বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২৪ পি.এম
মাঝরাতে আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়তে শুরু করল একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। চোখের পলকে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে বহুতল ভবন। চারদিকে শুধুই আগুন, ধোঁয়া আর মানুষের আর্তনাদ। ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারাল অন্তত ২১ জন, আর আহত হয়েছেন দুই শিশুসহ ৮৫ জন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঘটে গেল রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলা। শহরের মেয়র এটিকে রাজধানীর ওপর হওয়া ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
টানা ১১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন প্রেরণ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শহরের ৩৩টি স্থানে সরাসরি আঘাত করেছে। হামলার ফলে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। সড়কে থাকা গাড়িগুলোও দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে, চারপাশ বারুদের ধূসর ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বাঁচানোর জন্য স্বজনদের কান্নার মাঝে উদ্ধারকর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রেড ক্রসের একটি বড় গুদাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে থাকা প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ রক্ষার জন্য ওই রাতে প্রায় ৫২ হাজার মানুষ মাটির নিচে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে আহত একজন, cuyo nombre es ওলেক্সি, বলেছেন, তিনি সিগারেট খেতে বাইরে বের হলে বোমার আক্রমণে উড়ে আসা কাচে আহত হন। অন্যদিকে, একটি নারী, cuyo nombre es সভিতলানা, জানিয়েছেন, এর আগের রুশ হামলায় তিনি তার মা এবং ছেলেকে হারিয়েছেন, তাই বোমার শব্দে নতুন করে তিনি ভয় পাননি।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে রাশিয়া একই সঙ্গে নানা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেই এই চতুর হামলা চালিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তারা কিয়েভের ওপর এমন চাপ লাগাতার অব্যাহত রাখবেন। তবে ইউক্রেন এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে। এই মহাধ্বংসযজ্ঞের পর আকাশ সুরক্ষিত রাখতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ২৬ মামলার আসামি মাদক কারবারি মনির শেখ (৪৭) রয়েছেন। এছাড়া অন্য গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ (৩০), মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা ওরফে হাফিজুল (৩৭) এবং তৌহিদুল ইসলাম শেখ তামিম (২০)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে ফকিরহাট থানার বারাশিয়া এলাকায় মনির শেখের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তার মনির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিনামূল্যে জিআর চাল ও সার-বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের সময়ে উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিতরণের উদ্বোধনটি করা হয়। এ ছাড়া একই দিনে বিকেলে উপজেলার আমগ্রাম সড়কে প্রায় আড়াই হাজার সুপারি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি আবাদপুকুর বাজারে ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম রেজাউল ইসলাম রেজু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তকিমা খাতুন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাফরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রফি ফায়সাল তালুকদার, এবং রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া মন্ডল। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক নয়ন খাঁন লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন, সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া অসহায় দু:স্থ ১হাজার মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া এদিন বিকেল তাঁরা উপজেলার কালীগ্রাম ইউনয়ন এলাকার আমগ্রাম সড়কে আড়াই হাজার সুপারি গাছের চারা রোপণের কাজ এবং আবাদপুকুর বাজারে কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনও করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, উপকূলীয় জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ডেল্টা অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স অত্যন্ত জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ) এবং ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ : ব্লু কার্বন অর্থায়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ব্লু কার্বন ইকোসিস্টেমকে জলবায়ু সম্পদ, কমিউনিটি সম্পদ এবং উন্নয়ন সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া, জলবায়ু অভিবাসন বিশ্লেষণের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এরকম বাস্তবতায় বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জলাভূমি শুধুমাত্র পরিবেশগত সম্পদ নয়, বরং তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় জলবায়ু অবকাঠামো।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু এবং বাস্তুতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়াসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তাই ব্লু কার্বন ম্যাপিং, কার্বন পরিমাপের অভিন্ন পদ্ধতি এবং আঞ্চলিক কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে এসকাপ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেশনে পাকিস্তানের পরিবেশমন্ত্রী শেজরা মানসাব আলী খান খারাল, মালদ্বীপের পরিবেশমন্ত্রী আলী শরীফ, এসকাপের নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া একটি বিলের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)।
সংস্থাটি এটাকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তথা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে অভিহিত করেছে।
বিলটিতে ইসরাইলের মসজিদগুলোতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ওআইসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিল ‘অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য একটি পদক্ষেপ’ এবং এটি ‘বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী প্রকৃতির একটি আইনগত অপরাধ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, এটি একটি উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতা, ইবাদতের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে নিশ্চিত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
১২০ সদস্যের নেসেটে এই বিলটি ৫০-৩৬ ভোটে পাস হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মসজিদে শব্দবর্ধক যন্ত্র স্থাপন বা ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে না। তবে, বিলটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। কার্যকর আইন হতে হলে এটি আরও তিনটি পর্যালোচনা (রিডিং) পাস করতে হবে।
ওআইসি আরও বলেছে, এই বিল ফিলিস্তিনি উপস্থিতি সীমিত করার এবং আরব ও ইসলামি পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া ইসরাইলের ধারাবাহিক বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত, আইন ও পদক্ষেপের একটি বিপজ্জনক সম্প্রসারণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ