ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

উখিয়ায় সড়ক দখল করে অবৈধ বাজার ও পার্কিং, স্থানীয়রা ভোগান্তিতে


উখিয়ায় সড়ক দখল করে অবৈধ বাজার ও পার্কিং, স্থানীয়রা ভোগান্তিতে

দক্ষিণ কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ব্যস্ততম উখিয়ার আরাকান সড়ক বর্তমানে অবৈধ পার্কিং এবং ঝুপড়ি দোকানের দখলে চলে গেছে। কুতুপালং এলাকার সড়কের দুই পাশে অবৈধ বাজার, স্থাপনা ও পার্কিং গড়ে উঠেছে। এর ফলে এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ঘণ্টারও বেশি সময়। তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শত শত যানবাহনের চালক, ভিআইপিদের বহনকারী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বাজার ও পার্কিং থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

কুতুপালং বাজারের অনিয়ম প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে বাজার ইজারা নেওয়া এবং ইজারার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার পেছনে অভিযোগ রয়েছে হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে সর্বশেষ সরাসরি ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বাজারটি ইজারা নিয়েছেন বোরহান উদ্দিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে অবৈধ বাজার বসানো হয়েছে এবং পার্ক করে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। অন্যদিকে, সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। ফলে বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মদনে বাছুরকে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

শুধু কুতুপালং নয়, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের চিত্রও প্রায় একই রকম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট সড়ক দখল করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের বিপরীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল ও অবৈধ বাজারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তাঁরা এ দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।

কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, "বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান—সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক।"

আরও পড়ুন: নড়াইল জেলা জাপার নবগঠিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিবাদ সভা

সড়কের ওপর অবৈধভাবে জাম্বুরা বিক্রি করা সৈয়দুর রহমান বলেন, "বাজারে জায়গা দিতে না পেরে আমাকে এখানে বসানো হয়েছে। আমি ২৫০ টাকা হাসিল (টোল) দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।"

কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের দেরি হয়ে যায়। বাড়ি থেকে পৌঁছাতে যেখানে পাঁচ মিনিট লাগার কথা, সেখানে কোটবাজারের যানজটের কারণে হাতে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হতে হয়। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা আর না-থাকা সমান।

কুতুপালং বাজার এলাকার জাবেদ নামের এক চাকরিজীবী বলেন, "সকালে অফিসে যাওয়ার সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কারণ, কুতুপালং বাজারের যানজটে অফিসে পৌঁছাতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।"

কোটবাজারে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, "আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই দোকান করি। আমরা কেন শৌখিনভাবে সড়ক দখল করব? টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন। টাকা দিয়েই আমরা নিরাপদে ব্যবসা করছি।"

আরও পড়ুন: নাগেশ্বরীতে ১,১৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার

গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান জানান, "এই পার্কিংয়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। কারা এই টাকা নেয়, তা আমরা জানি না। আমরা শুধু ওপরের নির্দেশ পালন করি। টাকা না দিলে এখানে পার্কিং করতে দেওয়া হয় না। আমাদের পার্কিং বন্ধ করতে হলে আগে নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।"

কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, "আমরা চাই, অবৈধ দোকানগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করা হোক। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন সকাল-বিকেল যানজট থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে বাজার ইজারাদারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যথায় যানজট লেগেই থাকবে।"

শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক জানান, "কুতুপালং বাজারে যানজট নিরসনে বাজার সমিতি, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোটবাজারের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সমন্বয় ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, "এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়ক দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে কাজ চলছে। যারা কুতুপালং সড়ক দখল করে বাজার বসিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

তিনি আরও বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী, ইজারা দেওয়ার শুরুতেই বাজারের মূল্যতালিকা প্রকাশ ও টাঙাতে হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা করা হয়নি। আমি যোগদানের পরপরই বাজারের মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেয়ে এলে শিগগিরই তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ১২ নভেম্বর শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ১২ নভেম্বর শুরু

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সকল উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (https://xiclassadmission.gov.bd) থেকে কলেজের নিজস্ব লগইন প্যানেলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে হবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা আবশ্যক।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৬ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পাঠানোর সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতার দায় শিক্ষা বোর্ড নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে সন্দেহজনক বেতন লেনদেনে ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


কুয়েতে সন্দেহজনক বেতন লেনদেনে ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা

কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেতন সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নজরদারি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশনার অধীনে, যদি কোনো কর্মীর বেতন লেনদেনে সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা দেয়, তবে তার পূর্ববর্তী ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থা আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি খাতে মাসে ৩০০ কুয়েতি দিনার বা তার কম বেতন পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এসব কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে ২৫ দিনার বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা পরিশোধের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধ হলেও তারা প্রকৃতপক্ষে সেই অর্থ পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ওপর সেই অর্থ ফেরত দেয়ার চাপ প্রয়োগ করছেন কিনা, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেতন জমা দেয়ার সময় আলাদাভাবে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত সীমার সমান বা বেশি প্রতিটি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর ও পেমেন্টের ক্ষেত্রে কর্মীর পরিচয় এবং সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকিং অ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে লগইনের সময় পরিচয় যাচাই করলেই চলবে না। প্রতিটি লেনদেন অনুমোদনের আগে কর্মীকে লেনদেনের ধরন, অর্থের পরিমাণ এবং প্রাপকের তথ্য দেখাতে হবে।

যেসব কর্মীর স্মার্টফোন নেই অথবা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ নেই, তাদের জন্যও নিরাপদ বিকল্প যাচাইব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া কর্মীদের যোগাযোগের তথ্য সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে কিছু বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। কোনো কর্মীর বেতন জমা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৮০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন কিংবা স্থানান্তরের ঘটনা আগের তিনটি বেতন পরিশোধ চক্রের মধ্যে অন্তত দুবার ঘটলে তা সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এছাড়া, বেতন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ নিয়োগকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মীর একই ধরনের লেনদেন এবং একই এটিএম থেকে বারবার দলবদ্ধভাবে বেতন উত্তোলনের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হবে।

কর্মীর ব্যাংক কার্ড বা পিন নম্বর নিয়োগকর্তার কাছে থাকা, যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মীর কাছ থেকে বেতনের টাকা ফেরত নেয়া কিংবা জোর করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। তবে এসব বিষয়কে সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হবে; এগুলোর কোনোটি একাই অনিয়মের প্রমাণ নয়।

নির্দেশনায় সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দুই দিনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ করতে বলা হয়েছে। সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একই দিন জানাতে হবে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য আরও তিন দিনের পর্যবেক্ষণকাল রাখা হয়েছে। তবে জরুরি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে নজরদারি ও তদন্তের ফলাফল নিয়ে প্রতি মাসের পরবর্তী মাসের পঞ্চম কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদারকিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কর্মীর বেতন জমা দিতে দেরি করা কিংবা তার নিজের অর্থ ব্যবহারে বাধা দেয়া যাবে না, যদি না এর পেছনে আইনগত ভিত্তি থাকে। একইভাবে, কোনো কর্মী পুরো বেতন নগদে উত্তোলন করলেই সেটিকে বেতন জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

কুয়েতে বেতন পরিশোধসংক্রান্ত অনিয়ম পর্যবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব জনশক্তি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ওপরও রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া কুয়েত ওয়েজ পেমেন্ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে নতুন নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বেসরকারি খাতের কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধের তথ্য নথিভুক্ত করা নয়; বরং তারা বাস্তবে বেতন পাচ্ছেন এবং নিজেদের উপার্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, তা নিশ্চিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


ঢাকায় শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা

ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী ১৪তম ‘আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। এই মেলা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আনুষ্ঠানিকভাবে মেলাটির উদ্বোধন করেন।

মেলার আয়োজন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স অ্যান্ড এক্সিবিশনস যৌথভাবে করেছে। এতে ১২টি দেশের ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের তৈরি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রদর্শনী করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কৃষির আধুনিকায়ন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার কৃষকদের মেধার মূল্যায়ন এবং গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪০% পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি সংকট নিরসনের বিষয়ে তিনি জানান, বিগত ২০ বছরের গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে সরকার ৫২টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাসে নতুন গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে।

আলু থেকে স্টার্চ ও রপ্তানির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের উদ্বৃত্ত আলু দিয়ে স্টার্চ পাউডার তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। এছাড়া, বগুড়া বিমানবন্দর চালু করে সেখান থেকে আলু ও সবজি সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরডিএ-র মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রমানিক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন। তারা গবেষণার উদ্ভাবনগুলো মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবারই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


পরিবারই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি

ভারতে দরিদ্রতা কমানোর ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ গ্রামীণ নারী।

এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ভর্তুকি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাড়তি অর্থ হাতে এসেছে। ভারতের দারিদ্র্য কমানোর পেছনে শুধু ব্যক্তির আয় বৃদ্ধি নয়, বরং পারিবারিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আয় এবং সরকারি সহায়তার সংমিশ্রণে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো পারিবারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অন্যদিকে, ভারতে এই পারিবারিক ব্যবস্থা এখনো অনেকটা অটুট রয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) চিন্তাধারাতেও পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অর্থনীতির ভিত্তি পরিবার

ভারতের অর্থনীতিতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশ্চাত্য অর্থনীতিবিদ গ্যারি বেকার ১৯৯২ সালে পরিবারকে একটি ছোট কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, পরিবার নিজেদের সম্পদ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে সদস্যদের প্রয়োজন মেটায়। তবে ভারতে এই ব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) তাত্ত্বিক দত্তপন্ত ঠেঙ্গাড়ির মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভারতে পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি।

ম্যাকিনসির হিসাব অনুযায়ী, ভারতের জিডিপির ৭৫ শতাংশের বেশি আসে পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসা থেকে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের মর্গান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে প্রায় ৩৪ হাজার ৬০০ টন সোনা রয়েছে, যার মূল্য দেশটির জিডিপির ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশের সমান।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সঞ্চয়ের বড় অংশই পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর সংগঠন পরিবারকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি পরিবার

ভারতে পরিবার অনেকটা সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় তুলনামূলকভাবে কম ভোগেন। অনেক দেশে এ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সহায়তার জন্য সরকারি সেবার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ভারতে পরিবার থেকেই বিনা মূল্যে এসব সহায়তা পাওয়া যায়।

পরিবার রক্ষায় ভারতের সুযোগ

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জনসংখ্যাসংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।

২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ভারতীয় দম্পতিদের তিনটি সন্তান নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। আরএসএসের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির পাঁচটি বিষয়ের একটি হলো পরিবার। এ ছাড়া ‘কুটুম্ব প্রবোধ’ নামে সংগঠনটির একটি শাখা পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

ভারতের দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবার শুধু আয় ও সম্পদ গড়ে তোলে না, বরং নির্ভরশীল সদস্যদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মসম্পদ হস্তান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে পারিবারিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা হলো, পরিবারব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আগেই তা রক্ষা করা বেশি সহজ ও কম ব্যয়বহুল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%