ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেতানিয়াহুকে উস্কানি দিয়ে তোপের মুখে ভারতীয় ইউটিউবার


নেতানিয়াহুকে উস্কানি দিয়ে তোপের মুখে ভারতীয় ইউটিউবার

গাজা উপত্যকায় একটি মাত্র ভবন কেন অক্ষত অবস্থায় রয়েছে— এই প্রশ্নটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে তুলে ধরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে কাপুরকে একটি ফোন হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়। ফোনে দেখা একটি আকাশচুম্বী ছবির নির্দিষ্ট ভবন লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা ছিল। তিনি বলেন, “আমি এখন বিবি (নেতানিয়াহু) এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করছি... গাজায় এই ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে কেন?” যখন চিত্রগ্রাহক জানতে চান তিনি কোন ভবনের কথা বলছেন, তখন কাপুর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, “এই ভবনটি।” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে এটিই সম্ভবত একমাত্র ভবন যা অক্ষত রয়েছে, যার জবাবে কাপুর বলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু কেন?”

ভিডিওটির সাথে থাকা তথ্যে জানা যায়, ভবনটি মূলত ‘আল-কাদিসিয়া বালিকা বিদ্যালয়’, যা বর্তমানে দখলকৃত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে কাপুরের এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্যের কারণে অনলাইনে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানান যে, কাপুরের এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সাধারণ শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।

আরও পড়ুন: গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে তুরস্ক, মুসলিম-প্রধান দেশ হিসেবে নবম স্থান

বিতর্ক আরও বাড়ে ৩০ সেপ্টেম্বর কাপুরের করা অপর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। গাজার একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আকাশচুম্বী ছবি পোস্ট করে লাল বৃত্ত দিয়ে তিনি লেখেন: "কিছু নির্বোধের মতে, ভবন ধ্বংস করাকে গণহত্যা বলা হয়।" তাঁর ব্যবহৃত ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দা জানানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, গুগল ম্যাপসের সাম্প্রতিক আপডেট করা স্যাটেলাইট চিত্রে গাজা উপত্যকার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটিতে অভূতপূর্ব ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যেখানে ঘনবসতি পূর্ণ মহল্লা ছিল, সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর সেনাবহরের চলাচলের জন্য তৈরি করা রাস্তা দেখা যাচ্ছে। রাফাহর তাল আল-সুলতানের সৌদি হাউজিং প্রজেক্টের শত শত আবাসন ইউনিট সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে এবং ঐতিহাসিক 'সুইডিশ ভিলেজ'-এর মাত্র কয়েকটি অবকাঠামো কোনোমতে টিকে আছে।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশের স্যাটেলাইট দৃশ্য ১ এপ্রিল ২০২৪-এ ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের পর দুই সপ্তাহের অবরুদ্ধ অবস্থার ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) একটি দল পরিদর্শন শেষে এই হাসপাতালটিকে কেবল একটি "ফাঁপা কঙ্কাল" হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ম্যাপে এখনো যেসব স্কুল, মসজিদ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, তা কেবল তাদের অতীত ইতিহাসের স্মৃতি বহন করছে, বর্তমানের বাস্তবিক অস্তিত্ব নয়।

আরও পড়ুন: অভিজিৎ দীপকে মোদি সরকারকে দুর্গোৎসবের জন্য সাময়িক স্বস্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবির সাবেক প্রক্টরসহ ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


বেরোবির সাবেক প্রক্টরসহ ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টরসহ তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ের পর তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের মধ্যে মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর এবং শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।

বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, রাফিউল হাসান রাসেল, মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু পাঁচ বছর করে এবং হাফিজুর রহমান তুফান, মনিরুজ্জামান পলাশ, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নূর আলম মিয়া ও এ কে এম আমির হোসেন তিন বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজের ক্ষেত্রে তাঁর হাজতবাসের সময়কেই সাজার পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করে। মামলায় মোট ৩০ আসামির সবাই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন। পরে ১৪ জুন ২০২৬ ট্রাইব্যুনালের ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তালিকাভুক্ত কয়েকজনকে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বেতন বন্ধ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে আরো বলা হয়েছে, বেরোবির ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে সিন্ডিকেটের ৫৫তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ২০০৯ সালের আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে আবু সাঈদের মৃত্যু জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের মাধ্যমে সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ও বড় সিদ্ধান্ত এলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে আলোচনার পর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘আবু সাঈদ নিহতের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


ইরান-জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসু টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনার সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং এর সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একইভাবে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও উল্লেখ করেছে যে, দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দুই দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে নিরাপদ এবং অবাধ নৌ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউএনওর সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফিরল বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া তুবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


ইউএনওর সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফিরল বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া তুবা

চুরির অভিযোগে মারধরের পর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দেওয়া ছোট তুবা বিদ্যালয়ে ফিরে এসেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে ফিরে পেয়ে তাকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা তুবাকে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।

বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তুবাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। ইউএনও মো. আলী সুজা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তুবার সহপাঠীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, মেয়েটি যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা মন্তব্য করেন, "আমরা সমাজের সব অসংগতি হয়তো দূর করতে পারব না। কিন্তু একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে অন্তত সমাজে একটা মডেল তৈরি করতে পারি। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। আশা করি, আমরা তা পারব।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির জানান, "আমরা মেয়েটিকে সাদরে গ্রহণ করেছি। বাবার সঙ্গে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর থেকে সে বিদ্যালয়ে আসছিল না। সে খুবই মেধাবী, তার পড়াশোনা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"

এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর, উপজেলা প্রশাসন জুবার বাবাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বরিশাল নগরের একটি মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠায়। সেখানে তাকে তিন মাস রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে উজিরপুরের একটি বাজারে চুরির অভিযোগে তুবার বাবাকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী। পরদিন শনিবার সকালে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে তুবা। বাবাকে আর মারধর না করার জন্য সে উপস্থিত লোকজনের কাছে আকুতি জানায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি খুঁটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির পা বেঁধে রাখা হয়েছে। তার হাতে একটি চায়ের কাপ। মেয়েটি পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে চায়ে ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিচ্ছে। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন বিভিন্ন কথা বলছেন। বাবার মুখে রুটি তুলে দিতে দিতে মেয়েটি অসহায় দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল লোকজনের দিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা দেখেছেন ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল।" ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা কিছু আসনে জয়লাভ করে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। তিনি বলেন, "সময় এসেছে সচেতন হওয়ার।"

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীতে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান আরও বলেন, "তারা আমাদের নসিহত করে। আমরা বলব, দয়া করে নিজের দিকে তাকান।"

নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজ বহু বছর পর নানাবাড়ি আসলাম। খুব সম্ভবত ১৯৮৪ সালে এসেছিলাম। এরপর ১৯৯১ সালে এসেছিলাম।" তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্য কাজ করতে হবে।"

উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি বলেন, "ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এই নদীটি খনন করব। এখন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে এসেছি।"

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ প্রথমবার ফেনী সফর করেন তারেক রহমান। তিনি সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে বাসে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন এবং দুপুর ২টার দিকে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় পৌঁছান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%