের মানুষের পারিবারিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

চরের মানুষের এই বিপুল পশুসম্পদকে আরও উৎপাদনশীল করার ওপর গুরুত্ব দেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, শুধু পশু পালন করলেই হবে না, রোগ প্রতিরোধ, খাবার, বাসস্থান এবং নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে চরবাসীকে সচেতন হতে হবে।

সমাবেশে পশুপাখিকে রোগমুক্ত রাখতে সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বলা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান চরবাসীকে পশুর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়মিত টিকা এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পশুর মৃত্যুহার কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

চরবাসীর অনেকে জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি পালন করে আসছেন। কিন্তু পশুর রোগ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া, টিকা দেওয়া এবং উন্নত পরিচর্যার বিষয়ে তাঁদের অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ নিয়মিত পাওয়া গেলে পশুপালন আরও বাড়াতে চান তাঁরা।

আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের

ফেইচকার চরের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটিও হলো শিক্ষা। নদীবিচ্ছিন্ন এই চর থেকে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন। ফলস্বরূপ, অনেক শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

সমাবেশে চরাঞ্চলের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চরবাসীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রতিকূলতা থাকলেও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে এবং কোনো শিশু যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।

বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ

চরের আরেকটি বড় সামাজিক সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ। দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন: চিলমারী–রৌমারী নৌপথে ফেরি ও কর্মী উধাও, কোটি টাকার উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

সমাবেশে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে একটি মেয়ের শিক্ষা বন্ধ করে দেয় এবং তার স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনে নানা ঝুঁকি তৈরি করে। পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

চরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সমাবেশে আলোচনা হয়। নদীবেষ্টিত এবং দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার অন্য এলাকার মানুষের মতোই রয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকাদান, পুষ্টি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, চরবাসীকে শুধু সহায়তা দিয়ে নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাঁদের হাতে থাকা জমি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত: শৃঙ্খলা ও সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ -পুলিশ সুপারের

তিনি বলেন, “চরের মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের শ্রম এবং তাঁদের সম্পদ। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে এগুলোই তাঁদের পরিবারের আয়ের বড় উৎস হতে পারে। সময়মতো ভ্যাকসিন, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করবে।”

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চরবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জীবিকার উন্নয়ন—সবকিছুকে একত্রে দেখতে হবে। শুধুমাত্র একটি সমস্যা সমাধান করে চরবাসীর জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “চরের মানুষ যেন নিজেদের এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় করা হবে।”

দিনভর এই কর্মসূচিকে ঘিরে ফেইচকার চরের মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। তাঁদের প্রত্যাশা, এক দিনের সমাবেশে আলোচনা সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পশুপালন এবং জীবিকার উন্নয়নে নিয়মিত সরকারি সেবা পৌঁছাবে দুর্গম এই চরাঞ্চলে।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪১.৪ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


আগস্টের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪১.৪ শতাংশ

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে ১ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এই পরিমাণটি ২০২৫ সালের একই সময়ে আসা ১ দশমিক ২৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের ১৩ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চার দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৪ দশমিক ৬৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৭৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবাহ দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৈদেশিক খাতকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।

এছাড়া, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবারের আয় এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এসব পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী গতি বজায় রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এ প্রবণতায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজ পরিদর্শনে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজ পরিদর্শনে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ এমভি রাশি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল। তিন দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে জাহাজটি পরিদর্শন করেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের জানিয়েছিলেন, জাহাজের যে ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে সোমবার তারা প্রবেশ করেননি। মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশ করে বিস্তারিত তদন্তের কাজ শুরু করবেন বলেছেন তারা।

এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত নয় শ্রমিকের একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সীতাকুণ্ড থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে আমদানি করা জাহাজ এমভি রাশির একটি ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিক প্রাণ হারান।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন অসুস্থ হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য দুটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও, জাহাজের ভেতরে বিষযুক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা প্রথম তিন দিন সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।

জাহাজটি গ্যাসমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলের ওপর চাপ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে, শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।

কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমদ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বিশেষজ্ঞ কমিটি পাঠানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির কয়েকটি চেম্বারে গ্যাস থাকার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটিকে গ্যাসের প্রকৃতি, লিকেজের উৎস এবং তা বন্ধের বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। তিন সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পর, বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ পরিদর্শন করে। এ সময় অন্যান্য তদন্ত কমিটির কিছু কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকে প্রবেশ করেননি তারা।

মঙ্গলবার ওই ট্যাংকে প্রবেশ করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক উল্লেখ করেছেন, উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল সহ অন্যান্য তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার একটি রেসকিউ বিশেষজ্ঞ দল জাহাজের ওই ট্যাংকে প্রবেশ করবে। তারা ট্যাংকটি সম্পূর্ণ বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করার পর বরাবরের মতো তদন্ত করবে। জাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা গেলে, তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে।

এদিকে, গত শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর একজন আবেদনকারী ইয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। এতে ইয়ার্ডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

এ অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘যেকোনো দুর্ঘটনার পরে মালিকদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। নানা মহল পেছনে লেগে যায়। মালিকপক্ষ কি ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে? দুর্ঘটনায় কি মালিকদের লাভ আছে? দেশের কোনো সেক্টরে দুর্ঘটনা ঘটে না? কিন্তু শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটলে যেন একটি তোলপাড় হয়ে যায়। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

সীতাকুণ্ড থানায় নয় শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, নিহত এক শ্রমিকের পরিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। কিন্তু তিনি বাইরে থাকার কারণে বাদীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ জাহাজ এলএনজি কেনার উদ্যোগ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


৫ জাহাজ এলএনজি কেনার উদ্যোগ সরকারের

দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচটি জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, সম্পর্কিত প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দ্বারা প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য এই এলএনজি ক্রয় করা হবে। প্রস্তাবে উল্লেখিত পাঁচটি তারিখ হলো ২৩-২৪ আগস্ট, ২৬-২৭ আগস্ট, ২৯-৩০ আগস্ট, ১-২ সেপ্টেম্বর এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বর, যেখানে এই পাঁচটি সময়ে পাঁচটি জাহাজ এলএনজি সরবরাহ করা হবে।

সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মূল্যসূচকের ভিত্তিতে এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১৫.৫০ থেকে ২১.৮৮ মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য, সরবরাহ ঝুঁকি এবং আলোচনা ভিত্তিক এই দর নির্ধারিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৪ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৪ শতাংশ

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৮০টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২৮টি সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের সম্পর্কে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (মে-জুলাই) প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বৈঠকে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৮০টি (৭৪ শতাংশ) বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ২৮টি (২৬ শতাংশ) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এছাড়া, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই মেয়াদে মোট ৪৩টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৭টি নীতি/কর্মকৌশল/কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদিত হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, একই মেয়াদে ৩টি আন্তর্জাতিক চুক্তি/প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে ১টি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ২টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%