বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪১ পি.এম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনার পেছনে কে বা কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির মাঠে ২০১৬ সালে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের মুদি দোকানি সেকেন্দার আলী বিদ্যালয়ের মাঠে পানি নিতে গিয়ে শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এসআই কামরুল মন্তব্য করেন, ‘প্রাথমিকভাবে ভাঙচুর বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা রানী জানান, শহীদ মিনার ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থাপনাটি আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল। তবে কে বা কারা এটি ভেঙেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দপ্তরি রাতে দায়িত্ব পালন করেন কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তাদের রাতে দায়িত্ব পালনে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা রাতে দায়িত্ব পালন করেন না।
বদলগাছী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলগাছী থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি দাবি করেছে যে, তারা সউদী আরবে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলাগুলি ইয়েমেনের উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে পরিচালিত হয়, যেখানে দেশটির রাজধানী রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সউদী আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজধানী রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনের পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু অঞ্চলের সউদী আরামকোর (Saudi Aramco) জ্বালানি স্থাপনা, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করা হয়েছে।
এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টি সউদী কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সউদী কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে আঘাত হানা হামলায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সউদী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই তীব্র হামলাকে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের বৃদ্ধি হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি|
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি মন্তব্য করেছেন, জনগণ যাদের বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য চায়, সেই পলায়িত খুনি ও স্বৈরাচারী চক্র আবারও দ্বিগুণ ভয়ঙ্কর রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও দেশের জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছেন দেশ পরিচালনার। জনগণেরকে যারা হত্যা করেছে, গুলি করেছে, পালিয়ে গেছে, তারা আবার বলে যে দ্বিগুণ ভয়ঙ্কর হয়ে নাকি তারা বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের জনগণই তাদেরকে প্রতিরোধ করবে, প্রতিহত করবে। এবং তাদের যে বিচার হয়েছে, জনগণ সেই বিচার কার্যকর করবে, ফাঁসির রায় কার্যকর করবে ইনশাআল্লাহ।"
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির উদ্যোগে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিরাপদ। স্বাধীনতা-বিরোধী একাত্তরের রাজাকার কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদ-কারো কাছেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী চক্র কিংবা একাত্তরের ঘাতক-কারোরই ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা নেই। একটি দল আছে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তারা কাজ করেছে, তাদেরকে রাজাকার বলা হয়। আরেকটি দল নব্য ফ্যাসিবাদ হিসেবে বিদায় নিয়েছে। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, খুন করেছে। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। এবং একাত্তরে যারা রাজাকার ছিল তাদেরও কিন্তু কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে ষড়যন্ত্র করলেও সফল হতে পারবে না, কারণ ষড়যন্ত্র করে কখনোই মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে পথ চলতে হবে। এই বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমাদের পথ চলতে হবে, দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে আমাদের পথ চলতে হবে। দেশের মানুষ আমাদের সাথে রয়েছে, কাজেই আমরা যদি এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি সজাগ থাকি, এমন কোনো শক্তি নাই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পরাজিত করে।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই দেশকে একটি উন্নতশীল দেশ, স্বনির্ভর দেশ, যেটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আত্মনির্ভরশীল দেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত করেছিল সংসদীয় গণতন্ত্র। তারই ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের জনগণের যে চাহিদা, গণতান্ত্রিক যে আকাঙ্ক্ষা, সেটি ধারণ করে বিএনপির নেতৃত্বেই আমরা ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাব।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শহীদুল ইসলাম শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক, টাঙ্গাইল সদরথানা বিএনপির সভাপতি, সাবেক জেলা যুবদল সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, সাবেক সহ সভাপতি কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেকক দল জিয়াউল হক শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলে মরহুম হামিদুল হক মোহনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনজাত করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সৌদি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে হামলায় হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। হামলার ঘটনা ঘটে বুধবার রাতে।
আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন— কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তারা বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বাংলাদেশি দুই প্রবাসী ছাড়াও আরও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, একজন সৌদি নাগরিক এবং একজন নেপালি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জমির নামজারির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করতে হলে সকল ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। যদি ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে হয়, তাহলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে। এর ফলে, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য ওয়ারিশদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বলা হয়। এটি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত রেকর্ড সঠিকভাবে রাখা এবং ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তরাধিকার সূত্রে জমির নামজারিতে নতুন নিয়ম
সব ওয়ারিশের নাম দিতে হবে
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ারিশের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী তাদের সহ-অংশীদার হিসেবে খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বণ্টননামা ছাড়াই করা যাবে যৌথ নামজারি
যদি ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করা না হয়, তাহলে যৌথ নামজারির আবেদন করা যাবে। তবে নিবন্ধিত বণ্টননামা না থাকার কারণে আবেদন বাতিল করা যাবে না।
তবে জমির অংশ ভাগ করে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে।
আবেদনের সঙ্গে লাগবে ওয়ারিশ সনদ
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে এ সনদ সংগ্রহ করা যেতে পারে।
সনদে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। তথ্যের অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা
ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজের অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে—
১. নিবন্ধিত দলিলের কপি: জমি কেনার মাধ্যমে মালিকানা অর্জন করলে।
২. আগের খতিয়ানের কপি: সংশ্লিষ্ট জমির বিদ্যমান খতিয়ান।
৩. জমির বিবরণ: দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।
৫. ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে।
৬. মৃত্যুসনদ: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৭. নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে।
৮. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি: সরকারি ফি পরিশোধের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাওয়া কাগজপত্র।
আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। নথিপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট l and.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
তৃতীয় ধাপ: জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে দিন।
চতুর্থ ধাপ: নিবন্ধিত দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিন।
আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো। নথিপত্রের যথার্থতা, জমির ধরন এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।
নামজারি না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময়ও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নামজারিই জমির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাগজপত্র, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের পাশাপাশি সময়মতো নামজারি সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। আর জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামার বিধান অনুসরণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ