ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব


জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব

মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা।

ভোরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য বের হন জেলে মোক্তার উদ্দিন (৫০)। কখনো সারারাত কাটান, কখনো দিনভর।

 

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা উপার্জন করে আসছিলেন তিনি। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পাঁচ-ছয় বছর ধরে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের আগুনে তাঁর প্রায় ২২ লাখ টাকার সঞ্চয় পুড়ে গেছে।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে মোক্তার উদ্দিনের বসতঘরে আগুন লাগে। স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরগুলোতে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে মোক্তার উদ্দিনের ঘরের চালের ড্রামে লুকিয়ে রাখা জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে যায়।

 

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

আগুনে তাঁর পাঁচটি বসতঘরও পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে পুড়ে যাওয়া চালের ড্রাম থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্ধপোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি টাকা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।

মোক্তার উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

 

নদীই তাঁর কর্মস্থল, নদী থেকেই সংসারের আয়। প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে যে টাকা পেতেন, সেখান থেকে সংসারের খরচ বাদ দিয়ে সামান্য করে জমাতেন। আট বছর আগে বড় ছেলে খাইরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। এবার ছোট ছেলে সাইফুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

সেই স্বপ্নের জন্যই এতদিনের সঞ্চয়। চলতি মাসে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে পাশের গ্রামের একটি এনজিও থেকে কিস্তিতে আরো চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বড় ছেলে খাইরুলও প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বাড়িতে পাঠাতেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমেছিল তাঁর কাছে।

কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখার অভ্যাস ছিল না মোক্তারের। সহজ-সরল এই জেলে উপজেলা সদরে খুব একটা যেতেন না। ব্যাংক হিসাব খোলাকেও ঝামেলা মনে করতেন। তাই বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো টাকা ঘরের চালের ড্রামেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

মোক্তার উদ্দিন বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকার বান্ডিল বানিয়ে চালের ড্রামে রাখতাম। ভোরে নদীতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতাম। আবার কোনো দিন সন্ধ্যায় নদীতে গিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতাম। এভাবে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে আয় হতো। কষ্টের এই টাকা নষ্ট হওয়ায় আমি দিশেহারা। কীভাবে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাব, এখন বুঝতেছি না।’

গ্রামের বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, মোক্তার উদ্দিন সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন মনোযোগ নেই। কয়েক মাসে একবারও উপজেলা সদরে যান না। তাঁর কোনো ব্যাংক হিসাবও নেই। তাই কষ্টের উপার্জনের টাকা ঘরেই জমিয়ে রেখেছিলেন।

আরও পড়ুন: মাগুরায় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি ও এসআইকে কারাগারে পাঠাল আদালত

স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রিয়াজ মিয়ার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে উপজেলা সদর থেকে গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম মামুনুর রশিদ বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারা মোটামুটি অস্বচ্ছল। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্ধপোড়া অবস্থায় পাওয়া ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিষয়ে ইউএনও বলেন, টাকা যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

তবে সব হারিয়েও মোক্তার উদ্দিনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি, আর কীভাবে পূরণ করবেন ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সেই স্বপ্ন? মেঘনা নদীর ওপর ভর করে বছরের পর বছর যে স্বপ্ন তিনি একটু একটু করে গড়েছিলেন, এক আগুনে সেই স্বপ্ন এখন প্রায় ছাই হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

রাজশাহীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হচ্ছে। এই দিবসটি উপলক্ষে নগরীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ধর্মীয় মিছিল বের করতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল জশনে জুলুশ বের করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জশনে জুলুশ চলাকালে কোরআন তিলাওয়াত, সূরা পাঠ, হামদ ও নাত পরিবেশন করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠের পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ নানা যানবাহনে করে জশনে জুলুশে যোগদান করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি-অগ্রগতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জশনে জুলুশটি হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (র.)-এর দরগাহর দিকে চলে যায়।

এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরীর কারাগার, এতিমখানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোরআন ও সূরা পাঠ, হামদ-নাতসহ নানা ধর্মীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নগরজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পটুয়াখালীর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কলাপাড়া পৌরশহর এবং আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তবে ধানখালী ইউনিয়নের চরনিশানবাড়িয়া গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে, ওই গ্রামে রিজিয়া বেগম (৮৫) নামের এক বৃদ্ধা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেখানে আরও অন্তত ৩৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের দেয়াল ঘেঁষে চরনিশানবাড়িয়া মধুপাড়া গ্রামে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করার ফলে ব্লকের ফাঁকে ফাঁকে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামটির মিরা বাড়িতে ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ভুইয়া বাড়িতে ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রিজিয়া বেগম অন্তত ২০ দিন আগে মারা গেছেন। মাঝি বাড়িতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মিরাবাড়িতে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল হক মিরা (৬৫), সুরমা বেগম (২৭), জোসনা বেগম (২৮), নুসাইরা (৭), রস্মি (৬), রুকান (৮) এবং তাওসিফ (৩)। তাওসিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া, আরও ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নাজমিন (২২), তামিম (২০), মরিয়ম (৬), ফাতেমা (৮) এবং দেড় বছরের শিশু আলিয়া অন্তর্ভুক্ত।

চর নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। ওই মাসের ২৬-২৭ তারিখে অনেককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কিছু রোগী বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও অনেকে বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দা অলিউর রহমান নিপুল জানান, তারা পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্লকের মাঝে জমে থাকা জলাবদ্ধতা অপসারণের জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গ্রামে ডেঙ্গুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা জানান, তার সন্তান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্রামের প্রত্যেক ঘরে দুই-একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। বর্তমানে কিছুটা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। তবে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে প্লান্টের বাউন্ডারির বাইরের অধিকাংশ এলাকায় মশক নিধন স্প্রে করা হয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দাদের সমস্যা জানালে নিয়ম মাফিক সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলেও প্লান্টের দায়িত্বশীল সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পানি জমে যেন এডিস মশার বিস্তার না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘরের আশেপাশে এবং ড্রেন পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরশহরে মশক নিধন স্প্রে করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ১৫ আগস্টের ব্যানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ১৫ আগস্টের ব্যানার

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়-এর নাম সংবলিত একটি ব্যানার ঝুলতে। ব্যানারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীর ছবি রয়েছে এবং সেখানে লেখা রয়েছে ‘শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন’।

বুধবার ২৬ আগস্ট সকালে, দিনের আলোতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এই ব্যানারটি ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এভাবে ব্যানারটি প্রকাশ্যে কিভাবে টানানো হলো, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ব্যানারটি দৃশ্যমান ছিল। তবে এটি কে বা কারা টানিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক আল আমিন বলেছেন, "নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তারা রাতের আঁধারে এসব নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছি। প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুত শনাক্ত করা হবে।"

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের একটি তথ্য ও ভিডিও দেখতে পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, "তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।"

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলাউল হাসান বলেন, "এ ধরনের তথ্য আমার কাছে জানা নেই। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কেউ দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।" তিনি আরও জানান, ঘটনা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে এমন ব্যানার টানানোর ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ব্যানারটি কারা, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে টানিয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বৃষ্টিতেই উঠে গেল স্টেডিয়ামের রাস্তার কার্পেটিং

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

নতুন রাস্তার কার্পেটিং সামান্য বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে, কার্পেটিংয়ের নিচে খোয়া বা পাথরের স্তর নেই; অভিযোগ উঠেছে যে, মাটির ওপর ডুমার বালুর সাথে বিটুমিন মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গ্যালারির রং নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। এসব কারণে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়ায় অবস্থিত স্টেডিয়ামটির রং, নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরোনো রাস্তা সংস্কারে মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তত্ত্বাবধানে এসব কাজ চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশপথের রাস্তা সংস্কারের পরপরই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও বিসিবির কাউন্সিলর মোজাদ্দেদ জামানী রাস্তার কার্পেটিং আঁচড়ে দেখান যে, কার্পেটিং এর নিচে খোয়া বা পাথরের অস্তিত্ব নেই। তিনি দাবি করেন, মাটির ওপর ডুমার বালুর সাথে বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে।

মোজাদ্দেদ জামানী বলেন, "এনএসসি’র প্রকৌশলীদের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।" তিনি জানান, নিম্নমানের কাজের বিষয়টি জানালে তাঁদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে না জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, "দিনের কাজ রাতে করা হলে মান নিশ্চিত করা কঠিন।" তিনি ডুমার বালু দিয়ে কার্পেটিং করার অভিযোগের তদন্তের দাবি করেন।

স্টেডিয়ামের ভেন্যু ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ খান জেম জানান, কাজের মান নিয়ে আপত্তির বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে জানানো হয়েছিল। কাজের ছবি পাঠানো হয়েছে। তবে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্টেডিয়ামের ভেতরে নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং সামনের পুরোনো রাস্তা সংস্কারের কাজ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় পেয়েছে সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ। রং করা ও গ্যালারিতে শৌচাগার নির্মাণের কাজ পেয়েছে দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রেজাউল কবির জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার আগে রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি হলে কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে যায়। তবে ডুমার বালু ব্যবহার করে কার্পেটিং করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে স্টেডিয়ামের গ্যালারির রংয়ের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও রং করা হয়েছে, কোথাও রং করা হয়নি। আবার কিছু স্থানের রং ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীর রং করতে আসা শ্রমিকদের কাছে শিডিউলে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে অন্য কোম্পানির রং পাওয়ার পর তাঁদের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রংমিস্ত্রি ফিরোজ ইসলাম জানান, শিডিউলে বার্জার রং ব্যবহারের কথা থাকলেও তাঁদের অন্য কোম্পানির রং সরবরাহ করা হয়েছিল। তাই তাঁরা সেটিই ব্যবহার করছিলেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান নিম্নমানের কাজের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "ঠিকাদারদের এখনো বিল দেওয়া হয়নি।" কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ ঠিক হয়ে যাবে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন বলেন, "নিম্নমানের কাজের অংশগুলো ঠিক করে প্রতিবেদন দিতে প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থাপনার সংস্কারে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে কারিগরি মান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং কাজের পরিমাণ যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%