রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৯ এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘আব্দুল হাদী রতন স্মৃতি ফুটবল একাডেমি’ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে নানা ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রগতি স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে এসএসসি ব্যাচ-২০২২ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
পুরস্কার বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মাদক ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশ্বাস দেন।
আব্দুল হাদী রতন স্মৃতি একাডেমির সভাপতি লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ এবং কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন। ফাইনাল খেলাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন কাউখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক ও দীপক দাস।
এর আগে কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন সেট, দাবা ও হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এমপি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে এবং শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আগামী এক বছরে ১১ হাজার শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে ১০ হাজার শিমুলের চারা এবং এক হাজার মসলিন তুলার চারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোরের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর সেনানিবাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সেনানিবাসের আর্মি মেডিকেল কলেজের সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া, সেনানিবাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়াস-এর প্রিন্সিপাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আলী, আর্মি মেডিকেল কলেজের ডিডি (এডমিন) মেজর (অব.) মোসলেম উদ্দিন সিকদার, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যশোরে জগদীশপুর তুলা খামারের কটন এগ্রোনমিস্ট ড. মো. জোবায়ের ইসলাম তালুকদারসহ সেনানিবাসের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভার পর যশোর আর্মি মেডিকেল কলেজের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শিমুল ও মসলিন তুলার চারা বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে আটক শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে তিনি এ তথ্য একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান।
মাহদী আমিন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে খুবই সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন যে, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
তিনি আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান এবং সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ আটক করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই তথ্য হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আলামাতার রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাংক রয়েছে।
টাইগ্রে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ করার যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি ভাঙার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। সংঘর্ষের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও পড়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান লালিবেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৩ জন পর্যটক আটকে আছেন। লালিবেলায় থাকা এক ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে জানান, পুরো সপ্তাহজুড়ে তারা লড়াই, গুলির শব্দ ও ভারী কামানের গোলার শব্দ শুনেছেন। শহরে সেনাবাহিনীর বড় উপস্থিতি রয়েছে বলেও তিনি জানান। লালিবেলা ১৩ শতকে পাথর কেটে তৈরি ১৩টি গির্জার জন্য বিখ্যাত। অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান।
গত বুধবার বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ পর্যটক শহরটি ছাড়তে পারেননি। তবে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লালিবেলার আশপাশের সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী ও আমহারা অঞ্চলের একটি মিলিশিয়া জড়িত। ওই মিলিশিয়া টাইগ্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে জোট করেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা আরো কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে সাত সদস্যের একটি জোট গঠন করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল রাজধানী আদ্দিস আবাবায় থাকা সরকারকে সরিয়ে দেওয়া। এই সংঘাতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়াও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইথিওপিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
টাইগ্রে ও আশপাশের এলাকায় সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না বিবিসি। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সেখানে কী ঘটছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বা টিপিএলএফ বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলছে, টাইগ্রের বাহিনীই প্রথম হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, টাইগ্রের বাহিনী বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হামলা শুরু করে। টিপিএলএফের যোদ্ধারা আফার অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও লড়াই করছে। আফার ইথিওপিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়াকে জিবুতি ও দেশটির বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে টাইগ্রেতে তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন। আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত শহর ও আশপাশের এলাকায় লড়াই হয়েছে। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু হামলায় আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মাত্র তিন দিন বয়সী শিশুও রয়েছে। নিহত হয়েছেন নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষও। ওই চিকিৎসক জানান, শহরের বাজারে একটি হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন।
লড়াই শুরুর পর টাইগ্রেতে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ রয়েছে। তবে এসব সেবা বন্ধের নির্দেশ কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আলামাতার একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, সেখানে মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। লড়াই থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় শহরটি এখন ভিড়ে পূর্ণ। ওই ব্যক্তি বলেন, আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা হেঁটে আলামাতায় আসছেন। কেউ কেউ এক ঘণ্টা পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন। তারা ভেবেছিলেন, শহরটি নিরাপদ হবে। কিন্তু শহরে ব্যাংকিং সেবা, টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ফোন—কোনোটিই চালু নেই। ফলে মানুষ বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।
লালিবেলায় থাকা ব্রিটিশ পর্যটক জানান, সেখানে অনলাইন ব্যাংকিং চালু থাকলেও নগদ টাকার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই দিনে লালিবেলার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে বিমানবন্দর এখনো সামরিক বাহিনী ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটি আবার চালু হতে পারে বলে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় মানুষ এখনো ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। শহরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে এবং বড় একটি সামরিক দলকে উত্তরের দিকে যেতে দেখা গেছে।
বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার সময় লালিবেলায় ৫৩ জন পর্যটক ছিলেন। পরে কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে বিমানপথে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগের দিন আরো পাঁচজন একটি বেসরকারি সংস্থার গাড়িবহরে করে শহর ছেড়েছেন। লালিবেলায় এখনো আটকা পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। এ ছাড়া ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও রয়েছেন। ইথিওপিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং একজন মেক্সিকান নাগরিকও সেখানে আটকা রয়েছেন।
টেলিযোগাযোগ বন্ধ থাকায় টাইগ্রেতে আটকে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আদ্দিস আবাবাভিত্তিক টাইগ্রে ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (টিবিএস) একটি উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, টাইগ্রের বাইরে থাকা মানুষের কাছ থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ভিডিও বার্তা নেওয়া হবে। পরে সেসব বার্তা স্যাটেলাইট টেলিভিশনে প্রচার করা হবে। এসব বার্তায় শুভেচ্ছা ও সাম্প্রতিক খবর জানানো যাবে। যোগাযোগ বন্ধ থাকার মধ্যে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। এদিকে টাইগ্রের ব্যাংকিং সেবার ওপর সরকারি বিধিনিষেধের প্রভাব অঞ্চলটির বাইরে থাকা টাইগ্রিয়ানদের ওপরও পড়েছে।
কয়েকজন গ্রাহক বিবিসিকে জানিয়েছেন, টাইগ্রেতে খোলা তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা সেগুলোর ওপর বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে। টাইগ্রের এক সাবেক বাসিন্দা জানান, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তিনি দুই মাস আগে রাজধানীতে চলে আসেন। সম্প্রতি আদ্দিস আবাবা থেকে আদামা যাওয়ার পথে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি বিবিসির তিগরিনিয়া সার্ভিসকে বলেন, টাইগ্রে থেকে পালিয়ে আসা তার মতো অনেক মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় সমস্যা তৈরি করেছে। অনেক টাইগ্রিয়ান এখন বিপদের মধ্যে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রভাব তাদের নিজস্ব গানের সংখ্যা কিংবা জনপ্রিয়তার চেয়ে অনেক বড়। নিলয় দাশ তেমনই একজন। গিটার হাতে তিনি যে পথ তৈরি করেছিলেন, সেই পথ ধরে বাংলাদেশের বহু গিটারিস্ট পরবর্তী সময়ে নিজেদের পরিচিতি গড়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে আজকের প্রজন্মের একটি বড় অংশের কাছে তার নাম ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠছে।
গতকাল, ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল এই গুণী গিটারিস্টের জন্মদিন। ১৯৬১ সালের এই দিনে নিলয় দাশের জন্ম হয়। গিটারিস্ট হিসেবে তার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গায়ক, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং শিক্ষক। ২০০৬ সালে এই শিল্পীর মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পরও বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতে তার প্রভাবের কথা বারবার উঠে আসে। প্রয়াত কিংবদন্তি গায়ক ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু একবার নিলয় দাশ সম্পর্কে বলেছিলেন, "তার মতো করে বাংলাদেশে আর কেউ গিটার বাজাতে পারেননি।" তিনি বলেন, নিলয় ছিলেন দেশের একমাত্র নিও-ক্ল্যাসিক্যাল গিটারিস্টদের একজন। নিলয়কে হারানোর প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ ওকে হারিয়েছে বা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। ওর অভিমান থেকে ও চলে গেছে।"
নিলয় দাশের জন্মদিন পেরিয়ে তাকে স্মরণ করার উপলক্ষটি তাই শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন মনে করা নয়; বরং বাংলাদেশের গিটারচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে ফিরে দেখার সুযোগও। আশির দশকে ঢাকার সংগীতাঙ্গনে গিটার শেখা ও বাজানোর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই নিলয় দাশের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল। কেউ তার কাছে সরাসরি শিখেছেন, কেউ তার সঙ্গে বাজিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, আবার কেউ তার বাজানোর ধরন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এই কারণেই সংগীতাঙ্গনে তাঁকে অনেকে ‘গিটারিস্টদের গিটারিস্ট’ বলে মনে করেন।
তৎকালীন ঢাকার অনেক মিউজিশিয়ানের নিয়মিত আড্ডার জায়গা ছিল নিলয় দাশের বাসা। সেখানে গিটার নিয়ে বসতেন তারা, গান হতো, আলোচনা হতো বিভিন্ন ধরনের সংগীত নিয়ে। নিলয় তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন রক, কান্ট্রি, জ্যাজ, ব্লুজ থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল ও স্প্যানিশ ফ্ল্যামেনকোর নানা দিক। বিশ্বসংগীতের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। হার্ড রক ও হেভি মেটাল থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিক্যাল ও নিও-ক্ল্যাসিক্যাল—বিভিন্ন ধারার সংগীত তিনি শুনতেন এবং অন্যদেরও সেসবের সঙ্গে পরিচিত করাতেন।
তার গিটার বাজানোর দক্ষতা ছিল আলাদা ধরনের। বিশেষ করে নিও-ক্ল্যাসিক্যাল ও ফ্ল্যামেনকো গিটারে তার দখল ছিল অসাধারণ। সমসাময়িক গিটারিস্ট ওয়ারফেজের কমলও নিলয়ের রিদম গিটারের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, নিলয় এমন সব রিদম বাজাতেন, যার তাল ধরাও অনেক সময় কঠিন হয়ে যেত। নিলয় দাশের সংগীতজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে আরেক কিংবদন্তি হ্যাপী আখান্দের নাম। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিলয় প্রথমদিকে নজরুলসংগীত গাইতেন। পরে হ্যাপী আখান্দের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় গিটারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
১৯৮১ সালে নিয়মিতভাবে গিটার বাজানো শুরু করেন তিনি। এরপর নিজের চেষ্টাতেই গিটার শেখার পথ তৈরি করেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো গিটার শিক্ষকের কাছে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নেননি। এক কোরিয়ান গিটারবাদকের কাছ থেকে শুরুতে কয়েকটি কর্ড শেখার পর বাকি পথটা অনেকটাই নিজের চেষ্টায় এগিয়ে নেন। বাখ, মোজার্ট, বিথোভেনের মতো ধ্রুপদি সুরকারদের সংগীত শুনে সেগুলো গিটারে তোলার চেষ্টা করতেন। এভাবেই তৈরি হয় তার নিজস্ব সংগীতভাষা।
বন্ধু হ্যাপী আখান্দের অকালমৃত্যু নিলয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বন্ধুর স্মৃতিকে ধরে রাখতে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হ্যাপী স্কুল অব মিউজিক’। সেখানে গিটার শেখানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পীকে সংগীতের নানা ধারার সঙ্গে পরিচিত করে তুলেছিলেন তিনি।
আশির দশকে ঢাকার অভিজাত হোটেলগুলোর সংগীত আয়োজনেও নিলয় দাশ নিয়মিত বাজিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সে সময়ের বিভিন্ন ব্যান্ডও হোটেলভিত্তিক সংগীতচর্চায় নিজেদের জায়গা করে নেয়। ‘দ্য জেনমস’ ও ‘ট্রিলজি’—এই দুই ব্যান্ডের সঙ্গে তার কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ট্রিলজি সে সময় ঢাকার সংগীতাঙ্গনে বেশ পরিচিত একটি নাম ছিল। শুধু ব্যান্ডসংগীতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না নিলয়। শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও তার ইন্সট্রুমেন্টাল পরিবেশনা শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। গিটার বাজানোর জন্যই সেখানে দর্শকের ভিড় হতো। তার প্রতিভা বুঝতে পেরে তৎকালীন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সুরকার আজাদ রহমান তাকে সেখানে গিটার শিক্ষক হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেন। উপমহাদেশের খ্যাতিমান শিল্পী গোলাম আলী ও মেহেদী হাসানের সঙ্গেও তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন।
১৯৮৮ সালে সারগামের ব্যানারে প্রকাশিত হয় নিলয় দাশের প্রথম একক অ্যালবাম ‘কত যে খুঁজেছি তোমায়’। ফুয়াদ নাসের বাবুর সংগীত আয়োজনে অ্যালবামটির গান লিখেছিলেন কাউসার আহমেদ চৌধুরী, আহমেদ ইউসুফ সাবের ও আসিফ ইকবাল। অ্যালবামের শিরোনাম গানটি তখন শ্রোতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। চার বছর পর, ১৯৯২ সালে আশিকুজ্জামান টুলুর সংগীত পরিচালনায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘বিবাগী রাত’। নিলয়ের গানগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গিটার। কণ্ঠের পাশাপাশি তার গিটারওয়ার্কই গানগুলোকে আলাদা মাত্রা দিত। এর বাইরে ‘স্টারস-১’, ‘স্টারস-২’, ‘দেখা হবে বন্ধু’, ‘টুগেদার’, ‘তুমিহীনা সারাবেলা’ ও ‘কেউ সুখী নয়’-এর মতো বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামেও গান করেছেন তিনি। তবে সংখ্যার দিক থেকে তার গানের তালিকা খুব দীর্ঘ নয়। নিজের কাজ নিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বেছে নেওয়া এবং যত্নশীল।
নিলয় দাশের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল তার প্রচারবিমুখতা। সংগীত নিয়ে যতটা নিবেদিত ছিলেন, নিজেকে আলোচনায় রাখার ব্যাপারে ততটাই অনাগ্রহী ছিলেন। নিভৃত জীবন পছন্দ করতেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে সেগুলোর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। এই নিভৃতচারিতাই হয়তো ধীরে ধীরে তাকে মূলধারার স্মৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। এর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত বহুবার বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্ম, নতুন গিটারিস্ট। কিন্তু তাদের অনেকের সংগীতচর্চার পেছনে নিলয় দাশের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব আজও আলোচিত হয়।
নিলয় দাশের কাছে গিটার কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র ছিল না; সেটিই ছিল তার সংগীতজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তার গিটারসাধনার গভীরতা বোঝাতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় জীবনের শেষ সময়ের একটি ঘটনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তিনি চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলেন, তার বাম হাতে যেন স্যালাইন না দেওয়া হয়। কারণ, হাতে ব্যথা হলে তিনি গিটার বাজাতে পারবেন না। এই একটি ঘটনাই হয়তো নিলয় দাশকে বোঝার জন্য যথেষ্ট। জনপ্রিয়তার চেয়ে সংগীতের প্রতি তার নিবেদনই ছিল বড়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ