বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরে নাশকতার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাস্তার পাশে ২০টি ককটেল, ৪১টি মশাল লাঠি ও ২ লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার করা ককটেলগুলো পরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর-১ এর পাইকপাড়া আনছার ক্যাম্প এলাকার তানিম ভবনের সামনে ককটেল ও মশাল পড়ে থাকার তথ্য পান রাত্রীকালীন ডিউটিতে থাকা এসআই মো. ইমরান হোসেন। খবর পেয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ডিএমপির স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটকে (এসআরইউ) অবহিত করে।
পরবর্তীতে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনটি কাগজের ব্যাগ ও রাস্তা থেকে মোট ২০টি ককটেল, দুই লিটার কেরোসিন তেল, ৪১টি মশাল লাঠি ও ককশিট উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে কল্যাণপুর হাক্কানী গলি সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের খোলা মাঠে গর্ত খুঁড়ে দুই দফায় ককটেলগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরতে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস প্রদান করা হবে না, এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে (শেখ হাসিনা) দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর গণমাধ্যমের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। তিনি আরও জানান, যদিও ঢাকার এই আঞ্চলিক করিডরে যুক্ত হতে আগ্রহ রয়েছে, তবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন আগে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ব্যস্ততম উখিয়ার আরাকান সড়ক বর্তমানে অবৈধ পার্কিং এবং ঝুপড়ি দোকানের দখলে চলে গেছে। কুতুপালং এলাকার সড়কের দুই পাশে অবৈধ বাজার, স্থাপনা ও পার্কিং গড়ে উঠেছে। এর ফলে এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ঘণ্টারও বেশি সময়। তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শত শত যানবাহনের চালক, ভিআইপিদের বহনকারী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বাজার ও পার্কিং থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
কুতুপালং বাজারের অনিয়ম প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে বাজার ইজারা নেওয়া এবং ইজারার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার পেছনে অভিযোগ রয়েছে হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে সর্বশেষ সরাসরি ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বাজারটি ইজারা নিয়েছেন বোরহান উদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে অবৈধ বাজার বসানো হয়েছে এবং পার্ক করে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। অন্যদিকে, সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। ফলে বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
শুধু কুতুপালং নয়, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের চিত্রও প্রায় একই রকম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট সড়ক দখল করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের বিপরীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল ও অবৈধ বাজারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তাঁরা এ দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।
কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, "বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান—সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক।"
সড়কের ওপর অবৈধভাবে জাম্বুরা বিক্রি করা সৈয়দুর রহমান বলেন, "বাজারে জায়গা দিতে না পেরে আমাকে এখানে বসানো হয়েছে। আমি ২৫০ টাকা হাসিল (টোল) দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।"
কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের দেরি হয়ে যায়। বাড়ি থেকে পৌঁছাতে যেখানে পাঁচ মিনিট লাগার কথা, সেখানে কোটবাজারের যানজটের কারণে হাতে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হতে হয়। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা আর না-থাকা সমান।
কুতুপালং বাজার এলাকার জাবেদ নামের এক চাকরিজীবী বলেন, "সকালে অফিসে যাওয়ার সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কারণ, কুতুপালং বাজারের যানজটে অফিসে পৌঁছাতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।"
কোটবাজারে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, "আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই দোকান করি। আমরা কেন শৌখিনভাবে সড়ক দখল করব? টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন। টাকা দিয়েই আমরা নিরাপদে ব্যবসা করছি।"
গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান জানান, "এই পার্কিংয়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। কারা এই টাকা নেয়, তা আমরা জানি না। আমরা শুধু ওপরের নির্দেশ পালন করি। টাকা না দিলে এখানে পার্কিং করতে দেওয়া হয় না। আমাদের পার্কিং বন্ধ করতে হলে আগে নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।"
কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, "আমরা চাই, অবৈধ দোকানগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করা হোক। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন সকাল-বিকেল যানজট থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে বাজার ইজারাদারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যথায় যানজট লেগেই থাকবে।"
শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক জানান, "কুতুপালং বাজারে যানজট নিরসনে বাজার সমিতি, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোটবাজারের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সমন্বয় ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, "এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়ক দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে কাজ চলছে। যারা কুতুপালং সড়ক দখল করে বাজার বসিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী, ইজারা দেওয়ার শুরুতেই বাজারের মূল্যতালিকা প্রকাশ ও টাঙাতে হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা করা হয়নি। আমি যোগদানের পরপরই বাজারের মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেয়ে এলে শিগগিরই তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সকল উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (https://xiclassadmission.gov.bd) থেকে কলেজের নিজস্ব লগইন প্যানেলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে হবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা আবশ্যক।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৬ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পাঠানোর সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতার দায় শিক্ষা বোর্ড নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেতন সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নজরদারি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশনার অধীনে, যদি কোনো কর্মীর বেতন লেনদেনে সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা দেয়, তবে তার পূর্ববর্তী ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থা আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি খাতে মাসে ৩০০ কুয়েতি দিনার বা তার কম বেতন পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এসব কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে ২৫ দিনার বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা পরিশোধের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধ হলেও তারা প্রকৃতপক্ষে সেই অর্থ পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ওপর সেই অর্থ ফেরত দেয়ার চাপ প্রয়োগ করছেন কিনা, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেতন জমা দেয়ার সময় আলাদাভাবে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত সীমার সমান বা বেশি প্রতিটি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর ও পেমেন্টের ক্ষেত্রে কর্মীর পরিচয় এবং সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকিং অ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে লগইনের সময় পরিচয় যাচাই করলেই চলবে না। প্রতিটি লেনদেন অনুমোদনের আগে কর্মীকে লেনদেনের ধরন, অর্থের পরিমাণ এবং প্রাপকের তথ্য দেখাতে হবে।
যেসব কর্মীর স্মার্টফোন নেই অথবা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ নেই, তাদের জন্যও নিরাপদ বিকল্প যাচাইব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া কর্মীদের যোগাযোগের তথ্য সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে কিছু বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। কোনো কর্মীর বেতন জমা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৮০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন কিংবা স্থানান্তরের ঘটনা আগের তিনটি বেতন পরিশোধ চক্রের মধ্যে অন্তত দুবার ঘটলে তা সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া, বেতন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ নিয়োগকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মীর একই ধরনের লেনদেন এবং একই এটিএম থেকে বারবার দলবদ্ধভাবে বেতন উত্তোলনের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হবে।
কর্মীর ব্যাংক কার্ড বা পিন নম্বর নিয়োগকর্তার কাছে থাকা, যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মীর কাছ থেকে বেতনের টাকা ফেরত নেয়া কিংবা জোর করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। তবে এসব বিষয়কে সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হবে; এগুলোর কোনোটি একাই অনিয়মের প্রমাণ নয়।
নির্দেশনায় সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দুই দিনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ করতে বলা হয়েছে। সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একই দিন জানাতে হবে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য আরও তিন দিনের পর্যবেক্ষণকাল রাখা হয়েছে। তবে জরুরি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে নজরদারি ও তদন্তের ফলাফল নিয়ে প্রতি মাসের পরবর্তী মাসের পঞ্চম কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদারকিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কর্মীর বেতন জমা দিতে দেরি করা কিংবা তার নিজের অর্থ ব্যবহারে বাধা দেয়া যাবে না, যদি না এর পেছনে আইনগত ভিত্তি থাকে। একইভাবে, কোনো কর্মী পুরো বেতন নগদে উত্তোলন করলেই সেটিকে বেতন জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
কুয়েতে বেতন পরিশোধসংক্রান্ত অনিয়ম পর্যবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব জনশক্তি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ওপরও রয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া কুয়েত ওয়েজ পেমেন্ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে নতুন নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বেসরকারি খাতের কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধের তথ্য নথিভুক্ত করা নয়; বরং তারা বাস্তবে বেতন পাচ্ছেন এবং নিজেদের উপার্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, তা নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ