ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেহেরপুরে তরুণীর হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্ত সায়ন আটক


মেহেরপুরে তরুণীর হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্ত সায়ন আটক

 

মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় একটি বাড়িতে ঢুকে সায়ন নামের এক যুবক তরুণী স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কুপিয়ে কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সময় তরুণীর বাবা ও মাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। ঘটনার পর মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত সায়নকে শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, তাঁর স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাঁদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার। হামলার ফলে স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্মৃতির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সেলিম হোসেন ও রেবেকা খাতুন আহত হন। পরে সায়ন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে। পরে শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সায়নকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত সায়ন ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, “ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। হামলার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” এদিকে, বাড়িতে ঢুকে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে কী কারণে এই হামলা এবং এর পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ বা সম্পর্কের বিষয় রয়েছে কি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য সভাপতি হিসেবে আলহাজ হারিসুল বারী রনি এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা রফিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘোষণা বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুরা অধিবেশনে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শাখার ৮৪ জন শুরা সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ডা. আব্দুর রব মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা আব্দুস সালাম।

শুরা অধিবেশনে শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত শুরা সদস্যদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অধিবেশন শেষে প্রধান অতিথি ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে জননেতা আলহাজ হারিসুল বারী রনি এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা রফিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও পাঁচগাছী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার, সেক্রেটারি মুফতি মোজাম্মেল হক আইমানী, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলহাজ হাফেজ আব্দুল মমিন জেহাদী এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি কে এম এম আবুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ গ্রামের মানুষের সমর্থন পেলেন একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ গ্রামের মানুষের সমর্থন পেলেন একজন

 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ একত্রিত হন। তারা সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে, বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।

এছাড়া, সভায় বক্তব্য রাখেন নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। তারা অঙ্গীকার করেছেন যে, আর কোনো মারামারি করা হবে না এবং হত্যাকান্ডে জড়ানো হবে না।

এই ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের ফলে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে, এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি হবে না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয়ে আসছিল। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মারামারির ঘটনা বেশি ঘটতো। তবে, এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন গ্রামবাসী। এদিকে, গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের একত্রিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব

মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা।

ভোরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য বের হন জেলে মোক্তার উদ্দিন (৫০)। কখনো সারারাত কাটান, কখনো দিনভর।

 

মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা উপার্জন করে আসছিলেন তিনি। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পাঁচ-ছয় বছর ধরে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের আগুনে তাঁর প্রায় ২২ লাখ টাকার সঞ্চয় পুড়ে গেছে।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে মোক্তার উদ্দিনের বসতঘরে আগুন লাগে। স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরগুলোতে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে মোক্তার উদ্দিনের ঘরের চালের ড্রামে লুকিয়ে রাখা জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে যায়।

 

আগুনে তাঁর পাঁচটি বসতঘরও পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে পুড়ে যাওয়া চালের ড্রাম থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্ধপোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি টাকা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।

মোক্তার উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

 

নদীই তাঁর কর্মস্থল, নদী থেকেই সংসারের আয়। প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে যে টাকা পেতেন, সেখান থেকে সংসারের খরচ বাদ দিয়ে সামান্য করে জমাতেন। আট বছর আগে বড় ছেলে খাইরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। এবার ছোট ছেলে সাইফুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

সেই স্বপ্নের জন্যই এতদিনের সঞ্চয়। চলতি মাসে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে পাশের গ্রামের একটি এনজিও থেকে কিস্তিতে আরো চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বড় ছেলে খাইরুলও প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বাড়িতে পাঠাতেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমেছিল তাঁর কাছে।

কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখার অভ্যাস ছিল না মোক্তারের। সহজ-সরল এই জেলে উপজেলা সদরে খুব একটা যেতেন না। ব্যাংক হিসাব খোলাকেও ঝামেলা মনে করতেন। তাই বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো টাকা ঘরের চালের ড্রামেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

মোক্তার উদ্দিন বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকার বান্ডিল বানিয়ে চালের ড্রামে রাখতাম। ভোরে নদীতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতাম। আবার কোনো দিন সন্ধ্যায় নদীতে গিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতাম। এভাবে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে আয় হতো। কষ্টের এই টাকা নষ্ট হওয়ায় আমি দিশেহারা। কীভাবে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাব, এখন বুঝতেছি না।’

গ্রামের বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, মোক্তার উদ্দিন সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন মনোযোগ নেই। কয়েক মাসে একবারও উপজেলা সদরে যান না। তাঁর কোনো ব্যাংক হিসাবও নেই। তাই কষ্টের উপার্জনের টাকা ঘরেই জমিয়ে রেখেছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রিয়াজ মিয়ার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে উপজেলা সদর থেকে গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম মামুনুর রশিদ বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারা মোটামুটি অস্বচ্ছল। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্ধপোড়া অবস্থায় পাওয়া ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিষয়ে ইউএনও বলেন, টাকা যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

তবে সব হারিয়েও মোক্তার উদ্দিনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি, আর কীভাবে পূরণ করবেন ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সেই স্বপ্ন? মেঘনা নদীর ওপর ভর করে বছরের পর বছর যে স্বপ্ন তিনি একটু একটু করে গড়েছিলেন, এক আগুনে সেই স্বপ্ন এখন প্রায় ছাই হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

রাজশাহীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হচ্ছে। এই দিবসটি উপলক্ষে নগরীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ধর্মীয় মিছিল বের করতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল জশনে জুলুশ বের করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জশনে জুলুশ চলাকালে কোরআন তিলাওয়াত, সূরা পাঠ, হামদ ও নাত পরিবেশন করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠের পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ নানা যানবাহনে করে জশনে জুলুশে যোগদান করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি-অগ্রগতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জশনে জুলুশটি হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (র.)-এর দরগাহর দিকে চলে যায়।

এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরীর কারাগার, এতিমখানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোরআন ও সূরা পাঠ, হামদ-নাতসহ নানা ধর্মীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নগরজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%