প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে দরিদ্রতা কমানোর ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ গ্রামীণ নারী।
এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ভর্তুকি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাড়তি অর্থ হাতে এসেছে। ভারতের দারিদ্র্য কমানোর পেছনে শুধু ব্যক্তির আয় বৃদ্ধি নয়, বরং পারিবারিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আয় এবং সরকারি সহায়তার সংমিশ্রণে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো পারিবারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অন্যদিকে, ভারতে এই পারিবারিক ব্যবস্থা এখনো অনেকটা অটুট রয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) চিন্তাধারাতেও পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থনীতির ভিত্তি পরিবার
ভারতের অর্থনীতিতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশ্চাত্য অর্থনীতিবিদ গ্যারি বেকার ১৯৯২ সালে পরিবারকে একটি ছোট কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, পরিবার নিজেদের সম্পদ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে সদস্যদের প্রয়োজন মেটায়। তবে ভারতে এই ব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) তাত্ত্বিক দত্তপন্ত ঠেঙ্গাড়ির মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভারতে পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি।
ম্যাকিনসির হিসাব অনুযায়ী, ভারতের জিডিপির ৭৫ শতাংশের বেশি আসে পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসা থেকে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের মর্গান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে প্রায় ৩৪ হাজার ৬০০ টন সোনা রয়েছে, যার মূল্য দেশটির জিডিপির ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশের সমান।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সঞ্চয়ের বড় অংশই পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর সংগঠন পরিবারকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি পরিবার
ভারতে পরিবার অনেকটা সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় তুলনামূলকভাবে কম ভোগেন। অনেক দেশে এ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সহায়তার জন্য সরকারি সেবার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ভারতে পরিবার থেকেই বিনা মূল্যে এসব সহায়তা পাওয়া যায়।
পরিবার রক্ষায় ভারতের সুযোগ
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জনসংখ্যাসংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।
২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ভারতীয় দম্পতিদের তিনটি সন্তান নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। আরএসএসের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির পাঁচটি বিষয়ের একটি হলো পরিবার। এ ছাড়া ‘কুটুম্ব প্রবোধ’ নামে সংগঠনটির একটি শাখা পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
ভারতের দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবার শুধু আয় ও সম্পদ গড়ে তোলে না, বরং নির্ভরশীল সদস্যদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মসম্পদ হস্তান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে পারিবারিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা হলো, পরিবারব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আগেই তা রক্ষা করা বেশি সহজ ও কম ব্যয়বহুল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন