০৬:১৫ পি.এম
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের কারণে নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় তার দাদা গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। নিহত ফেরেজা বেগম (৬৬) এবং আহত আব্দুল করিম (৭১) উভয়েই ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পরে গ্রামের স্থানীয়রা অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করেন।
গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিরাজ করছিল। এই পরিস্থিতির জেরে বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত নাতি ধারালো ছুরি নিয়ে দাদা ও দাদির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে তারা দুজনেই গুরুতর আহত হন। হামলার সময় ফেরেজা বেগমের হাতের একটি কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তার গাল ও গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আব্দুল করিমও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান।
আহতদের চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে প্রথমত, সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর, প্রাথমিক চিকিৎসার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেরেজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আব্দুল করিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
এদিকে, হামলার পর অভিযুক্ত নাতি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ সম্পর্কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় শোক, ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন