ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তীব্র গরমে সুস্থ থাকার ৭ কার্যকর উপায়


তীব্র গরমে সুস্থ থাকার ৭ কার্যকর উপায়

 

আকাশে সূর্য ওঠার পর থেকেই বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর এ কারণে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এমন গরম এবং গুমোট আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জের। এ বছর বাংলাদেশের রমজান মাসজুড়ে বেশ কয়েক দফা তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও উপরে চলে গেছে। মাঝে কয়েক পশলা বৃষ্টির ফলে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, তাপপ্রবাহ আবার ফিরে এসেছে। আর এটা পরিষ্কার যে, পুরো গ্রীষ্মকালজুড়েই আবহাওয়া এভাবেই থাকবে, এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে আমাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। যেহেতু আমরা আবহাওয়াকে রাতারাতি পাল্টাতে পারব না, সুতরাং আমাদের যা করা উচিত তা হলো জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।

আরও পড়ুন: দুই ভাইয়ের মায়ের জন্য আদালত বসেছিল সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়: সউদীর অমর আইনি লড়াই

সঠিক পোশাক নির্বাচনে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রথম পদক্ষেপটি হামাক করতে হবে। সুতি বা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি হালকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন, যাতে বাতাসের চলাচল সহজ হয়। এতে ঘামের পরিমাণ কমবে এবং শরীরেও স্বস্তি থাকবে। এই সময় কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ গাঢ় রং তাপ শোষণ করে এবং শরীরকে আরও গরম করে। অন্যদিকে, হালকা রঙের পোশাক সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

গরমের কারণে ঘামের পরিমাণ বাড়লেও, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়। তাই এই ঘাটতি পূরণের জন্য সারাদিন ভালো পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। সোডার মতো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে দেয়। এর পরিবর্তে ডাবের পানি, লেবুর শরবত অথবা তাজা ফলের রস পান করতে পারেন। শরীরকে সতেজ রাখতে তরমুজ, কমলা এবং শসার মতো পানিজাতীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

যেকোনো শারীরিক পরিশ্রমের সময় কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া উচিত, যাতে শরীরকে ঠান্ডা হতে দেয়া যায়। বিশেষ করে যারা রোদের তাপে বা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। বিরতির সময় ছায়াযুক্ত স্থানে বসতে হবে, মাথায় টুপি বা ক্যাপ খুলে দিতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে এবং হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে রক্ষা করবে।

বাইরে গরমের প্রকোপ থাকলে, তবুও ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যদি ঘরে এসি থাকে, তবে তা ব্যবহার করতে পারেন। এসি না থাকলে ফ্যানটি এমনভাবে রাখতে হবে যাতে বাতাস ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দিনের বেলায় ঘরের পর্দা টেনে রাখতে হবে যাতে সরাসরি সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে না পারে। রাতের বেলায় জানালা ও দরজা খুলে দিন, যাতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবাহিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ছোট তেলাপোকা দমনে কার্যকর ওষুধ: দাম ও ব্যবহারের নিয়ম জানুন

শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা একটি কার্যকর উপায়। বেশি গরম বা অস্বস্তি অনুভূত হলে দিনে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। এছাড়াও, একটি স্প্রে বোতলে ঠান্ডা পানি নিয়ে মুখ এবং শরীরে স্প্রে করা বেশ কার্যকর। ঝামেলা মনে হলে, একটি ভেজা তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে সময় সময় মুখ ও হাত মুছে নিতে পারেন।

গ্রীষ্মকালে অত্যাধিক রোদে বাইরে যাওয়া বল্লে, সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় না হলে, ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। যদি বের হতে হয়, তবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যেমন ছাতা, মাথায় টুপি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পানি সঙ্গে রাখা। বিশেষ করে দুপুরের সময় রোদ সবচেয়ে শক্তিশালী থাকার সময়, তখন বাইরে বের না হওয়ার চেষ্টা উচিত।

গরমের দিনে সাধারণত হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। সুতরাং এ সময়ে হালকা এবং সতেজ খাবার গ্রহণ করা উচিৎ। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এ গরমে অস্বস্তি আরো বাড়ায়। সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন—সালাদ, ফলমূল এবং শাকসবজি খাদ্য তালিকায় রাখা উচিৎ। স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাদ্যও এই সময়ে বেশ উপকারী।

গরমের দিনে মশলাদার খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো, কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গরমের দিনে পেটের রোগ কিংবা হজমের সমস্যা থেকে বাঁচতে রাস্তায় অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার খাওয়া পুরোপুরি পরিহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: খালি পেটে সকালে হরিতকি ভেজানো পানির উপকারিতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওভেন ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন সুস্বাদু ম্যাঙ্গো চিজকেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ এম


ওভেন ছাড়াই ঘরে তৈরি করুন সুস্বাদু ম্যাঙ্গো চিজকেক

ম্যাঙ্গো চিজ কেক তৈরি করা হতে পারে বাড়িতে, তা কোনো রকম ওভেন ছাড়া। এটি খুব সহজ, বিশেষ করে গরমের সময়ে। প্রতিদিনের নাশতায় ম্যাঙ্গো থাকা খুবই জরুরি। চারপাশে এখন আমের উৎসব চলছে, আমের সুগন্ধে পূর্ণ। হবেই, বাজারের থলিতে আম থাকবে। এই আমের সাহায্যে আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন মজার চিজ কেক।

নাম শুনলেই চটজলদি মনে হবে এটি তৈরি করা কঠিন। কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ওভেন ছাড়া, খুব সহজ এবং দ্রুত তৈরি করা যায় ম্যাঙ্গো চিজ কেক। মাত্র কয়েকটি উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা যেতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয় বিস্কুটের ক্রাস্ট, আমের ক্রিমি লেয়ার এবং জেলি টপিং। ফ্রিজে সেট করে খুব কম সময়ে গর্জিয়াস ডেজার্ট তৈরি হবে।

উপকরণ:

২০-২৫টি ডাইজেস্টিভ বিস্কুট, ৩/৪ কাপ মাখন, দেড় কাপ ক্রিম চিজ, ১ কাপ আমের ক্বাথ, দেড় কাপ হুইপ্ড ক্রিম, ৩/৪ কাপ গুঁড়ো চিনি, ১টি আম, ১ টেবিল চামচ আগর আগর পাউডার।

প্রণালি:

প্রথমে বিস্কুটগুলোকে মিক্সারে ভালো করে গুঁড়ো করুন। এরপর বিস্কুটের গুঁড়ো এবং গলানো মাখন মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার একটি বড় চৌকো বা ডিমের আকৃতির কাচের পাত্রে বিস্কুট-মাখনের মিশ্রণটি দিয়ে চামচ দিয়ে চেপে সমান করুন। পাত্রটি আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।

এখন ক্রিম চিজ, আমের ক্বাথ, চিনি, হুইপ্ড ক্রিম এবং আধেক কাপ চিনি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ফ্রিজ থেকে কাচের পাত্র বের করুন। বিস্কুটের পরতের ওপরে আমের মিশ্রণ ঢেলে চামচ দিয়ে সমান করুন। আবার অন্তত আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। এরপর মিক্সারে আমের টুকরো, চিনি এবং পানি মিশিয়ে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। এতে আগর আগর পাউডার মিশিয়ে দিন। আবার ফ্রিজ থেকে কাচের পাত্র বের করে আমের জেলি পাত্রের ওপর ঢেলে দিন। এক ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে ম্যাঙ্গো চিজ কেক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ এম


টেলিফোনের তারের পর এবার মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি

সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার পর এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ল্যাপটপটি ছিল একান্ত সচিবের ব্যবহৃত। এতে করে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর বেলায়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ নামক তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যবহার করা এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি চুরি হয়। ইমামুল হাফিজ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তর রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির শাকিরুল ইসলামের কক্ষে পিএস ইমামুল হাফিজ প্রবেশ করেন। তিনি মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই।

সূত্র আরও জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া কক্ষের বাইরে অনেক জনতা ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং দেখতে পান, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের ভিতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। সঙ্গে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও থাকতে পারে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা আরও বলছেন, লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়। ফলে দপ্তরগুলো ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মোট ২২ জন আনসার পুরো ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার তুলনায় জনবল কম। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী মরিশাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০২ এম


বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী মরিশাস

মরিশাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন ২০২৬-এর ফাঁকে মরিশাসের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অংশ নেন।

সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের সাথে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে তার দেশ আগ্রহী। বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। তিনি জানান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে শিগগিরই সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

এছাড়া মরিশাস সরকার বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক মরিশাস সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, টেক্সটাইল ছাড়াও ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স ও অ্যাকাউন্টেন্টসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

তিনি দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য মরিশাস সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা ব্যয়ও নারীদের জটিল রোগের মতো উচ্চ: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা ব্যয়ও নারীদের জটিল রোগের মতো উচ্চ: গবেষণা

পুরুষ বন্ধ্যত্ত্বের চিকিৎসার ব্যয় নারীদের জটিল রোগ এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার ব্যয়ের সমান।

বন্ধ্যত্বকে এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান জানাচ্ছে, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারণ পুরুষ। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার খরচ নারীদের জটিল রোগ এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা খরচের সঙ্গে প্রায় সমান ধরা হয়েছে।

ভারতের মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি দীর্ঘদিনের একটি আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে, যা উপেক্ষিত ছিল। গবেষণা অনুযায়ী, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার জন্য প্রতি ১০ দম্পতির মধ্যে ৬ জন আর্থিক চাপের সম্মুখীন হন।

গবেষণায় উল্লিখিত হয়েছে যে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নিতে আসা ৬০ শতাংশ দম্পতি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক হেলথ এক্সপেন্ডিচার’-এর সম্মুখীন হন। অর্থাৎ, তাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। এর ফলে অনেক পরিবার ঋণ নিতে বাধ্য হন বা তাদের সঞ্চয় ভেঙে চিকিৎসা চালাতে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, বিশ্বে প্রতি ৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় বীজতলা সমস্যায় ভুগছেন।

গবেষণায় ৫০০ দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় গড় ব্যয়  এন্ডোমেট্রিওসিস: প্রায় ১৬,৯৪৩ রুপি,

• পুরুষ বন্ধ্যত্ব: প্রায় ১৬,৫৬৬ রুপি,

• অন্যান্য বন্ধ্যত্ব সমস্যা: প্রায় ১১,৩১৭ রুপি।

এর মানে হলো, গবেষকরা বলছেন, পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার খরচও এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার সঙ্গে তুলনীয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত বিষয়।

পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা কেন এত ব্যয়বহুল? এটি নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে আছে হরমোন পরীক্ষা, স্পার্ম বিশ্লেষণ, জেনেটিক পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, আইইউআই এবং আইসিএসআইয়ের মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি।

এই চিকিৎসায় সরাসরি চিকিৎসা ব্যয় ছাড়াও বারবার হাসপাতাল যাতায়াত, ওষুধ ও সময়ের ক্ষতি যুক্ত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় সরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি। বেসরকারি হাসপাতালের গড় ব্যয় প্রায় ১৪,২১৭ রুপি, তবে সরকারি হাসপাতালে এটি প্রায় ৮,৩৫৫ রুপি। সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত সেবা শহরকেন্দ্রিক হওয়ার কারণে অনেক রোগীকে দূর থেকে আসতে হয়, যা পরিবহন এবং অন্যান্য খরচ বাড়ায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাত্র ১ শতাংশ দম্পতির কাছে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার জন্য কোনো স্বাস্থ্যবীমা রয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ পরিবারকেই নিজেদের সঞ্চয় বা ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে।

গবেষকরা নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বন্ধ্যত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে, এটিকে একটি জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসা খরচ কমাতে বীমা সুবিধা বৃদ্ধি এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই সেবার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গবেষণা পুরুষ বন্ধ্যত্বের প্রতি প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যে আরও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%