রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৬ পি.এম
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’
অন্য একজন ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন যে, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’
এসব অভিযোগের পাশাপাশি, সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। ওই ঘটনার পর জ্যোতি টি-টোয়েন্টিতে আর দলের নেতৃত্বে থাকতে চান না। তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ই-মেইল করে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল আগামীকাল সোমবার নারী দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পরবর্তী অধিনায়ক এবং কোচিং প্যানেল নিয়ে। এই বৈঠকে জ্যোতির নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ নারী দলের অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ৩ অক্টোবর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নারী দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নিয়ে অপেক্ষা করছে নারী বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন।
সভায় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের বাড়ি থেকে। যাদের ছনের ঘর রয়েছে, যাদের নিজস্ব ঘর নেই কিংবা অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন—তাদের তথ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে হবে। কোনোভাবেই সচ্ছল ব্যক্তিদের আগে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের কাজে সরকার সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কেউ অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহ, স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজ দলের বা জোটের কোনো নেতাকর্মী দুর্নীতি কিংবা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে মামলা করার কথাও বলেন তিনি।
সভায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি দিনের বেলায় অপ্রয়োজনে বাতি ও ফ্যান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে সমস্যা হচ্ছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি গারো ও হাজংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান। তাদের শিক্ষাবৃত্তি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আগামী পাঁচ বছর দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। এ দুই উপজেলাকে একটি সুন্দর বাগানের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে সেই বাগানের ‘মালী’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বাগানের পরিচর্যায় সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। এই বিমানের সাথে দুই শতাধিক মার্কিন সেনাসদস্যও উপস্থিত রয়েছেন। যোধপুরে ‘তরং শক্তি’ নামের একটি বিশাল আকাশ মহড়ায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মার্কিন এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ভারতে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই বিষয়টি নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো এবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে একই আকাশে উড়বে, যা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।"
যোধপুর বিমানঘাঁটিতে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতও এই মহড়ায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য রাফাল, তেজস ও মিগ-২৯ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান নিয়ে অংশগ্রহণ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, কৃষকরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাদেরকে দেশ গড়ার যোদ্ধা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কৃষকদের সম্মান জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন-নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য প্রেসিডেন্ট কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ-এর নেতৃত্বে সমিতির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।
প্রেসিডেন্ট এসময় দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম, নতুন-নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করে না বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি পণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে, কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পায়, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরো উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে, এরইমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অচিরেই কৃষকেরা এর সুফল পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্য বিমা চালু, জেলা-উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা ও কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশে উৎপাদিত ফল-মূল, কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার জন্য সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ ও খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এসময় কৃষিঋণের সুদ বিশেষ করে এনজিও থেকে গৃহীত ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট।
কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তরোর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা ও আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। প্রেসিডেন্ট মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ