বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানী গুলশানের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাসটি রওয়ানা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ তার প্রথম ফেনী সফর। তিনি জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলার উন্নয়ন প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক হাজার ২৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, সোলার বিদ্যুৎ, কৃষক ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা—এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর ২টায় তার ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট গোলাম ফারুক শাহীন, মরহুম মাহফুজ উল্লাহর রচিত 'বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টরি' (Begum Khaleda Zia: Her Life, Her Story) বইটি জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড লাইব্রেরীর সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে লাইব্রেরীতে বইটি প্রদান করা হয় এবং ৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
জাতিসংঘের সেই স্বীকৃতি পত্র এবং বইটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার চিঠি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন গোলাম ফারুক শাহীন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাতের সময়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে বাংলাদেশে ফেরার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বইটি তুলে দেন। তারেক রহমান বইটি গ্রহণ করে শাহীনকে ধন্যবাদ জানান এবং দলের জন্য তার কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
গোলাম ফারুক শাহীন জানিয়েছেন, ২০২২ সালে বইটি জাতিসংঘের লাইব্রেরীতে দেওয়ার পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তার বক্তব্য, সে সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে বিষয়টি প্রকাশ করলে তার দেশের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও সুচিকিৎসার পাশাপাশি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানাচ্ছিলেন।
২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক থেকে পাঠানো চিঠিতে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড লাইব্রেরীর গিফটস লাইব্রেরীয়ান এবং ডিপার্টমেন্ট অফ গ্লোবাল কমিউনিকেশনসের আউটরিচ ডিভিশনের কর্মকর্তা জ্যানিন পিকার্ড, গোলাম ফারুক শাহীনকে বইটি গ্রহণের বিষয়টি জানান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, 'বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টরি' বইটি লাইব্রেরীর সংগ্রহে একটি মূল্যবান সংযোজন হবে। বইটি উপহার দেওয়ার জন্য শাহীন এর উদ্যোগ ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে তার প্রতি সম্মান ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে লেখা এই বইটি বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড লাইব্রেরীর সংগ্রহে যুক্ত হওয়ার ফলে বইটি এখন আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্যও সংরক্ষিত থাকবে।
নিউইয়র্কের ৪০৫ ইস্ট ৪২ স্ট্রিটে অবস্থিত ড্যাগ হ্যামারশোল্ড লাইব্রেরীতে বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাতিসংঘের কার্যক্রম ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ও নথি সংরক্ষিত রয়েছে।
গোলাম ফারুক শাহীন বলেন, নিজের তাগিদ থেকেই তিনি বইটি জাতিসংঘের লাইব্রেরীতে দিয়েছেন। তার মতে, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করতে আসা দেশ-বিদেশের গবেষকরা বইটি থেকে তথ্য ও উপাত্ত পাবেন এবং গবেষণায় তা ব্যবহার করতে পারবেন।
শাহীন আরও জানান, জাতিসংঘের সদরদপ্তরে এই প্রথম বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্র প্রধানের বই সংরক্ষিত হলো। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বইটির সার্টিফিকেট তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিকট হস্তান্তর করতে পেরে তিনি পরমকরুনাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রতিটি জেলায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই নির্দেশনা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে কিউআরটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা মোকাবিলা করার জন্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় কিউআরটি গঠন করা আবশ্যক। এই টিমে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), নৌ পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, কিউআরটি সদস্যদের অংশগ্রহণে নিয়মিতভাবে মাদক ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় সমন্বিত অভিযান ও মহড়ার আয়োজন করতে হবে। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বিতভাবে দ্রুত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, এসব অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও ফোর্সের পরিসংখ্যান এবং উদ্ধার ও আটকের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠাতে হবে।
চিঠির কার্যার্থে সব জেলার পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া এপিবিএন, শিল্প পুলিশ, পিবিআই, হাইওয়ে পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে একত্রিত করে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত মাঠে নামানোর জন্য একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সহ জেলার সকল অভ্যন্তরীণ রুট এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের আহ্বানে এ ধর্মঘটে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখার দাবি করেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনও ছাড়া হয়নি। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করাই তাদের দাবি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বাহুবলসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার গণপরিবহনও বন্ধ থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৭৭ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ১৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ঢাকার বাতাসের মানও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসাবে বিবেচিত হয়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় ১৭৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জাকার্তা। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর ১৭৬ স্কোর নিয়ে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের ঢাকা ১৭৪ স্কোর নিয়ে এবং চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি ১৬৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে। কলকাতা, ভারতের আরেকটি শহর, ১৬১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ বলে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হচ্ছে, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ