প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা স্বল্পতার কারণে ঘাটতি চলছিল। তবে, কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এর ফলে, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু, দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে একটি কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশে লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তারা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছিল। গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে, একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটেরও কম হয়ে গেছে।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে পিডিবি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে। সেখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্রের দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড রয়েছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে।
দেশে দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা এবং কারিগরি কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে সংকটের মাত্রা বাড়িয়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গরম বাড়ার সাথে সাথে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়— ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিন সকালে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে সারা দেশে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন