শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৩ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। সাইপ্রাসে হাম্মাদ মুজিবের নামে দুটি ব্যাংক হিসাব এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামে আরও দুটি হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে লাখ লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করেছে দুদক। তদন্তে দেখা গেছে, এসব অর্থের উৎস তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু সাইপ্রাসেই নয়, লন্ডনে তার বোন ও ছেলের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। এমনকি লন্ডনে সম্পত্তি কেনার জন্য ‘উপহার’ হিসেবে ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ ইউরো পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে তার সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ৩ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিব এবং তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সাইপ্রাসের একটি ব্যাংক হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে ২ লাখ ৩ হাজার ইউরো পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক নথিতে এই অর্থগুলো ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দুদক বলছে, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য এ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের পড়াশোনার খরচ বাবদ লন্ডনের একটি কলেজেও অর্থ পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, হাম্মাদ মুজিব বিদেশে এসব ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথিও দেখাতে পারেননি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলায় হাম্মাদ মুজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।
পরবর্তীতে ওই অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আড়াল করা হয়েছে বলেও জানায় দুদক।
দুদকের নথি অনুযায়ী, হাম্মাদ মুজিব ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর সাইপ্রাসের ব্যাংক অব সাইপ্রাসে নিজের নামে একটি হিসাব খোলেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই হিসাবে জমা পড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো। নিজের নামে খোলা আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার। এর বাইরেও ‘বাগুটেল লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের নামে একই ব্যাংকে দুটি হিসাব খোলা হয়েছে। এর একটিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং অন্যটিতে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব অর্থের উৎস হাম্মাদ মুজিবের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বলছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানের পর হাম্মাদ মুজিবকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের ২ জুন সম্পদবিবরণী জমা দেন। কিন্তু এতে সাইপ্রাসে নিজের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশে থাকা সম্পদের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি।
দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ উপার্জনের বৈধ উৎস কিংবা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনের কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মচারী হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদবিবরণীতে এসব তথ্য না দেওয়ার মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি দুদকের সামনে আসে। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিবের হিসাব থেকে লন্ডনের অ্যাশবোর্ন কলেজে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার খরচ বাবদ ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানো হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ৪৬ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৩৫ ইউরো, ৮ এপ্রিল ৫০ হাজার ইউরো এবং ১৭ এপ্রিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৩ ইউরো যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে পাঠানো হয়। তিন দফায় পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক শূন্য ৮ ইউরো।
ব্যাংক নথিতে এসব অর্থকে ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দুদক বলছে, লন্ডনের ৩৩০ ওয়েল হল রোডের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এ লেনদেনে ‘বোলিং অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের একটি হিসাব ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে আরও ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯৩ ইউরো এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে হাম্মাদ মুজিব দেশে ও বিদেশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সম্পদ গোপন, হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলা ঠেকাতে সেগুলো জব্দ করা প্রয়োজন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লিখিত যুক্তরাজ্যের অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্য কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা কমিটির সভা।
আজ শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ের জন্য স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংশোধন করেই তা কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, 'জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।'
আজ সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
চিফ হুইপ জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন। এ কারণে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আগের সরকারের সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব বিষয়ে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি ও সার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, এখন আমাদের কাছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত আছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সরকার কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিদেশি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বিরোধী দলের সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই সীমিত। তবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।
সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চ করত।
চিফ হুইপ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুল হলে সেটিও লিখতে হবে এবং সরকার সঠিক কাজ করলে সেটিও তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে সাংবাদিকরা তা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায় উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, আমরা সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা স্বল্পতার কারণে ঘাটতি চলছিল। তবে, কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এর ফলে, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু, দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে একটি কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশে লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তারা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছিল। গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে, একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটেরও কম হয়ে গেছে।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে পিডিবি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে। সেখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্রের দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড রয়েছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে।
দেশে দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা এবং কারিগরি কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে সংকটের মাত্রা বাড়িয়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গরম বাড়ার সাথে সাথে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়— ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিন সকালে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে সারা দেশে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আগামী রোববার সাতক্ষীরায় আসার পরিকল্পনা করেছেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় তিনি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
এরপর সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সাতক্ষীরা জেলার সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, বিজিবি ও র্যাবের অধিনায়ক, পুলিশ সুপারসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জিপি-পিপি, প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
ওই দিন বিকেল তিনটায় শিল্পকলা একাডেমীতে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন মন্ত্রী।
এর আগে তিনি যশোর সফর করবেন। সাতক্ষীরার পর খুলনা ও বাগেরহাট জেলা সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ