বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০১ পি.এম
ফোনে জরুরি কাজ করার সময় হঠাৎ স্ক্রিন আটকে যাওয়া, কোনো কমান্ডে সাড়া না দেওয়া বা কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। অনেক সময় দেখা যায়, চার্জ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তবে, সবসময় ফোনের হার্ডওয়্যার নষ্ট হওয়াকেই এর জন্য দায়ী করা যায় না। ফোন হ্যাং বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য স্টোরেজের ঘাটতি, র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত তাপ, দুর্বল ব্যাটারি কিংবা সফটওয়্যার সমস্যাও দায়ী হতে পারে।
স্টোরেজ ভরে গেছে কি না দেখুন
যখন ফোনের স্টোরেজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শুধু নতুন ফাইল সংরক্ষণে সমস্যা হয় না, বরং সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ফোন ধীর হয়ে যাওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্ক্রিন ফ্রিজ করার মতো সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে।
অতএব, নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড করা ফাইল এবং ব্যবহার না করা অ্যাপ মুছে ফেলা উচিত। এতে ফোনে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা তৈরি হবে এবং পারফরম্যান্সও কিছুটা স্বাভাবিক থাকতে পারে।
একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালু রাখছেন?
একসঙ্গে বেশি অ্যাপ চালু থাকলে ফোনের র্যামের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে কম র্যামের পুরোনো ডিভাইসে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। যেসব অ্যাপের প্রয়োজন নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।
এছাড়া, নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করাও সাময়িক পারফরম্যান্স সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে?
দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভারী অ্যাপ ব্যবহার, একটানা ভিডিও দেখা কিংবা চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে ফোনের সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইস বন্ধ করে দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিতে হবে। অতিরিক্ত গরম অবস্থায় বারবার ফোন চালু করার চেষ্টা না করাই ভালো।
ব্যাটারির সমস্যাও কারণ হতে পারে
পুরোনো বা দুর্বল ব্যাটারি প্রয়োজনীয় সময়ে ফোনকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে ডিভাইস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে চার্জের মাত্রা স্বাভাবিক দেখানোর পরও যদি বারবার ফোন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, অল্প ব্যবহারে ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়া কিংবা হঠাৎ ব্যাটারির শতাংশ অনেক কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সফটওয়্যার আপডেট করে নিন
অপারেটিং সিস্টেমের পুরোনো সংস্করণ কিংবা সফটওয়্যারের কোনো বাগ থেকেও ফোন হ্যাং করার সমস্যা হতে পারে। তাই ফোনের সেটিংসে গিয়ে নতুন কোনো সিস্টেম আপডেট পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত।
যদি নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ চালু করার পরই ফোনে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অ্যাপটি আপডেট করে দেখা উচিত। তাতেও সমাধান না হলে অ্যাপটি আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সমস্যা হলে প্রথমে যা করবেন
ফোন হ্যাং বা আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে ডিভাইসটি রিস্টার্ট করে দেখা উচিত। এরপর স্টোরেজে কিছু জায়গা খালি করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা এবং সফটওয়্যার আপডেট আছে কি না পরীক্ষা করা দরকার।
এসবের পরও সমস্যা নিয়মিত হতে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, নথি ও অন্যান্য তথ্যের ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেটের কথা ভাবা যেতে পারে। তবে ফ্যাক্টরি রিসেট করলে ফোনের সংরক্ষিত তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই ব্যাকআপ না নিয়ে কখনোই এই প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত নয়।
ফ্যাক্টরি রিসেটের পরও যদি ফোন বারবার হ্যাং বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সমস্যাটি সফটওয়্যারের বাইরে হার্ডওয়্যার-সংক্রান্তও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিভাইসটি অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর নানাবাড়ির এলাকা পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু নানাবাড়িতে এলেই হবে না, মানুষের দোয়া ও সমর্থনে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করতে হবে। দেশের মানুষের পাশাপাশি নানাবাড়ির মানুষের জন্যও কাজ করতে হবে।"
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে ১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধনের পর এক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের অংশ হিসেবে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, "গত কয়েক বছরে ভোটের অধিকার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের সময়ে নারীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ।"
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, "অতীতে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।" একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের ঘটনা নতুন নয়, তবে সম্প্রতি সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইয়াবার চালান উদ্ধার হওয়া উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক কারবারিরা নদীতে ইয়াবার চালান পার করার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এই প্রেক্ষিতে, নাফ নদীতে ভেসে আসা একটি ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাফ নদী ও তার আশেপাশের এলাকায় মাদক পাচারকারীদের কার্যক্রম রোধ করতে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, যার মধ্যে কোস্টগার্ডও রয়েছে। নদীতে ভাসমান ইয়াবার চালান পাওয়ার ঘটনায় মাদক পাচারের নতুন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো নৌযানে, কখনো বিভিন্ন পণ্য বা সামগ্রীর আড়ালে এবং কখনো নদীতে ভাসিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নাফ নদীকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানাচ্ছেন, সীমান্তপথে ইয়াবা পাচার রোধ করতে নাফ নদী ও তার আশেপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নদীতে ভাসমান সন্দেহজনক বস্তু বা প্যাকেট দেখলেই তা তল্লাশি করা হচ্ছে।
একদিকে সীমান্তে মাদক পাচারের চেষ্টা, অন্যদিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইয়াবার চালান উদ্ধারের ঘটনায় নাফ নদীকে ঘিরে মাদক কারবারিদের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু চালান উদ্ধার নয়, এর সঙ্গে জড়িত পাচারকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারকে একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, ওয়াশিংটনের উচিত পুরো পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য) অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ (ISNA)-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি কেবল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তাই তাদের পুরো অঞ্চল থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই অঞ্চল ত্যাগ করতে হবে এবং এখানকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরেই ছেড়ে দিতে হবে। দুই দশকের সামরিক দখলের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন উপস্থিতি অঞ্চলে কোনো নিরাপত্তা আনেনি; বরং এটি ছিল চরম অনিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং অস্থিরতার মূল উৎস।”
মার্কিন অভিযানের মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির তীব্র সমালোচনা করে আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী এই দখলাভিযানের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্যের মৃত্যু (যা ওয়াশিংটনের নিজস্ব হিসাব, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি) এবং চার ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর, ইরাকি জনগণের তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে বিতাড়িত হতে হলো।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দাখিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী জুনু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রিটটি দাখিল করেন।
রিটের বিবাদী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বার বা অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা অন্য কোনো আইনগত দলিলে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে সারা দেশে বারের জন্য অভিন্ন বন্ধের সময় না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধ ও অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধের একটি অভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা যায় কি না, তা পরীক্ষা ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাত ১১টা বর্তমানে সারা দেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বন্ধের সময়- এমন দাবি করা হয়নি। যেখানে ১১টা বা অন্য কোনো সময় বৈধভাবে নির্ধারিত রয়েছে, তা বাস্তবায়ন এবং যেখানে অভিন্ন সময় নির্ধারিত নেই, সেখানে রাত ১১টার নীতি বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু বার, ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বিক্রি ও পরিবেশন, লাইসেন্সের শর্তের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কনজাম্পশন পারমিট না থাকা ব্যক্তিদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগ আইনসম্মত তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব বা বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ অনুমোদন থাকলেই অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের বৈধতা তৈরি হয় না। আইন অনুযায়ী পৃথক লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রয়োজন হলে তা থাকতে হবে। পাঁচতারকা বা বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা, অবৈধভাবে আমদানি করা, অঘোষিত বা শুল্ক পরিশোধ না করা অ্যালকোহল সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ তদন্তে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানির কাগজপত্র, ক্রয় চালান, কাস্টমস ডিক্লারেশন, শুল্ক পরিশোধের নথি, স্টক রেজিস্টার, ব্র্যান্ড নিবন্ধন ও রিলিজ অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।
রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় লাইসেন্সের বৈধতা ও নবায়ন, অনুমোদিত স্থান, কার্যক্রমের সীমা, কোটা বা অনুমোদিত পরিমাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে। একই ধরনের আইনসম্মত নজরদারি রাজধানীর বাইরেও সারা দেশে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
কিছু হোটেল, ক্লাব, বার ও বিনোদনকেন্দ্রে অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রিটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি না দিয়ে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, অনুমতি, জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধান বা দণ্ডবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি-না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।
অবৈধ অ্যালকোহল ব্যবসা, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ মোকাবিলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন এবং আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন রয়েছে।
রিটে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা চালু বা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে কতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কতটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্সের ঘাটতি পাওয়া গেছে, কতটি ক্ষেত্রে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কত পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ করা হয়েছে এবং কতটি মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য রাখার আবেদন করা হয়েছে।
রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও উত্তরায় বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো আইনসম্মত ভিত্তি পাওয়া গেলে অনুমোদনহীন অ্যালকোহল পরিবেশনের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে চলমান কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ