ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাফজয়ী ঋতুপর্ণার ঘর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা


সাফজয়ী ঋতুপর্ণার ঘর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘসময় ধরে নানা প্রতিশ্রুতির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে একটি অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাহায্য প্রদান করা হয়।

অন্য এক উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত কার্যক্রমে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সরাসরি ঋতুপর্ণার হাতে গৃহনির্মাণের জন্য বিশেষ চেক তুলে দেওয়া হয়। এসময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, এই ফুটবলারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকার ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই, তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও 'আমরা বিএনপি পরিবার' সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঋতুপর্ণার ক্যান্সার আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

সে সময়, সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি এই সাহায্য পরিবারটির কাছে পৌঁছে দেয়।

ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবারের এক সদস্য হিসেবে, তিনি তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠ প্রতিভার জোরে জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পেছনে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, ২০২৫ সালে দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করার গৌরবময় অভিযানে তিনি অনবদ্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে বাড়ছে যে ৫ ধরনের ক্যানসার, কী এর কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


বাংলাদেশে বাড়ছে যে ৫ ধরনের ক্যানসার, কী এর কারণ

বাংলাদেশে প্রতিবছরই ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে ভুগে এক লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন যে, বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হবে।

শুধু ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর সাড়ে ৪২ হাজারের মতো ক্যানসার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজারই নতুন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় আট শতাংশ। প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীদের মধ্যে শিশুদের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মানুষ ৩৮ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে পুরুষরা ফুসফুস, খাদ্যনালি, মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, নারীদের মধ্যে স্তন, জরায়ুমুখ এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কিন্তু সার্বিকভাবে দেশে কোন কোন ধরনের  বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেটার পেছনে কারণ কী, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

খাদ্যনালির ক্যানসার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে খাদ্যনালির ক্যানসারে। ২০২২ সালে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি।

প্রতিবছর আরও ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ দশমিক এক শতাংশ। নারীদের তুলনায় পুরুষরাই খাদ্যনালির ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তের হারের মতো এ ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে যে সোয়া এক লাখ মানুষ ক্যানসারে ভুগে মারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে খাদ্যনালির ক্যানসারে প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪ হাজারের বেশি। ক্যানসারের মোট মৃত্যু হারের হিসেবে এটি প্রায় ২০ দশমিক নয় শতাংশ।

মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসার

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বর্তমানে দেশে এমন ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪০ হাজারের কিছু বেশি।

এছাড়া প্রতি বছর ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ক্যানসারে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার এবং নারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এ রোগে ভুগে প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজারের মতো মানুষ, যা ক্যানসারের মোট মৃত্যুর প্রায় আট দশমিক এক শতাংশ।

২০২৬ সালে প্রকাশিত জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশই এসেছিলেন মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসার নিয়ে।

ফুসফুসের ক্যানসার

মৃত্যুহার বিবেচনায় খাদ্যনালির ক্যানসারের পরেই রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

সংস্থাটির হিসেবে, বর্তমানে বাংলাদেশে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। প্রতিবছর নতুন করে আরও প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার জনই পুরুষ। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল বলছে, ২০২৫ সালে তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ছিল ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত।

সংখ্যার হিসেবে সেটি সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি বলে হাসপাতালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্তনের ক্যানসার

বাংলাদেশের নারীরা যেসব ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, সেগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্তনের ক্যানসার। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশই স্তনের ক্যানসারে ভুগছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি নারী এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রতিবছর নতুন করে আরও প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেইসঙ্গে, এর কারণে প্রায় প্রতি বছরই ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

জরায়ুমুখের ক্যানসার

স্তনের ক্যানসারের পর নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি জরায়ুমুখের ক্যানসারে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটিতে নারী ক্যানসার রোগীদের মধ্যে ১৯ শতাংশই প্রজনন সম্পর্কিত ক্যানসারে ভুগছেন।

এর মধ্যে ১১ শতাংশই জরায়ুমুখের ক্যানসারে ভুগছেন। এর বাইরে, পাঁচ শতাংশ ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে এবং তিন শতাংশ জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশ এখন সাড়ে ২৬ হাজারেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে ভুগছেন।

এছাড়া প্রতিবছর আরও প্রায় সাড়ে ৯ হাজার নারী এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। একই সময়ে, ৫ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারের কারণে মারা যাচ্ছেন।

কেন বাড়ছে?

ক্যানসারের বিষয়ে বাংলাদেশে এখনো জাতীয়ভাবে কোনো তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়নি। যতটুকু তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশই হাসপাতালে যান না।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, ক্যানসার আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যাটা যে আরও বড়, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রতিবছরই ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

পরিবেশ দূষণ এক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী বলে জানান চিকিৎসকরা। তিনি আরও বলেন, বায়ু দূষণের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আর আমাদের দেশের বাতাস যে মাত্রায় দূষিত, তাতে এখানে সুস্থ থাকাটা খুবই কঠিন।

একইসঙ্গে, খাদ্যাভ্যাসসহ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার কারণেই ক্যানসার বাড়ছে। ডা. সুমন বলেন, বিশেষ করে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ধূমপান করা বা তামাকপাতা সেবন ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যদেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা কম বয়সে স্তন ও জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে যেভাবে ব্রেস্ট ক্যানসার পাওয়া যায় বয়স্ক নারীদের মধ্যে, আমাদের দেশে সেখানে বেশিরভাগ রোগী পাচ্ছি ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে।

তবে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে স্তন ও জরায়ুর ক্যানসার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ডা. সুমন বলেন, আমাদের দেশে ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও সেগুলোর কাভারেজ এখনও অনেক কম। ফলে টিকা কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যানসার বিষয়ে যদি সবাইকে সচেতন করে তোলা যায়, তাহলে নারীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার- উভয়ই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে সুস্থ থাকার ৭ কার্যকর উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪০ এম


তীব্র গরমে সুস্থ থাকার ৭ কার্যকর উপায়

 

আকাশে সূর্য ওঠার পর থেকেই বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর এ কারণে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এমন গরম এবং গুমোট আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জের। এ বছর বাংলাদেশের রমজান মাসজুড়ে বেশ কয়েক দফা তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও উপরে চলে গেছে। মাঝে কয়েক পশলা বৃষ্টির ফলে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, তাপপ্রবাহ আবার ফিরে এসেছে। আর এটা পরিষ্কার যে, পুরো গ্রীষ্মকালজুড়েই আবহাওয়া এভাবেই থাকবে, এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে আমাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। যেহেতু আমরা আবহাওয়াকে রাতারাতি পাল্টাতে পারব না, সুতরাং আমাদের যা করা উচিত তা হলো জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।

সঠিক পোশাক নির্বাচনে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রথম পদক্ষেপটি হামাক করতে হবে। সুতি বা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি হালকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন, যাতে বাতাসের চলাচল সহজ হয়। এতে ঘামের পরিমাণ কমবে এবং শরীরেও স্বস্তি থাকবে। এই সময় কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ গাঢ় রং তাপ শোষণ করে এবং শরীরকে আরও গরম করে। অন্যদিকে, হালকা রঙের পোশাক সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

গরমের কারণে ঘামের পরিমাণ বাড়লেও, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়। তাই এই ঘাটতি পূরণের জন্য সারাদিন ভালো পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। সোডার মতো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে দেয়। এর পরিবর্তে ডাবের পানি, লেবুর শরবত অথবা তাজা ফলের রস পান করতে পারেন। শরীরকে সতেজ রাখতে তরমুজ, কমলা এবং শসার মতো পানিজাতীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

যেকোনো শারীরিক পরিশ্রমের সময় কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া উচিত, যাতে শরীরকে ঠান্ডা হতে দেয়া যায়। বিশেষ করে যারা রোদের তাপে বা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। বিরতির সময় ছায়াযুক্ত স্থানে বসতে হবে, মাথায় টুপি বা ক্যাপ খুলে দিতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে এবং হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে রক্ষা করবে।

বাইরে গরমের প্রকোপ থাকলে, তবুও ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যদি ঘরে এসি থাকে, তবে তা ব্যবহার করতে পারেন। এসি না থাকলে ফ্যানটি এমনভাবে রাখতে হবে যাতে বাতাস ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দিনের বেলায় ঘরের পর্দা টেনে রাখতে হবে যাতে সরাসরি সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে না পারে। রাতের বেলায় জানালা ও দরজা খুলে দিন, যাতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবাহিত হতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা একটি কার্যকর উপায়। বেশি গরম বা অস্বস্তি অনুভূত হলে দিনে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। এছাড়াও, একটি স্প্রে বোতলে ঠান্ডা পানি নিয়ে মুখ এবং শরীরে স্প্রে করা বেশ কার্যকর। ঝামেলা মনে হলে, একটি ভেজা তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে সময় সময় মুখ ও হাত মুছে নিতে পারেন।

গ্রীষ্মকালে অত্যাধিক রোদে বাইরে যাওয়া বল্লে, সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় না হলে, ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। যদি বের হতে হয়, তবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যেমন ছাতা, মাথায় টুপি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পানি সঙ্গে রাখা। বিশেষ করে দুপুরের সময় রোদ সবচেয়ে শক্তিশালী থাকার সময়, তখন বাইরে বের না হওয়ার চেষ্টা উচিত।

গরমের দিনে সাধারণত হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। সুতরাং এ সময়ে হালকা এবং সতেজ খাবার গ্রহণ করা উচিৎ। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এ গরমে অস্বস্তি আরো বাড়ায়। সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন—সালাদ, ফলমূল এবং শাকসবজি খাদ্য তালিকায় রাখা উচিৎ। স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাদ্যও এই সময়ে বেশ উপকারী।

গরমের দিনে মশলাদার খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো, কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গরমের দিনে পেটের রোগ কিংবা হজমের সমস্যা থেকে বাঁচতে রাস্তায় অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার খাওয়া পুরোপুরি পরিহার করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওভেন ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন সুস্বাদু ম্যাঙ্গো চিজকেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ এম


ওভেন ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন সুস্বাদু ম্যাঙ্গো চিজকেক

ম্যাঙ্গো চিজ কেক তৈরি করা হতে পারে বাড়িতে, তা কোনো রকম ওভেন ছাড়া। এটি খুব সহজ, বিশেষ করে গরমের সময়ে। প্রতিদিনের নাশতায় ম্যাঙ্গো থাকা খুবই জরুরি। চারপাশে এখন আমের উৎসব চলছে, আমের সুগন্ধে পূর্ণ। হবেই, বাজারের থলিতে আম থাকবে। এই আমের সাহায্যে আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন মজার চিজ কেক।

নাম শুনলেই চটজলদি মনে হবে এটি তৈরি করা কঠিন। কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ওভেন ছাড়া, খুব সহজ এবং দ্রুত তৈরি করা যায় ম্যাঙ্গো চিজ কেক। মাত্র কয়েকটি উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা যেতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয় বিস্কুটের ক্রাস্ট, আমের ক্রিমি লেয়ার এবং জেলি টপিং। ফ্রিজে সেট করে খুব কম সময়ে গর্জিয়াস ডেজার্ট তৈরি হবে।

উপকরণ:

২০-২৫টি ডাইজেস্টিভ বিস্কুট, ৩/৪ কাপ মাখন, দেড় কাপ ক্রিম চিজ, ১ কাপ আমের ক্বাথ, দেড় কাপ হুইপ্ড ক্রিম, ৩/৪ কাপ গুঁড়ো চিনি, ১টি আম, ১ টেবিল চামচ আগর আগর পাউডার।

প্রণালি:

প্রথমে বিস্কুটগুলোকে মিক্সারে ভালো করে গুঁড়ো করুন। এরপর বিস্কুটের গুঁড়ো এবং গলানো মাখন মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার একটি বড় চৌকো বা ডিমের আকৃতির কাচের পাত্রে বিস্কুট-মাখনের মিশ্রণটি দিয়ে চামচ দিয়ে চেপে সমান করুন। পাত্রটি আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।

এখন ক্রিম চিজ, আমের ক্বাথ, চিনি, হুইপ্ড ক্রিম এবং আধেক কাপ চিনি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ফ্রিজ থেকে কাচের পাত্র বের করুন। বিস্কুটের পরতের ওপরে আমের মিশ্রণ ঢেলে চামচ দিয়ে সমান করুন। আবার অন্তত আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। এরপর মিক্সারে আমের টুকরো, চিনি এবং পানি মিশিয়ে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। এতে আগর আগর পাউডার মিশিয়ে দিন। আবার ফ্রিজ থেকে কাচের পাত্র বের করে আমের জেলি পাত্রের ওপর ঢেলে দিন। এক ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে ম্যাঙ্গো চিজ কেক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ এম


টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার পর এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ল্যাপটপটি ছিল একান্ত সচিবের ব্যবহৃত। এতে করে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর বেলায়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ নামক তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যবহার করা এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি চুরি হয়। ইমামুল হাফিজ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তর রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির শাকিরুল ইসলামের কক্ষে পিএস ইমামুল হাফিজ প্রবেশ করেন। তিনি মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই।

সূত্র আরও জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া কক্ষের বাইরে অনেক জনতা ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং দেখতে পান, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের ভিতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। সঙ্গে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও থাকতে পারে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা আরও বলছেন, লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়। ফলে দপ্তরগুলো ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মোট ২২ জন আনসার পুরো ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার তুলনায় জনবল কম। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%