বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০১ এম
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৭৭ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ১৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ঢাকার বাতাসের মানও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসাবে বিবেচিত হয়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় ১৭৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জাকার্তা। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর ১৭৬ স্কোর নিয়ে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের ঢাকা ১৭৪ স্কোর নিয়ে এবং চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি ১৬৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে। কলকাতা, ভারতের আরেকটি শহর, ১৬১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ বলে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হচ্ছে, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘আব্দুল হাদী রতন স্মৃতি ফুটবল একাডেমি’ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে নানা ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রগতি স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে এসএসসি ব্যাচ-২০২২ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
পুরস্কার বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মাদক ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশ্বাস দেন।
আব্দুল হাদী রতন স্মৃতি একাডেমির সভাপতি লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ এবং কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন। ফাইনাল খেলাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন কাউখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক ও দীপক দাস।
এর আগে কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন সেট, দাবা ও হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এমপি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে এবং শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আগামী এক বছরে ১১ হাজার শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে ১০ হাজার শিমুলের চারা এবং এক হাজার মসলিন তুলার চারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোরের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর সেনানিবাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সেনানিবাসের আর্মি মেডিকেল কলেজের সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া, সেনানিবাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়াস-এর প্রিন্সিপাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আলী, আর্মি মেডিকেল কলেজের ডিডি (এডমিন) মেজর (অব.) মোসলেম উদ্দিন সিকদার, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যশোরে জগদীশপুর তুলা খামারের কটন এগ্রোনমিস্ট ড. মো. জোবায়ের ইসলাম তালুকদারসহ সেনানিবাসের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভার পর যশোর আর্মি মেডিকেল কলেজের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে আটক শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে তিনি এ তথ্য একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান।
মাহদী আমিন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে খুবই সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন যে, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
তিনি আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান এবং সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ আটক করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই তথ্য হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আলামাতার রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাংক রয়েছে।
টাইগ্রে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ করার যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি ভাঙার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। সংঘর্ষের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও পড়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান লালিবেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৩ জন পর্যটক আটকে আছেন। লালিবেলায় থাকা এক ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে জানান, পুরো সপ্তাহজুড়ে তারা লড়াই, গুলির শব্দ ও ভারী কামানের গোলার শব্দ শুনেছেন। শহরে সেনাবাহিনীর বড় উপস্থিতি রয়েছে বলেও তিনি জানান। লালিবেলা ১৩ শতকে পাথর কেটে তৈরি ১৩টি গির্জার জন্য বিখ্যাত। অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান।
গত বুধবার বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ পর্যটক শহরটি ছাড়তে পারেননি। তবে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লালিবেলার আশপাশের সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী ও আমহারা অঞ্চলের একটি মিলিশিয়া জড়িত। ওই মিলিশিয়া টাইগ্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে জোট করেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা আরো কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে সাত সদস্যের একটি জোট গঠন করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল রাজধানী আদ্দিস আবাবায় থাকা সরকারকে সরিয়ে দেওয়া। এই সংঘাতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়াও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইথিওপিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
টাইগ্রে ও আশপাশের এলাকায় সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না বিবিসি। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সেখানে কী ঘটছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বা টিপিএলএফ বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলছে, টাইগ্রের বাহিনীই প্রথম হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, টাইগ্রের বাহিনী বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হামলা শুরু করে। টিপিএলএফের যোদ্ধারা আফার অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও লড়াই করছে। আফার ইথিওপিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়াকে জিবুতি ও দেশটির বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে টাইগ্রেতে তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন। আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত শহর ও আশপাশের এলাকায় লড়াই হয়েছে। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু হামলায় আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মাত্র তিন দিন বয়সী শিশুও রয়েছে। নিহত হয়েছেন নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষও। ওই চিকিৎসক জানান, শহরের বাজারে একটি হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন।
লড়াই শুরুর পর টাইগ্রেতে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ রয়েছে। তবে এসব সেবা বন্ধের নির্দেশ কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আলামাতার একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, সেখানে মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। লড়াই থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় শহরটি এখন ভিড়ে পূর্ণ। ওই ব্যক্তি বলেন, আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা হেঁটে আলামাতায় আসছেন। কেউ কেউ এক ঘণ্টা পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন। তারা ভেবেছিলেন, শহরটি নিরাপদ হবে। কিন্তু শহরে ব্যাংকিং সেবা, টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ফোন—কোনোটিই চালু নেই। ফলে মানুষ বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।
লালিবেলায় থাকা ব্রিটিশ পর্যটক জানান, সেখানে অনলাইন ব্যাংকিং চালু থাকলেও নগদ টাকার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই দিনে লালিবেলার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে বিমানবন্দর এখনো সামরিক বাহিনী ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটি আবার চালু হতে পারে বলে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় মানুষ এখনো ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। শহরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে এবং বড় একটি সামরিক দলকে উত্তরের দিকে যেতে দেখা গেছে।
বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার সময় লালিবেলায় ৫৩ জন পর্যটক ছিলেন। পরে কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে বিমানপথে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগের দিন আরো পাঁচজন একটি বেসরকারি সংস্থার গাড়িবহরে করে শহর ছেড়েছেন। লালিবেলায় এখনো আটকা পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। এ ছাড়া ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও রয়েছেন। ইথিওপিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং একজন মেক্সিকান নাগরিকও সেখানে আটকা রয়েছেন।
টেলিযোগাযোগ বন্ধ থাকায় টাইগ্রেতে আটকে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আদ্দিস আবাবাভিত্তিক টাইগ্রে ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (টিবিএস) একটি উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, টাইগ্রের বাইরে থাকা মানুষের কাছ থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ভিডিও বার্তা নেওয়া হবে। পরে সেসব বার্তা স্যাটেলাইট টেলিভিশনে প্রচার করা হবে। এসব বার্তায় শুভেচ্ছা ও সাম্প্রতিক খবর জানানো যাবে। যোগাযোগ বন্ধ থাকার মধ্যে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। এদিকে টাইগ্রের ব্যাংকিং সেবার ওপর সরকারি বিধিনিষেধের প্রভাব অঞ্চলটির বাইরে থাকা টাইগ্রিয়ানদের ওপরও পড়েছে।
কয়েকজন গ্রাহক বিবিসিকে জানিয়েছেন, টাইগ্রেতে খোলা তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা সেগুলোর ওপর বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে। টাইগ্রের এক সাবেক বাসিন্দা জানান, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তিনি দুই মাস আগে রাজধানীতে চলে আসেন। সম্প্রতি আদ্দিস আবাবা থেকে আদামা যাওয়ার পথে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি বিবিসির তিগরিনিয়া সার্ভিসকে বলেন, টাইগ্রে থেকে পালিয়ে আসা তার মতো অনেক মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় সমস্যা তৈরি করেছে। অনেক টাইগ্রিয়ান এখন বিপদের মধ্যে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ