ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম


নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য সভাপতি হিসেবে আলহাজ হারিসুল বারী রনি এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা রফিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘোষণা বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুরা অধিবেশনে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শাখার ৮৪ জন শুরা সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ডা. আব্দুর রব মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা আব্দুস সালাম।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

শুরা অধিবেশনে শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত শুরা সদস্যদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অধিবেশন শেষে প্রধান অতিথি ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে জননেতা আলহাজ হারিসুল বারী রনি এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা রফিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও পাঁচগাছী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার, সেক্রেটারি মুফতি মোজাম্মেল হক আইমানী, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলহাজ হাফেজ আব্দুল মমিন জেহাদী এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি কে এম এম আবুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ গ্রামের মানুষের সমর্থন পেলেন একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ গ্রামের মানুষের সমর্থন পেলেন একজন

 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ একত্রিত হন। তারা সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে, বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।

এছাড়া, সভায় বক্তব্য রাখেন নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। তারা অঙ্গীকার করেছেন যে, আর কোনো মারামারি করা হবে না এবং হত্যাকান্ডে জড়ানো হবে না।

এই ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের ফলে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে, এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি হবে না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয়ে আসছিল। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মারামারির ঘটনা বেশি ঘটতো। তবে, এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন গ্রামবাসী। এদিকে, গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের একত্রিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব

মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে জেলের সঞ্চিত ২২ লাখ টাকা।

ভোরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য বের হন জেলে মোক্তার উদ্দিন (৫০)। কখনো সারারাত কাটান, কখনো দিনভর।

 

মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা উপার্জন করে আসছিলেন তিনি। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পাঁচ-ছয় বছর ধরে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের আগুনে তাঁর প্রায় ২২ লাখ টাকার সঞ্চয় পুড়ে গেছে।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে মোক্তার উদ্দিনের বসতঘরে আগুন লাগে। স্থানীয়দের মতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরগুলোতে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে মোক্তার উদ্দিনের ঘরের চালের ড্রামে লুকিয়ে রাখা জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে যায়।

 

আগুনে তাঁর পাঁচটি বসতঘরও পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে পুড়ে যাওয়া চালের ড্রাম থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্ধপোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি টাকা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।

মোক্তার উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

 

নদীই তাঁর কর্মস্থল, নদী থেকেই সংসারের আয়। প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে যে টাকা পেতেন, সেখান থেকে সংসারের খরচ বাদ দিয়ে সামান্য করে জমাতেন। আট বছর আগে বড় ছেলে খাইরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। এবার ছোট ছেলে সাইফুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।

সেই স্বপ্নের জন্যই এতদিনের সঞ্চয়। চলতি মাসে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে পাশের গ্রামের একটি এনজিও থেকে কিস্তিতে আরো চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বড় ছেলে খাইরুলও প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বাড়িতে পাঠাতেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমেছিল তাঁর কাছে।

কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখার অভ্যাস ছিল না মোক্তারের। সহজ-সরল এই জেলে উপজেলা সদরে খুব একটা যেতেন না। ব্যাংক হিসাব খোলাকেও ঝামেলা মনে করতেন। তাই বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো টাকা ঘরের চালের ড্রামেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

মোক্তার উদ্দিন বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকার বান্ডিল বানিয়ে চালের ড্রামে রাখতাম। ভোরে নদীতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতাম। আবার কোনো দিন সন্ধ্যায় নদীতে গিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতাম। এভাবে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে আয় হতো। কষ্টের এই টাকা নষ্ট হওয়ায় আমি দিশেহারা। কীভাবে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাব, এখন বুঝতেছি না।’

গ্রামের বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, মোক্তার উদ্দিন সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন মনোযোগ নেই। কয়েক মাসে একবারও উপজেলা সদরে যান না। তাঁর কোনো ব্যাংক হিসাবও নেই। তাই কষ্টের উপার্জনের টাকা ঘরেই জমিয়ে রেখেছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রিয়াজ মিয়ার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে উপজেলা সদর থেকে গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম মামুনুর রশিদ বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারা মোটামুটি অস্বচ্ছল। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্ধপোড়া অবস্থায় পাওয়া ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিষয়ে ইউএনও বলেন, টাকা যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

তবে সব হারিয়েও মোক্তার উদ্দিনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি, আর কীভাবে পূরণ করবেন ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সেই স্বপ্ন? মেঘনা নদীর ওপর ভর করে বছরের পর বছর যে স্বপ্ন তিনি একটু একটু করে গড়েছিলেন, এক আগুনে সেই স্বপ্ন এখন প্রায় ছাই হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

রাজশাহীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হচ্ছে। এই দিবসটি উপলক্ষে নগরীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ধর্মীয় মিছিল বের করতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল জশনে জুলুশ বের করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জশনে জুলুশ চলাকালে কোরআন তিলাওয়াত, সূরা পাঠ, হামদ ও নাত পরিবেশন করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠের পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ নানা যানবাহনে করে জশনে জুলুশে যোগদান করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি-অগ্রগতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর জশনে জুলুশটি হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (র.)-এর দরগাহর দিকে চলে যায়।

এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরীর কারাগার, এতিমখানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোরআন ও সূরা পাঠ, হামদ-নাতসহ নানা ধর্মীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নগরজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পটুয়াখালীর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কলাপাড়া পৌরশহর এবং আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তবে ধানখালী ইউনিয়নের চরনিশানবাড়িয়া গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে, ওই গ্রামে রিজিয়া বেগম (৮৫) নামের এক বৃদ্ধা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেখানে আরও অন্তত ৩৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের দেয়াল ঘেঁষে চরনিশানবাড়িয়া মধুপাড়া গ্রামে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করার ফলে ব্লকের ফাঁকে ফাঁকে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামটির মিরা বাড়িতে ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ভুইয়া বাড়িতে ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রিজিয়া বেগম অন্তত ২০ দিন আগে মারা গেছেন। মাঝি বাড়িতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মিরাবাড়িতে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল হক মিরা (৬৫), সুরমা বেগম (২৭), জোসনা বেগম (২৮), নুসাইরা (৭), রস্মি (৬), রুকান (৮) এবং তাওসিফ (৩)। তাওসিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া, আরও ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নাজমিন (২২), তামিম (২০), মরিয়ম (৬), ফাতেমা (৮) এবং দেড় বছরের শিশু আলিয়া অন্তর্ভুক্ত।

চর নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। ওই মাসের ২৬-২৭ তারিখে অনেককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কিছু রোগী বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও অনেকে বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দা অলিউর রহমান নিপুল জানান, তারা পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্লকের মাঝে জমে থাকা জলাবদ্ধতা অপসারণের জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গ্রামে ডেঙ্গুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা জানান, তার সন্তান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্রামের প্রত্যেক ঘরে দুই-একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। বর্তমানে কিছুটা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। তবে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে প্লান্টের বাউন্ডারির বাইরের অধিকাংশ এলাকায় মশক নিধন স্প্রে করা হয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দাদের সমস্যা জানালে নিয়ম মাফিক সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলেও প্লান্টের দায়িত্বশীল সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পানি জমে যেন এডিস মশার বিস্তার না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘরের আশেপাশে এবং ড্রেন পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরশহরে মশক নিধন স্প্রে করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%