১১:৩০ এম
সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দুই ধাপে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। জুলাই মাস থেকেই নতুন স্কেল অনুযায়ী সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পে কমিশনের সুপারিশের মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এটি করা হবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে।
বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পরে এই কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে দুইটি বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছিল: তিন বছর এবং দুই বছর মেয়াদী।
যদি তিন বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ধারাবাহিকভাবে আগামী দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে এবং তৃতীয় বছরে ভাতাগুলো কার্যকর হবে।
তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) তদারকির জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
এ কারণে তারা একবারে পুরো মূল বেতন কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে কমিটি দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি কিংবা পরবর্তী সপ্তাহে গেজেট প্রকাশিত হবে।’
বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করতে পারে কমিটি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
পে স্কেল সংশোধনের আগের উদাহরণগুলোর মতো এবার বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদা করে কোনো বৃদ্ধি দেখানো হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।
এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।
২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়। বর্তমান সরকার তার ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন