বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০২ পি.এম
ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারকে একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, ওয়াশিংটনের উচিত পুরো পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য) অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ (ISNA)-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি কেবল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তাই তাদের পুরো অঞ্চল থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই অঞ্চল ত্যাগ করতে হবে এবং এখানকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরেই ছেড়ে দিতে হবে। দুই দশকের সামরিক দখলের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন উপস্থিতি অঞ্চলে কোনো নিরাপত্তা আনেনি; বরং এটি ছিল চরম অনিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং অস্থিরতার মূল উৎস।”
মার্কিন অভিযানের মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির তীব্র সমালোচনা করে আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী এই দখলাভিযানের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্যের মৃত্যু (যা ওয়াশিংটনের নিজস্ব হিসাব, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি) এবং চার ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর, ইরাকি জনগণের তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে বিতাড়িত হতে হলো।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দাখিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী জুনু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রিটটি দাখিল করেন।
রিটের বিবাদী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বার বা অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা অন্য কোনো আইনগত দলিলে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে সারা দেশে বারের জন্য অভিন্ন বন্ধের সময় না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধ ও অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধের একটি অভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা যায় কি না, তা পরীক্ষা ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাত ১১টা বর্তমানে সারা দেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বন্ধের সময়- এমন দাবি করা হয়নি। যেখানে ১১টা বা অন্য কোনো সময় বৈধভাবে নির্ধারিত রয়েছে, তা বাস্তবায়ন এবং যেখানে অভিন্ন সময় নির্ধারিত নেই, সেখানে রাত ১১টার নীতি বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু বার, ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া অ্যালকোহল বিক্রি ও পরিবেশন, লাইসেন্সের শর্তের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কনজাম্পশন পারমিট না থাকা ব্যক্তিদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগ আইনসম্মত তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব বা বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ অনুমোদন থাকলেই অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের বৈধতা তৈরি হয় না। আইন অনুযায়ী পৃথক লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রয়োজন হলে তা থাকতে হবে। পাঁচতারকা বা বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা, অবৈধভাবে আমদানি করা, অঘোষিত বা শুল্ক পরিশোধ না করা অ্যালকোহল সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ তদন্তে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানির কাগজপত্র, ক্রয় চালান, কাস্টমস ডিক্লারেশন, শুল্ক পরিশোধের নথি, স্টক রেজিস্টার, ব্র্যান্ড নিবন্ধন ও রিলিজ অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।
রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় লাইসেন্সের বৈধতা ও নবায়ন, অনুমোদিত স্থান, কার্যক্রমের সীমা, কোটা বা অনুমোদিত পরিমাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে। একই ধরনের আইনসম্মত নজরদারি রাজধানীর বাইরেও সারা দেশে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
কিছু হোটেল, ক্লাব, বার ও বিনোদনকেন্দ্রে অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রিটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি না দিয়ে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, অনুমতি, জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধান বা দণ্ডবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি-না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।
অবৈধ অ্যালকোহল ব্যবসা, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ মোকাবিলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন এবং আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন রয়েছে।
রিটে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা চালু বা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে কতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কতটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্সের ঘাটতি পাওয়া গেছে, কতটি ক্ষেত্রে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কত পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ করা হয়েছে এবং কতটি মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য রাখার আবেদন করা হয়েছে।
রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও উত্তরায় বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো আইনসম্মত ভিত্তি পাওয়া গেলে অনুমোদনহীন অ্যালকোহল পরিবেশনের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে চলমান কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা উপত্যকায় একটি মাত্র ভবন কেন অক্ষত অবস্থায় রয়েছে— এই প্রশ্নটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে তুলে ধরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে কাপুরকে একটি ফোন হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়। ফোনে দেখা একটি আকাশচুম্বী ছবির নির্দিষ্ট ভবন লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা ছিল। তিনি বলেন, “আমি এখন বিবি (নেতানিয়াহু) এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করছি... গাজায় এই ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে কেন?” যখন চিত্রগ্রাহক জানতে চান তিনি কোন ভবনের কথা বলছেন, তখন কাপুর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, “এই ভবনটি।” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে এটিই সম্ভবত একমাত্র ভবন যা অক্ষত রয়েছে, যার জবাবে কাপুর বলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু কেন?”
ভিডিওটির সাথে থাকা তথ্যে জানা যায়, ভবনটি মূলত ‘আল-কাদিসিয়া বালিকা বিদ্যালয়’, যা বর্তমানে দখলকৃত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে কাপুরের এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্যের কারণে অনলাইনে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানান যে, কাপুরের এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সাধারণ শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।
বিতর্ক আরও বাড়ে ৩০ সেপ্টেম্বর কাপুরের করা অপর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। গাজার একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আকাশচুম্বী ছবি পোস্ট করে লাল বৃত্ত দিয়ে তিনি লেখেন: "কিছু নির্বোধের মতে, ভবন ধ্বংস করাকে গণহত্যা বলা হয়।" তাঁর ব্যবহৃত ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দা জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, গুগল ম্যাপসের সাম্প্রতিক আপডেট করা স্যাটেলাইট চিত্রে গাজা উপত্যকার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটিতে অভূতপূর্ব ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যেখানে ঘনবসতি পূর্ণ মহল্লা ছিল, সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর সেনাবহরের চলাচলের জন্য তৈরি করা রাস্তা দেখা যাচ্ছে। রাফাহর তাল আল-সুলতানের সৌদি হাউজিং প্রজেক্টের শত শত আবাসন ইউনিট সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে এবং ঐতিহাসিক 'সুইডিশ ভিলেজ'-এর মাত্র কয়েকটি অবকাঠামো কোনোমতে টিকে আছে।
গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশের স্যাটেলাইট দৃশ্য ১ এপ্রিল ২০২৪-এ ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের পর দুই সপ্তাহের অবরুদ্ধ অবস্থার ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) একটি দল পরিদর্শন শেষে এই হাসপাতালটিকে কেবল একটি "ফাঁপা কঙ্কাল" হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ম্যাপে এখনো যেসব স্কুল, মসজিদ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, তা কেবল তাদের অতীত ইতিহাসের স্মৃতি বহন করছে, বর্তমানের বাস্তবিক অস্তিত্ব নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টরসহ তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ের পর তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের মধ্যে মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর এবং শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, রাফিউল হাসান রাসেল, মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু পাঁচ বছর করে এবং হাফিজুর রহমান তুফান, মনিরুজ্জামান পলাশ, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নূর আলম মিয়া ও এ কে এম আমির হোসেন তিন বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজের ক্ষেত্রে তাঁর হাজতবাসের সময়কেই সাজার পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করে। মামলায় মোট ৩০ আসামির সবাই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন। পরে ১৪ জুন ২০২৬ ট্রাইব্যুনালের ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তালিকাভুক্ত কয়েকজনকে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বেতন বন্ধ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে আরো বলা হয়েছে, বেরোবির ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে সিন্ডিকেটের ৫৫তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ২০০৯ সালের আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে আবু সাঈদের মৃত্যু জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের মাধ্যমে সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ও বড় সিদ্ধান্ত এলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে আলোচনার পর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘আবু সাঈদ নিহতের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসু টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনার সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং এর সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একইভাবে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও উল্লেখ করেছে যে, দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দুই দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে নিরাপদ এবং অবাধ নৌ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ