বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২০ এম
ভাইরাসে আক্রান্ত কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি এবং গোলরক্ষক মানুয়েল ন্যয়ারের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত উভয়েই বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। তবে, জার্মান চ্যাম্পিয়নরা জয় খরা কাটাতে সক্ষম হয়নি। আর্সেনালের সঙ্গে তারা ২-২ গোলে ড্র করেছে, যদিও এক সময় তারা এগিয়ে ছিল।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৫ মিনিটে এবেরেচি এজের গোলে আর্সেনাল প্রথমে এগিয়ে যায়। কিন্তু ৩৫ মিনিটে আলফোনসো ডেভিয়েসের গোলে সমতা ফেরায় বায়ার্ন, যেখানে কেইন গোলটিতে সহায়তা করেন।
বিরতির পর, দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। ইয়ুরিয়েন টিম্বারের হাতে বল লাগায়, রেফারি ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
তবে, ম্যাচের শেষ দিকে আর্সেনাল আবারও ফিরে আসে। ৮২ মিনিটে ডেকলান রাইসের নিচু শটে সফরকারীরা সমতায় ফেরে। শেষ পর্যন্ত, আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি বায়ার্নের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানো ঘটনা। তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার ১৪তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, সাত পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে আর্সেনাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসের সামনের করিডরে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন বাগান ‘ইনার কোর্ট ইয়ার্ডে’ আইনজীবীদের আপ্যায়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) এই হামলার ফলে আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনার দিকে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলে, এর ধ্বংসাবশেষের কারণে দুইজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন, তাদের একজন পাকিস্তানি এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক।
মন্ত্রণালয় জানায়, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এই ঘটনায় তেলক্ষেত্রের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ফলে একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
এদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বুধবার সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে ছোড়া সাতটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চল ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
তবে সর্বশেষ হামলাগুলোর জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে আরব নিউজের প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বৃদ্ধি ঘটেছে। সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের সময় মেনে চলার নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের প্রতিদিনের হাজিরা সিস্টেমের তদারকি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা "আমার দেশ"কে জানিয়েছেন, ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেম পরিচালনা করছে আইসিটি ডিভিশন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও ডিজিটাল হাজিরা দেন এবং তিনি দেখতে চেয়েছিলেন ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেমটি কেমন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হাজিরার প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়েছে।
সেখানে প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, ডিজিটাল হাজিরার সিস্টেমের এক্সেস মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং আইসিটি বিভাগের সচিবকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্যারেরা চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের অবস্থান দেখতে পারবেন যে, তারা কখন অফিসে আসছেন আবার কখন অফিস ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সচিবালয়, সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা পরিদর্শন করছেন। তাদের এসব আকস্মিক পরিদর্শনে দাপ্তরিক উপস্থিতি, সেবার মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক উঠে আসছে।
সরকারের এই উদ্যোগে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। নির্দেশনা জারি করেই দায়িত্ব শেষ না করে সরেজমিনে পরিস্থিতি যাচাই, হাজিরা খাতা দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেই তদারকিতে নেমেছেন। চলতি বছরের ২৯ মার্চ সকালে তিনি সচিবালয়ে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর আকস্মিক পরিদর্শন করেন। সকাল ৯টার কিছু পর সচিবালয়ে পৌঁছে তিনি হেঁটে বিভিন্ন ভবনে যান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির খোঁজ নেন।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কক্ষে গিয়ে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনের মাধ্যমে অফিস শুরুর সময় থেকেই কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। দাপ্তরিক কাজে গতি আনা, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো এবং অফিসের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রের দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে উপস্থিতি যাচাই করায় সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে সরকারের প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর বার্তাও যায়।
আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন
সরকারের তদারকি সচিবালয় বা মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের সরাসরি সেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সরকারি হাসপাতালও আকস্মিক পরিদর্শন করছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
গত ৭ মার্চ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। হাসপাতালের ওয়ার্ড ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এরপর ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার বাস্তব অবস্থা যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এরপর ২৪ মার্চ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রমও ভিডিওকলে পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় হাজিরা খাতাসহ হাসপাতালের কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। এসব উদ্যোগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও কর্মীদের উপস্থিতি, সেবার মান এবং রোগীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
এ ছাড়া ২৬ আগস্ট মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়ম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব অভিযান সরকারের নজরদারি কার্যক্রমেরই অংশ।
এলজিইডিতে ঝটিকা পরিদর্শন
সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) ঝটিকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি সেখানে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন। এতে দেখা যায়, অফিস শুরুর নির্ধারিত সময়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত হতে পারেননি।
অফিস শুরুর সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই কার্যালয়ে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তখনো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে আসেননি। সকাল ৯টায় কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নৈতিকতা থাকা প্রয়োজন। সরকারি দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা ও জনসেবার মানসিকতা অপরিহার্য বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সময়মতো অফিসে উপস্থিতির নির্দেশনা
সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা জারি করে। এতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪ অনুসরণের বিষয়টিও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়। এরপরও কোনো কোনো সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মাঠপর্যায়ে তদারকির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে প্রশাসনিক কাজে গতি বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
চলতি বছরের ২ মার্চ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য দাপ্তরিক কার্যক্রমের শুরু থেকেই কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অফিস সময়ে প্রশাসনিক সেবা সচল রাখা।
এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার "আমার দেশ"কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল হাজিরা দেখা ও মন্ত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা অভিযান শতভাগ সমর্থন করি। ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পর অফিসে আসা, কাজের সময়ে আড্ডা দেওয়া কিংবা কাজ শেষ না করে আগে চলে যাওয়ার সংস্কৃতি নেই।
তিনি বলেন, সময়মতো অফিসে না আসা বা নির্ধারিত সময়ের আগে চলে যাওয়া এক ধরনের নৈতিক দুর্নীতি। সময়ানুবর্তিতার মতো এই বেসিক বিষয়গুলোর চর্চা বাড়ালে ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ঘটবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আবদুল আউয়াল বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরের নজরদারি রাখা। অতীতে এরশাদ সাহেব তার ১০ বছরের শাসনামলে হঠাৎ হঠাৎ সচিবালয়ের গেটে গিয়ে দাঁড়াতেন এবং বিলম্বে আসা কর্মকর্তাদের আটকে গেট বন্ধ করে দিতেন।’
সরকারের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, সময়ের নীতি না মানলে প্রথমে মোটিভেশনমূলক বার্তা দেওয়া উচিত। তাতেও কাজ না হলে আইনের আওতায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় ফকির জহির রহমান (৪০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, নিহত জহির আড়াইহাজার থানার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
ওসি আরও জানান, জহিরের বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও তিনি কয়েক বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সড়কে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেছেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তবে হত্যার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল বারিক। তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ